শর্তসাপেক্ষে ইউক্রেনে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত পুতিন

লেখক:
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual2 Ad Code

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল মঙ্গলবার ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন। এই যুদ্ধবিরতি চলবে ৩০ দিন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থায়ী শান্তিচুক্তির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ৩০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চাইলেও পুতিন এর অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

Manual2 Ad Code

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা এই সীমিত চুক্তিকে সমর্থন করবে। এই সময়ে উভয় দেশ এক মাসের জন্য পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা থেকে বিরত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিন বড় কোনো ছাড় না দিয়ে সময় কেনার পথে হাঁটছেন, কারণ রুশ সেনারা পূর্ব ইউক্রেনে আরও ভূখণ্ড দখল করে যাচ্ছে।

Manual6 Ad Code

এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরে জলপথে যুদ্ধবিরতি, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা অবিলম্বে শুরু হবে। মঙ্গলবার ট্রাম্প ও পুতিনের দীর্ঘ ফোনালাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই আলোচনায় ইউক্রেন অংশ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, আলোচনা আগামী রোববার সৌদি আরবের জেদ্দায় হবে।

উইটকফ মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত দুটি বিষয়ে—জ্বালানি ও অবকাঠামো যুদ্ধবিরতি এবং কৃষ্ণসাগরে হামলা বন্ধে কোনো ঐকমত্য ছিল না। আজ আমরা সেই পর্যায়ে পৌঁছেছি এবং এখান থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত পথ খুব বেশি দূরে নয়।’

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে উইটকফের মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পর পুতিন রুশ সেনাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতি ইউক্রেনকে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ ও সেনা মোতায়েনের সুযোগ দেবে। সেই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো সমাধানের জন্য ইউক্রেনে সব ধরনের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করা আবশ্যক।

ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছেন, ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তা নিয়ে আলোচনায় কোনো আলোচনা হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তাঁর দেশ ৩০ দিনের জন্য জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা বন্ধের প্রস্তাব সমর্থন করবে। তিনি জানান, রাশিয়া মঙ্গলবার রাতে ৪০ টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে একটি সুমি অঞ্চলের একটি হাসপাতালে আঘাত হেনেছে। কিয়েভ অঞ্চলেও হামলা হয়েছে।

বার্তা আদান-প্রদান মাধ্যম টেলিগ্রামে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আজ পুতিন কার্যত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশ্বকে এর প্রতিক্রিয়ায় যে কোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা উচিত, যা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে পারে।’

জেলেনস্কির সঙ্গে সম্পর্ক জটিল থাকলেও, ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। কথোপকথন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলেছে।’ তবে তিনি কথাবার্তাকে চমৎকার বললেও তিনি যা চেয়েছিলেন, তা পাননি। ইউক্রেন ৩০ দিনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পুতিন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জার্মান মার্শাল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন বারজিনা, ‘এই ফোনালাপ স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাশিয়া কতটা কঠিন আলোচনাকারী হতে চলেছে এবং তারা যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে সত্যিকারের অগ্রগতি করতে মোটেও আগ্রহী নয়।’ তিনি সীমিত যুদ্ধবিরতিকে ‘খুব ছোট অগ্রগতি’ বলে উল্লেখ করেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো মারিয়া স্নেগোভায়া বলেছেন, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ রাখার চুক্তি রাশিয়ারই বেশি উপকারে আসবে।

Manual2 Ad Code

ফোনালাপের পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, তিনি এবং পুতিন দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শান্তি চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল এই বাস্তবতা যে হাজার হাজার সৈন্য নিহত হচ্ছে, এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দুজনেই যুদ্ধের অবসান চান।’

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির আওতায় কিয়েভের ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও থাকতে পারে, এমনকি ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও আলোচনায় আসতে পারে। ফোনালাপের পরপরই জেলেনস্কি ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে সরকারি সফরে যান এবং বলেন, ইউক্রেনের শান্তি আলোচনায় ইউরোপের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code