শিক্ষকদের দ্রুত পেনশন দিতে হবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual2 Ad Code

সম্পাদকীয়: অবসর ভাতা পাওয়ার জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্বারে দ্বারে ঘোরার বিষয়টি বহুল আলোচিত। বস্তুত তহবিল ঘাটতির কারণেই পেনশনের জন্য এসব শিক্ষক-কর্মচারীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় এক দশক আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পেনশনপ্রাপ্তিবিষয়ক জটিলতা যে পর্যায়ে ছিল, বর্তমানেও সেই একই পর্যায়ে রয়ে গেছে।

শিক্ষকদের শেষ জীবনে এসে নিজেদের প্রাপ্য অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতা পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাটা দুর্ভাগ্যজনক। জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর আর্থিক দাবি ঝুলে আছে। এ জন্য অন্তত ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এ বিষয়ক ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা অর্থের ঘাটতি। এসব শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর সুবিধা তহবিলের একটি অংশ আসে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাঁদা থেকে, বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে প্রদানের কথা।

Manual1 Ad Code

সরকারের দেওয়া অর্থের মুনাফা আর শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়া চাঁদার অর্থ-এ দুই উৎস থেকে প্রতি মাসে যে পরিমাণ অর্থ জমা হয়, তা দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের পেনশন আবেদন নিষ্পত্তি করা যায় না।

Manual7 Ad Code

নানা রকম সংকটের মধ্য দিয়েই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের দিনযাপন করতে হয়। পেনশনের অর্থ পাওয়ার জন্যও যদি তাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, তা হবে দুঃখজনক। চাকরি ছাড়ার পর সময়মতো পেনশনের অর্থ না পাওয়ায় কোনো কোনো শিক্ষককে অর্ধাহারে-অনাহারেও দিন কাটাতে হয়। আমরা জানি, বৃদ্ধ বয়সে সবারই কমবেশি নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। অর্থাভাবে ওষুধ ক্রয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্টদের কতটা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয় তা সহজেই অনুমেয়। বস্তুত সন্তানের পড়ালেখার খরচসহ প্রতিদিনই বিভিন্ন খাতে দরকার প্রচুর অর্থ।

Manual4 Ad Code

অবসর জীবনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের যাতে দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সে জন্য পেনশনবিষয়ক সমস্যার সমাধানে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য। উল্লেখ্য, অবসর বোর্ড বর্তমানে ২০২০ সালের মার্চ-এপ্রিলের আবেদনকারীদের অর্থ পরিশোধ করছে।

Manual2 Ad Code

শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিজীবনের শুরু থেকেই এমপিওপ্রাপ্তি, চাকরি স্থায়ীকরণ ইত্যাদি বিষয়ে নানা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তারপরও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার দায়িত্ব তারা পালন করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। শেষ বয়সে এসে শিক্ষক-কর্মচারীরা যেন আর ভোগান্তির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। তবে সরকারের আন্তরিকতায় এ সংকট দিন দিন কমছে। শিক্ষকদের দুঃখ দূর করতে নিয়মিত বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া দরকার বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

শিক্ষা খাতে সরকারের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি হতে পারে। শিক্ষার মান উন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও জড়িত। শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত বেতন-ভাতা প্রদান করা না হলে শিক্ষার মান বাড়বে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code