

সম্পাদকীয়: শীতকালে করোনার সংক্রমণ বাড়ার ব্যাপারে সারা বিশ্বের বিশেষজ্ঞরাই পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন। দেশে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ প্রথম ঢেউয়ের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।বস্তুত করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই সারা বিশ্বে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের কথা বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে মানুষের মধ্যে প্রথমদিকে এ ব্যাপারে সচেতনতা দেখা গেলেও এখন সর্বত্র দেখা যাচ্ছে শৈথিল্য। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবহার প্রায় উঠেই গেছে। শহরেও মাস্ক পরার প্রচলন ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে।
অথচ পরিস্থিতি এমন নয় যে, দেশে করোনার ভয়াবহতা কমে গেছে; বরং আসন্ন শীতে নতুন করে করোনা সংক্রমণের বিস্তার ঘটতে পারে। ইউরোপ-আমেরিকার অভিজ্ঞতায় এ আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর কারণ হল, শুষ্ক আবহাওয়ায় ভাইরাসটি বাতাসে বেশি সময় ভেসে থাকে। দ্বিতীয়ত, শীতকালে এ দেশের মানুষের একত্রে জড়সড়ো হয়ে বসার প্রবণতা রয়েছে। ফলে এ সময় অনেকের পক্ষে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কঠিন হয়ে যায়। তাছাড়া শীতে অনেকেই ঠাণ্ডাজাতীয় রোগে আক্রান্ত হন। এতে তাদের ফুসফুস দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব কারণে শীতকালে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি। এ পরিপ্রেক্ষিতে সবারই উচিত সতর্ক থাকা তথা যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। করোনা শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে রোগীকে দুর্বল করে দেয়, রোগীর পরিবারকে বিপর্যস্ত করে তোলে। কাজেই করোনার সংক্রমণ থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে বিজ্ঞচিত কাজ।