লকডাউনে বাড়ছে ঋণের বোঝা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টঃ 

Manual2 Ad Code

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে পেটের তাগিদে লকডাউন উপেক্ষা করে সড়ক ও অলি-গলিতে দেখা মিলছে রিকশাচালক ও ভ্যানচালকদের। লকডাউনের কারণে সাধারণ মানুষ বাসা থেকে কম বের হচ্ছেন। তাই যাত্রী সংকটের কারণে উপার্জন কমেছে রিকশাচালকদের। অপরদিকে, ব‌্যবসা-বাণিজ‌্য কমায় ভ্যানচালকদের রোজগারও কমেছে। ফলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন রিকশাচালক ও ভ্যানচালকরা।

Manual6 Ad Code

সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, মালিবাগ, বাসাবো, মগবাজার, মুগদা ও কমলাপুর এলাকায় রিকশা ও ভ্যানচালকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রিকশা ও ভ্যানচালকরা বলছেন, লকডাউনের মধ্যে যে উপার্জন হচ্ছে, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। লকডাউনের আগে ৪০০-৫০০ টাকা আয় হতো। এখন সারা দিনে ২০০-২৫০ টাকাও আয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ টাকা দিয়ে বাসাভাড়া ও পরিবারের সদস্যদের জন্য তিন বেলা খাবার জোটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সংসার চালাতে সুদের বিনিময়ে ঋণ নিতে হচ্ছে। লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়লে না খেয়ে থাকতে হবে।

Manual1 Ad Code

গোড়ান তিতাস রোড এলাকায় মোটরচালিত রিকশা চালান মো. মোজাম্মেল। বয়স প্রায় ৫০ বছর। স্ত্রীসহ দুই মেয়েকে নিয়ে ৮ মাস আগে ঢাকায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যেও পেটের দায়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে। তার পরও প্রতিদিন যে টাকা আয় করি তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। লকডাউনের আগে দৈনিক ৬০০-৭০০ টাকা রোজগার করতে পারতাম। লকডাউনের পর থেকে ৩০০ টাকাও রোজগার করতে পারছি না। গত শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক টাকাও রোজগার করা করতে পারিনি। এখন যে টাকা রোজগার হচ্ছে তা দিয়ে বাসা ভাড়া দেওয়ার পর তিন বেলা খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব কারণে লকডাউনের মধ্যে ২ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে।’

মগবাজার এলাকায় রিকশা চালান হালিম মিয়া। দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে থাকেন মধুবাগ এলাকায়। তিনি বলেন, ‘লকডাউনে রাস্তায় মানুষ খুব বেশি বের হচ্ছে না। তাই আয়-রোজগার কম। আজকে খালি গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কারণে গাড়ি উল্টে রেখেছে পুলিশ। কখনো কখনো জরিমানা দিয়ে খালি হাতে বাসায় ফিরতে হচ্ছে। তাই, সংসার চলাতে যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন, তা রোজগার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি।’

Manual5 Ad Code

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code