রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual8 Ad Code

সম্পাদকীয়: ভূমির দলিল নিবন্ধন সেবায় সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোনো জমি কেনার পর তার দলিল নিবন্ধন করতে হয়। কিন্তু সরকারের বাধ্যতামূলক এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে গিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয় নিবন্ধনের জন্য আসা মানুষদের। বিষয়টি নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) এর আগে সরকারি ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে দুর্নীতির নানা উৎস চিহ্নিত করেছে। কিন্তু এরপরও অনিয়ম-দুর্নীতির রাশ টানা সম্ভব হয়নি। যুগান্তরের প্রতিবেদনে রোববার উঠে এসেছে, জমি রেজিস্ট্রেশনে দুই ধরনের জাল-জালিয়াতি অনেকটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। প্রথমত, খতিয়ান টেম্পারিং করে জমির উচ্চমূল্যের শ্রেণিকে (যেমন : ভিটি শ্রেণির জমিকে নাল দেখিয়ে) নিুমূল্যের শ্রেণি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

দ্বিতীয়ত, জমির মূল্য কম দেখিয়ে সাফ কবলা দলিল করে পরক্ষণেই তা আবার একই সাবরেজিস্ট্রার ১০ গুণের বেশি মূল্য ধরে ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ দলিল করে দিচ্ছেন। এতে লাভবান হচ্ছেন ক্রেতা ও সাবরেজিস্ট্রার। এক্ষেত্রে ক্রেতাকে মোটা অঙ্কের ব্যাংক ড্রাফট দিতে হচ্ছে না। এক কোটি সাশ্রয় হলে সাবরেজিস্ট্রারকে ৩০ লাখ টাকা ঘুস দিতেও দলিল গ্রহীতার কোনো ওজর-আপত্তি থাকছে না। আর এভাবেই রেজিস্ট্রিশন সেক্টরে ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে। সূত্র বলছে, ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতার সঙ্গে যোগসাজশে যুক্ত হয়ে একশ্রেণির দুর্নীতিপরায়ণ সাবরেজিস্ট্রার এ কাজ করছেন। যে কারণে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অপরদিকে এ পেশার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির উৎস নিয়ে ২০২০-২১ সালের দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে দুর্নীতি দমন কমিশন, যেখানে বিতর্কিত জমি রেজিস্ট্রেশন বন্ধে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ‘রেকর্ড অব রাইটস’ এবং তা পরীক্ষা করে রেজিস্ট্রেশনের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রির সময় নেওয়া পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট ও চেক নির্ধারিত সময়ে জমা করা, রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়াল অনুযায়ী ক্যাশ ট্রান্সফার রিপোর্ট (সিটিআর) নিয়মিতভাবে ব্যাংকের সঙ্গে মিলিয়ে সংরক্ষণ করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। দুদকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে বিপুলসংখ্যক নকলনবিশ থাকলেও প্রতিদিন যে পরিমাণ দলিল রেজিস্ট্রি হয়, তা ভলিউমে কপি করা হয় না।

Manual5 Ad Code

ফলে সার্টিফায়েড দলিলের কপি পেতে সেবাগ্রহীতারা দালালের শরণাপন্ন হন এবং দ্রুত সেবা পাওয়ার জন্য তাদের উৎকোচ দিতে বাধ্য হন। খোদ দুদকের কর্মকর্তাদের মতেই, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতি প্রতিরোধে তাদের সুপারিশগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী আমলে নেওয়া হয় না, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। অর্থ অপচয়ের দিকগুলো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে এ সংস্থার সীমাবদ্ধতা, প্রতিবন্ধকতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code