শীত। গত ৫ দিন যাবৎ ফুলছড়ি উপজেলার কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। ঘন কুয়াশার আচ্ছাদনে ও হাড় কাঁপানো শীত কাবু করেছে এ উপজেলার স্বল্প আয়ের মানুষগুলোকে। উত্তরে হালকা বাতাস শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে এসব মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেকে নিরুপায় হয়ে খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। । শীতে কাতর মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসছে না।
শীতে সবচেয়ে বেশি কাবু হয়ে পড়েছে এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা। শীতের দাপটে ঘরে ঘরে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে সব বয়সী নারী-পুরুষ। বাড়ছে শীতজনিত ঠাণ্ডা, জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। অন্যদিকে শীতজনিত রোগ-বালাই থেকে রক্ষা পেতে সতর্ক থাকার পরার্মশ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উপজেলার কঞ্চিপাড়া, উড়িয়া, উদাখালী, গজারিয়া, ফুলছড়ি, ফজলুপুর ও এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নে প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার মানুষেই হতদরিদ্র। আবার ওই ৮০ হাজারের মধ্যে ছিন্নমূল ৩০ হাজার হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ, রেললাইনের ধার, পরিত্যক্ত স্থান, সড়ক ও মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায়। এদের অবস্থা আরও করুন। তাই শীত সবচেয়ে বেশি কাবু করেছে স্বল্প আয়ের এসব মানুষগুলোকে।
এদিকে, লেপ-তোশকের দোকানের কারিগররাও ব্যস্ত সময় পার করছে এখন। ফুলছড়ি বাজারের লেপ-তোশক দোকানদার বাবু মিয়া জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কারিগররা লেপ তৈরির কাজ করছে। এবার তুলার দাম একটু বেশি হওয়ায় বড় লেপের দাম গত বছরের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি পড়বে। আর সিঙ্গেল লেপে বেড়েছে ৫০ টাকার মত। পাশাপাশি কারিগরদের মজুরীও এবার একটু বেশি।
ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রফিকুজ্জামান জানান, ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি ও জ্বরসহ নানা রোগ থেকে নিজেকে সুস্থ্য রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ঠান্ডার সময় পানি ফুটিয়ে খাওয়ানো, গরম কাপড়-চোপর পড়িয়ে রাখতে হবে। কোন ক্রমেই ঠান্ডা লাগানো যাবে না। এছাড়া কেউ অসুস্থ্য হলে বিলম্ব না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার জন্য আহবান জানান তিনি।