

শরীয়তপুর :
শরীয়তপুর-ভেদরগঞ্জ-কাশিমপুর সড়কে নির্মান কাজ শেষ হতে না হতেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে সড়কে বেহালদশায় পরিনত হয়েছে। সংস্কার কাজ ভেস্তে গেছে। এ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডি বলছে নির্মান চলাকালীন সময়ে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার কারনে তাৎক্ষনিক ভাবে ঠিকাদারকে দিয়ে মেরামত করানো হয়েছে।
জানাগেছে, শরীয়তপুর-ভেদরগঞ্জ-কাশিমপুর সড়কে এলজিইডি ভেদরগঞ্জ উপজেলার অধীনে প্রায় ৫ দশমিক ৪৯০ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করনের জন্য ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে দরপত্র আহবান করা হয়। এ কাজের সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে শেখ এন্টার প্রাইজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে গত ৩ জুন ২০১৯ তারিখে কার্যাদেশ দেয়া হয়।৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৪হাজার ৯৭৪টাকা ব্যয় ধরে মাত্র ১৮০দিন সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আদেশ হয়। গত ২ ডিসেম্বর কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শেখ এন্টার প্রাইজের মালিক মানিক সেক নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দ্রুত সময়েতড়িঘড়ি করে রাস্তার কাজ শেষ করে দেয়। রাস্তার কাজে নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারনে কাজ শেষ হতে না হতেই এক সপ্তাহের মধ্যে ৬ কিলোমিটার রাস্তার পুরো রাস্তায়ই পিচঢালা কার্পেটিং ফাটল ধরে। এ ফাটলে ভিতর হাত দিলে পুরো কার্পেটিং উঠে যায়্ । ফলে এ রাস্তার অবস্থা বেহালদশায় পরিনত হয়। রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গেলে গাড়ির চাকায় বারি লেগে কার্পেটিং উঠে যায়। এমতবস্থায় এজিইডি ভেদরগঞ্জ উপজেলার পক্ষথেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চাপ দিয়ে কোনমতে লেপসেপ দিয়ে জায়গায় জায়গায় পুনরায় মেরামত করে দেয়া হয়। বর্তমানে রাস্তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। পুরো রাস্তায়ই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে চরচান্দা এলাকার মতিউর রহমান বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে এলজিইডি যোগ সাজসে নিম্মমানের নির্মমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে রাস্তার সংস্কার কাজ করার কারনে কাজ শেষ হতে না হতেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে।রাস্তা দিয়ে কোন যানবাহন গেলে চাকায় বারি লেগে রাস্তার মালামাল উঠে যায়।
কোড়ালতলী এলাকার আবুল কাসেম আজাদ বলেন, অত্যন্ত নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কারনে কাজ শের হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ভেদরগঞ্জ কাশিমপুর রাস্তার পিচঢালা ফেটে চৌচির হয়েগেছে। তাছাড়া যে পরিমান থিকনেস দেয়ার কথা তা দেয়নি। তাই সরকারের পুরো টাকাই ভেস্তে গেছে।
ভেদেরগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইব্রাহিম খলিল বলেন, চলমান কাজে ত্রুটি দেখা দেয়। ঐ সব জায়গায় ফাটল দেখা দিলে কার্পেটিং উঠে যায়। এ রাস্তায় কার্পেটিংয়ের জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম ৪০ মিলি। আর অনুমোদন দেয়া হয়েছে ২৫ মিলি। কার্পেটিংয়ের থিকনেস কম থাকায় গাড়ির চাকার বারিতে রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে। আমরা বিষয়টি দেখার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে দিয়ে সাথে সাথে মেরামত করে নিয়েছি।