শেয়ারবাজার :অনেক উদ্যোগ নেই বাস্তবায়ন

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual6 Ad Code

পতনমুখী শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে উদ্যোগের অভাব নেই। তবে সেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা পর্যন্তই। প্রস্তাবগুলো কাগজে কলমেই থেকে যাচ্ছে। আলোর মুখ দেখছে না। পুঁজিবাজার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো উদ্যোগ নিলে তখন চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বেশিদিন টেকইস হয় না। গতকালও শেয়ারবাজারে বড়ো দরপতন হয়েছে। গতকালসহ গত সাত কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ৩৪৮ পয়েন্ট কমেছে।

শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে গত জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ছয়টি নির্দেশনা দেন। আর ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়। এর আগে অর্থমন্ত্রী নির্দেশ দেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যাতে বেশি বেশি শেয়ার কেনে। তবে এসব নির্দেশনার কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। আর বাজারের জন্য এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি বলেই শেয়ারবাজারে প্রতিনিয়ত পতন হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজার ভালো করার জন্য প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলো খুবই যৌক্তিক। তবে তা বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকও সময়ে সময়ে যেসব নির্দেশনা দিচ্ছে তাও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাস্থাও দূর হচ্ছে না। আমাদের শেয়ারবাজার মজবুত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

 

Manual2 Ad Code

এদিকে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজার নিয়ন্ত্রণে সঠিক ভূমিকা পালন করতে পারছেন না বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রচুর মানহীন আইপিও অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদন পাওয়া এসব আইপিওর প্রায় সবগুলোই বছর ঘুরতে না ঘুরতেই লোকসানে চলে গেছে। অথচ শেয়ারবাজারে আসার আগে ঐসব কোম্পানি ভালো মুনাফা দেখিয়েছে। তাহলে একবছরের মধ্যে এমন কী হলো যে, তারা লোকসানে পড়ল। এ ব্যর্থতা কাদের—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা। লোকসানে পড়া এসব কোম্পানির বিষয়ে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে নাকি অন্য কোনো উপায়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা।

Manual5 Ad Code

এছাড়া বিএসইসির দায়িত্বে দীর্ঘদিন থাকাকেও ভালো চোখে দেখছেন না বিনিয়োগকারীরা। গত ১০ বছর ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদ আঁকড়ে ধরে রেখেও শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারাকে তাদের ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। অন্যদিকে ডিএসইসির নতুন পরিচালনা পর্ষদে যারা যুক্ত হয়েছেন তাদের কয়েকজনের অতীত ভূমিকা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। মানহীন আইপিও বাজারে নিয়ে আসার বিষয়ে তাদের বড়ো ভূমিকা ছিল বলে প্রচার আছে।

গতকাল রবিবার শেয়ারবাজারে বড়ো পতন হয়েছে। গতকাল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ৭০ পয়েন্ট। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক কমেছে ২২৩ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন। এর ফলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা সাত কার্যদিবস দরপতন হলো। এ ছয় কর্মদিবসে ডিএসইতে ৩৪৮ পয়েন্ট কমেছে।

গতকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি বড়ো পতনের মুখে পড়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচক। এর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৭৪ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে টানা পতনে সূচকটি কমল ১২৪ পয়েন্ট। আর ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। টানা পতনে এ সূচকটি কমেছে ৬১ পয়েন্ট।

Manual7 Ad Code

সবকটি মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। গতকাল ডিএসইসির লেনদেনে অংশ নেওয়া মাত্র ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। দাম কমেছে ২৮৯টির। আর ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

Manual5 Ad Code

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই ২২৩ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১৯৮টির। আর ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code