

সম্পাদকীয় সেবামূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসার চার প্রকল্পে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিকভাবে দুদকের হাতে যেসব তথ্য এসেছে, তাতে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি বিবেচনা না করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কারণে বিদেশি ঋণনির্ভর এসব প্রকল্প থেকে ঋণ পরিশোধের সমপরিমাণ অর্থ আয় হচ্ছে না। এ অবস্থায় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের বিল বাড়িয়ে দায় চাপানো হচ্ছে নগরবাসীর ঘাড়ে, যা মোটেই কাম্য নয়। প্রকল্পের টাকা লুটপাট ছাড়াও ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের তথ্য পেয়েছে দুদক। জানা গেছে, অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে সমবায় সমিতির সদস্য নন এমন লোকদের নিয়ে ২০১৯ সালের ৩০ মে একটি কমিটি গঠন করার পর এর মাধ্যমে সমিতির ঠিকাদারি বিল বাবদ ৪১ কোটি ৭০ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া সমিতির মালিকানাধীন ৬২ হাজার ৪৮১ পিস পানির মিটার অনুমোদন ছাড়া অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য অন্তত ৩৫ কোটি টাকা। এসবের বাইরে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির অর্গানোগ্রামের বাইরে গিয়ে পরিচালক পদে দুজনসহ পাঁচ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং তিন কর্মকর্তার নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
nagad-300-250
ইতঃপূর্বে ২০১৯ সালেও ওয়াসার বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছিল দুদক। সেসময় দুদকের প্রতিবেদনে ওয়াসার বিভিন্ন প্রকল্পসহ অন্তত ১১ খাতে দুর্নীতি চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই শতকোটি টাকার বিল তুলে নেওয়া, অযৌক্তিক কারণে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি ইত্যাদি। তখন ওয়াসার দুর্নীতি রোধে ১২ দফা সুপারিশ প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিতও করেছিল দুদক। তবে এটা যে ‘অরণ্যে রোদন’ হয়েছে, তার বড় প্রমাণ প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক দুর্নীতি। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় লাগামহীন দুর্নীতি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার খর্ব করছে এবং এতে প্রান্তিক ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী ক্ষতির শিকার হচ্ছে। মূলত দুর্নীতি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মানুষের মৌলিক অধিকার অর্জনে বড় বাধা। এসব মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকারের আন্তরিক ভূমিকা কাম্য হলেও এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান শক্ত কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না।