শরিকদের চাপে থেকেই তৃতীয় দফায় দিল্লির মসনদে বসছেন মোদি

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: শপথ অনুষ্ঠান ৯ জুন সন্ধ্যায় : উত্তর প্রদেশে খারাপ ফলাফলে বিজেপির অন্তর্দ্ব›দ্ব প্রকাশ্যে
শরিকনির্ভর বিজেপির ওপর চাপ বৃদ্ধি করল জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)। গতকাল নীতীশ কুমারের দলের তরফে জানানো হয়েছে, অগ্নিপথ প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করে দেখুক কেন্দ্রীয় সরকার। বিজেপির ইশতেহারে উল্লিখিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়েও জেডিইউর খানিক বেসুরো স্বর শোনা গেছে। তাছাড়া জাতগণনা নিয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা আরো একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে এনডিএ-র এই শরিক দল। সব মিলিয়ে শপথগ্রহণের আগে শরিকদের তরফে বিজেপির ওপর চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকল বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিন দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। সেখানে তিনিও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তাদের প্রথম কাজ হবে অগ্নিবীর প্রকল্প বন্ধ করতে সরকারকে বাধ্য করা। তার মতে, এতে সেনাবাহিনীর বিন্দুমাত্র মঙ্গল হচ্ছে না; বরং ক্ষতি হচ্ছে। জওয়ানদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। জেডিইউ নেতা কেসি ত্যাগী গতকাল সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, ‘ভোটদাতাদের একাংশ অগ্নিপথ প্রকল্প নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। আমাদের দল চায়, জনগণের তোলা প্রশ্নগুলো নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হোক এবং এটি প্রত্যাহার করা হোক’। প্রসঙ্গত, মোদি সরকার ২০২২ সালে ‘অগ্নিবীর’ প্রকল্প চালু করেছিল। ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সি যুবকদের সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ দিতে অগ্নিপথ প্রকল্প আনে। বলা হয়, সেনায় চাকরি পাওয়া যুবকদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশকে ১৫ বছরের জন্য বাহিনীতে নিয়োগ করা হবে। কিন্তু সেনায় এ অস্থায়ী চাকরির বন্দোবস্ত নিয়ে যুব স¤প্রদায়ের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ চরমে ওঠে। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিপর্যয়ের নেপথ্যে এ অগ্নিপথ-ক্ষোভকে দায়ী করেছেন অনেকে। বিরোধী দলগুলো আগেই এ প্রকল্প বন্ধ করার দাবি তুলেছিল। এবার বিজেপির শরিক দলও একই দাবি তোলায় অস্বস্তিতে পদ্মশিবির। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে জেডিইউ-র বক্তব্য, তারা এই ব্যবস্থার বিরোধী নয়। কিন্তু আইন প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলার পক্ষপাতী তারা। জাতগণনা নিয়ে ফের সরব হয়ে জেডিইউ নেতা ত্যাগী বলেন, কোনো দল বলতে পারবে না যে, তারা জাতগণনা চায় না। বিহার পথ দেখিয়েছিল। সর্বদল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী (মোদি)-ও এর বিরোধিতা করেননি। তাই জাতগণনা সময়ের দাবি’। বিহারের বিশেষ মর্যাদার দাবিতেও সরব হয়েছে জেডিইউ। কেবল এক দেশ এক ভোট নিয়ে বিজেপির অবস্থান এবং নীতীশের দলের অবস্থান হুবহু মিলে গিয়েছে। নীতীশের দল এ বার বিহারের ১২টি আসনে জয়ী হয়েছে। আসনসংখ্যার বিচারে এনডিএ-তে বিজেপি, তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি)-র পরেই তৃতীয় বৃহত্তম দল জেডিইউ। গত দু’বারের মতো এ বার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। তাই সরকার চালাতে নীতীশ এবং চন্দ্রবাবু নায়ডুর টিডিপির উপরে অনেকটা নির্ভর করে চলতে হবে পদ্মশিবিরকে। এ পরিস্থিতিতে বিজেপির একাধিক রাজনৈতিক প্রকল্প নিয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়ে নীতীশের দল আদতে মোদি-শাহদের উপরে চাপ বৃদ্ধি করল বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী রোববার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে। সূত্রের বরাতে গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রকে উদ্ধৃত শপথ অনুষ্ঠান শনিবার অনুষ্ঠিত হবে বলে, কিন্তু এখন এটি রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, মোদি আজ শুক্রবার দুপুরে প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় তিনি সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। বুধবার মোদিকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের প্রধান নির্বাচন করা হয়েছে। এর ফলে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ নেওয়ার পথ সুগম হয়েছে। জওহরলাল নেহেরুর পরে মাত্র দ্বিতীয় ভারতীয় নেতা হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকজন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রানিল বিক্রমাসিংহে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল প্রচÐ, ভুটানের প্রেসিডেন্ট শেরিং তোবগে এবং মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রভিন্দ জুগনাথকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। জোটগতভাবে এনডিএ এবার ২৯৩ আসনে জয়ী হয়েছে। এটা ঠিক, ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বাছার সময় মোদি-শাহ জুটির প্রথম পছন্দ ছিলেন না যোগী আদিত্যনাথ। তারা চেয়েছিলেন ওই রাজ্যের গাজীপুর থেকে নির্বাচিত মনোজ সিনহাকে দায়িত্ব দিতে, তখন যিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মনোজকে সে কথা জানিয়েও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাদ সেধেছিল আরএসএস। সংঘের পছন্দই শেষ পর্যন্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। মনোজকে পরে জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল করা হয়। সেই অর্থে যোগী আদিত্যনাথ কোনো দিন মোদি-শাহর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অংশ হননি। বরং দল ও রাজ্যের সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি বারবার স্বকীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। ফলে দিল্লির সঙ্গে তার একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল শুরু থেকেই। এবার ভোটের ফল প্রকাশের পর যা আর চাপা নেই। খারাপ ফলের জন্য দুই শিবিরের ঘনিষ্ঠজনেরা প্রকাশ্যেই একে অপরকে দোষ দিয়ে চলেছেন। অবস্থার সামাল দিতে প্রদেশ সভাপতি ভ‚পেন্দ্র চৌধুরীকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। মোদি-শাহর সঙ্গে যোগীর সম্পর্ক যে তিক্ত, রাজনীতিকদের মধ্যে তা প্রথম প্রকাশ্যে আনেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ভোটের প্রচারের সময় তিনি দুটি কথা বলেন। এক, নরেন্দ্র মোদি তার তৈরি নিয়ম মেনে ৭৫ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পর দায়িত্ব দিয়ে যাবেন অমিত শাহর হাতে। দুই, একক ক্ষমতায় তৃতীয়বার সরকার গড়লে মোদি দুই মাসের মধ্যে সরিয়ে দেবেন যোগীকে, যেভাবে তিনি সরিয়ে দিয়েছেন রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজে, মধ্যপ্রদেশের শিবরাজ সিং চৌহান, ছত্তিশগড়ে রমন সিংদের। বিস্ময়ের এটাই যে, মোদির অবসর গ্রহণের বিষয়টি আকাশকুসুম কল্পনা বলে শাহ-নাড্ডারা উড়িয়ে দিলেও যোগী নিয়ে দলের কেউ একটি শব্দও ব্যয় করেননি। ভোটের প্রচারে দুই পক্ষের এ টানাপোড়েনের কাহিনী গোটা রাজ্যে চোরা স্রোতের মতো বয়েছে। ফল অস্বাভাবিক খারাপ হওয়ায় এখন তা আর মোটেই গোপন নেই। যোগীর অনুগামী স্থানীয় নেতারা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অমিত শাহকে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওতে তারা বলছেন, অযোগ্যদের তিনি খেয়ালখুশিমতো প্রার্থী করেছেন। প্রার্থীপদ কেনাবেচা করেছেন। এমনকি এই অভিযোগও করা হচ্ছে, শাহ নাকি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন কেন্দ্র বারানসিকে তুলে দিয়েছেন গুজরাটি ব্যবসায়ীদের হাতে। এর পাল্টা মোদি-শাহ গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠরা দোষী ঠাওড়াচ্ছেন যোগীকে। অভিযোগ, যোগী হাত গুটিয়ে বসেছিলেন। যোগী নাকি চাননি ২০১৯ সালের মতো জনাদেশ নিয়ে মোদি ফের রাজত্ব করুন।

Manual6 Ad Code

সূত্র : এবিপি আনন্দ ও অনলাইন পোর্টাল।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code