শরীয়তপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন ,আতংকে পদ্মা পাড়ের মানুষ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

শরীয়তপুর :
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাধের ৫০০ মিটারের মধ্যে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মানদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। ভাংগনের আশংকায় আতংকে রয়েছে পদ্মা পাড়ের হাজার হাজার মানুষ। সরকারের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ভেস্তে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভয়াল ভাংগনে প্রায় ৬ হাজার পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গৃহহীন হয়ে পড়ে। মসজিদ মাদ্রাসা হাট বাজার ,সরকারী হাসপাতাল, ফসলী জমি রাস্তাঘাট সবই হারিয়ে যায়। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে নড়িয়াবাসিকে রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডো পক্ষথেকে ১হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়ে পদ্মানদীর ডানতীর রক্ষা বাধ নির্মানের জন্য প্রকল্প নেয়া হয়। গত একবছর যাবত নৌবাহিনীর মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। এরই মাধ্যে শুরু হয় অবৈধ ড্রেজিং। অবৈধ ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৗশলী বলছেন সরকারী ড্রেজারের বাইরে কোন লোককে ড্রেজিংয়ের অনুমতি দেয়া হয়নি।
পদ্মার ভাংগনে গৃহহীন আব্দুল মজিদ মুন্সি ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, প্রতিবছরই পদ্মা নদীর ভাংগনের কারনে নড়িয়া উপজেলার হাজার হাজার ঘরবাড়ী রাস্তাা ঘাট স্কুল মসজিদ মাদ্রাসা হাটবাজার,হাসপাতাল স্কুলসহ বিভিন্ন বড় বড় স্থাপনা বিলীন হয়ে যায়। ২০১৮ সালের বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভয়াল ভাংগনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গৃহহীন হয়েছিল প্রায় ৬ হাজার পরিবার।ফলে সরকার ভাংগন রোধে প্রায় ১হাজার ৯৭কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে পানি উন্নয়ন বোওর্ডেও পক্ষ থেকে পদ্মানদীর ডান তীর রক্ষা বাধ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। নৌবাহিনী কে দায়িত্ব দেয়া হয় এ কাজের। নৌবাহিনী বেঙ্গল গ্রুপ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান একাজ বাস্তবায়ন করছে। ভাংগন রোধে লাখ লাখ জিওব্যাগ ও আর সি ব্লক ফেলে ভাংগন রোধের কাজ শুরু করে। গতবছর আকস্মিক ভাবে একই উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিন কেদারপুর নামক স্থানে বিরাট একটি এলাকা জুড়ে ভাংগন দেখা দেয়। এর পর পর ঐ এলাকায় জিওব্যাগ ও আর সি ব্লক ফেলে ভাংগন রোধ করে। গত এক বছর ধরে ডানতীর রক্ষা বাধের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে জিওব্যাগের উপরের আরসি ব্লক ফেলানের কাজ শুরেু হয়েছে। এ অবস্থায় পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে চরআত্রা ইউনিয়নের ৯নং ওয়াডের মেম্বার আঃ রহিম এর নেতৃত্বে কতিপয় অবৈধ বালু ব্যবসায়ী প্রায় দুই মাস ধরে অবাধে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। ভাংগনের আশংকায় আতংকে পড়েছে পদ্মা পাড়ের হাজার হাজার মানুষ।তাদেও শংকা এভাবে অবৈধ ভাবে ড্রেজিং করা হলে বর্ষা মৌসুমে আবার ও ভাংগন দেখা দিবে।এতে করে ভেস্তে যেতে পারে সরকারের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। প্রশাসন এ অবৈধ ড্রেজিংয়ের কাজ দেখে ও না দেখার ভান করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাধের উত্তর পার্শ্বে মাত্র ৫০০ মিটার দুরেই সরকারী ড্রেজারের পার্শে¦ অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে পদ্মার তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে কমপক্ষে ২০/২৫ টি বলগেট দিয়ে দেদারছে বালু বিক্্ির করছে। অভৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাংগনের মুখে পড়তে পারে নড়িয়া উপজেলার শেহের আলী মাদবর কান্দি, নড়িয়া পৌর এলাকার লঞ্চঘাট, বাশতলা ,মুলফৎগঞ্জ,সাধুর বাজার,কেদারপুর,পাচগাও, সুরেশ্বর সহ প্রায় ২০ টি গ্রাম । তাই জরুরী ভিত্তিতে অবৈধ ড্রেজার ¦ন্ধ করা না হলে সরকারের প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি পুনরায় ভাংগনের কবলে পড়তে পাওে পদ্মাপাড়ের মানুষ।
নড়িয়া পৌরসভার ভাংগন কবলিত লঞ্চঘাট এলাকার রাজিয়া বেগম বলেন, কয়েকবার ভাংগনের স্বীকার হয়েনড়িয়া পৌর এলাকায় এসেছি। এখন অবৈধ ড্রেজার দিয়ে পদ্মার নীচ থেকে বালু কাটলে আবার ভাংগন দেখা দিবে ।আমরা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিব। এ অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
বালু উত্তোলনের কথা স¦ীকার করে অবৈধ ড্রেজারের মালিক চরআত্রা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহিম বলেন ,উপজেলা প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশে বালু উত্তোলন করে পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাধের ঠিকাদার বেঙ্গল গ্রুপ সহ বিভিন্ন সাইটে আমি সরবরাহ করি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন , অবৈধ বালু উত্তোলন কারীদের বিরোদ্ধে অচিরেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তি রুমা রায় বলেন, আমরা অবৈধ ড্রেজার এর বিরোদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছি। সরকারী ড্রেজার এর বাইরে কাউকে অবৈধ ভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেইনি। অচিরেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন , আমরা পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাধের ডিসফিলিং এর কাজ ৫ টি প্রতিষ্ঠান কে দিয়ে ছিলাম। আমরা যাদের কাজ দিয়ে ছিলাম তাদের মধ্যে আঃ রহিম মেম্বার নেই। এটা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code