

শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে জ্বর ও মাথা ব্যাথা নিয়ে এক নারীর মৃত্যুর পর লাশ নিয়ে পালিয়ে গেছে স্বজনরা। ঐ নারীর বাড়ি সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে। মৃত্যুর পর নমূনা সংগ্রহের প্রস্তÍুতি কালে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে পালিয়েছে বলে ্এ খবর নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মুনির আহম্মেদ খান।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, শনিবার সকাল অনুমান ৯টায় জ্বর ও মাথা ব্যাথা নিয়ে নিপা বেগম(৩৫) নামে এক রোগীকে অসুস্থ্য অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে তার স্বজনরা। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। মহিলা ওয়ার্ডে নেয়ার পর তার (¯œায়ু) পালস না পেয়ে নার্স /সেবিকারা তাৎক্ষনিক ডাক্তারকে অবহিত করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক রনেশ বোস তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। ডাক্তারের ঘোষনা মতে রোগী সকাল সাড়ে ৯টা বা ১০টায় মারা গেছে। এ সময় হাসপাতাল কতৃপক্ষ রোগীর নমূনা সংগ্রহ না করেই তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। এ রাগীর করোনা ভাইরাস ছিল কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য হাসপাতাল কতৃপক্ষ নমূনা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয়। নমূনা সংগ্রহের প্রস্তÍুতিকালে লোক চক্ষু ফাকি দিয়ে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক রনেশ বোসের কাছে রোগীর নমূনা সংগ্রহের আগে কিভাবে ছাড়পত্র পেল এবং পালিয়ে গেল জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেনি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, জ্বর ও মাথা ব্যাথা নিয়ে সকাল ৯টায় রোগী নিয়ে আসে। রোগী অজ্ঞান ছিল। তার পর তাকে চিকিৎসা দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে নেয়ার পূর্বেই তিনি মারা যান। নার্সরা াামাদেরকে জানানোর পর তাকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। আমরা নমূনা সংগ্রহের জন্য কাজে ব্যস্ত এ ফাকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে পালিয়ে যায়।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মুনির আহম্মদ খান বলেন, যেহেতু এখন করোনা ভাইরাস এর প্রাদুভাব রয়েছে এবং শরীয়তপুর একটি প্রবাসি অধূষ্যিত জেলা। তাই সন্দেহ এড়াতে মৃত ব্যক্তির নমূনা সংগ্রহের পূর্বে কিভাবে স্বজনেরা ছাড়পত্র পেল এবং মরদেহ নিয়ে পালিয়েছে বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। আমি পালং মডেল থানার পুলিশ কে অবহিত করেছি। পাশাপাশি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন,আমি এ বিষয়টি জানার পর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং ওসি পালং থানাকে জানানো হয়েছে। তারা ঐ রোগীর বাড়ি থেকে নমূনা সংগ্রহ করবে এবং ফলাফল না আসা পর্যন্ত ঐ রোগীর পরিবারসহ আশে পাশের বাড়ি ঘর গুলো হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা নিবেন।