সংসদকে জাতীয় সংসদে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে পি আর পদ্ধতির কোন বিকল্প নাই- এনপিপি’র চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার

জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা ও কেক কাটার মাধ্যমে পালিত হয়েছে।
আলোচনা সভার সভাপতি ও এনপিপি’র চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু “সংসদকে জাতীয় সংসদে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে পি আর পদ্ধতির কোন বিকল্প নাই” বলে মন্তব্য করেন।

Manual6 Ad Code

১৯ জুলাই শনিবার সকাল-১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোঃ আকরাম খাঁ (৩য় তলা) হলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন গোলাপগঞ্জ ঘটনা মর্মান্তিক দুঃখজনক। এই ঘটনা প্রশাসনের ব্যর্থ রয়েছে। তিনি ব্যাপারে সকল পক্ষকে দেশের স্বার্থে স্থির থাকার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন রংপুর, বগুড়া নিয়ে মানুষের আবেগ আছে। তেমনি গোপালগঞ্জের মানুষের সেই আবেগ আছে। গোপালগঞ্জের গিয়ে আপনারা গোপালগঞ্জকে কটাক্ষ্য করে বলছেন মুজিবাদকে কবর দেবো, কবর দেন কিন্তু অন্যভাবে দেন। এনসিপিকে তিনি সর্তক করে বলেন এসব করে করিয়েন না নির্বাচনে পিছিয়ে যাবেন। এখনও নির্বাচন নিবন্ধন পান নাই কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সংস্কার চান। আগে নির্বাচন করেন তারপর সংস্কার করিয়েন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনতার পার্টি বাংলাদেশ এর নির্বাহী চেয়ারম্যান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন। এ সময় তিনি বলেন যে কারণে আমরা যুদ্ধ অংশ গ্রহণ করেছিলাম, সে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি কিন্তু স্বাধীনতার মূল অস্থিত, ২৪ এর স্বপ্ন সাথে নিয়ে আগামী বাংলাদেশ গড়ে তুলব। বিকল্প রাজনীতির শক্তির উত্থান এই সময়ে জরুরী হয়ে পড়েছে, আমরা কাজ করতে পারলে সেটা সম্ভব হবে। আমরা দেশকে তালবানী শক্তি বলে চিহ্নত করা হয় সেটা করতে চাই না। কেউ আছেন শুধু ৭১ নিয়ে কথা বলেন, কেউ আছেন শুধু ২৪ নিয়ে কথা বলেন, নো, আমাদের অস্থিত, বিশ্বের বুকে মানচিত্র স্বীকৃতি পেয়েছিলাম ৭১ সালে আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায় করতে পারিনি বলে ২৪ এর পরিস্থিতি হয়েছে। এর ব্যর্থতার দায় আমাকেও নিতে হবে।

Manual4 Ad Code

এ সময় তিনি আরো বলেন সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অতি সত্বর নির্বাচন করার লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা ও জাতীয় সংস্কার জোটের নির্বাহী আহবায়ক অবসরপ্রাপ্ত মেজর আমিন আহমেদ আফসারী সহ এনপিপির কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ।

Manual4 Ad Code

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম সরোয়ার আরও মিলন বলেন, সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অতিসত্বর নির্বাচন করার লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে জাতীয় ঐক্যের বিপরীতে বিভাজন ফ্যাসিবাদকে আবার পুনরবাসিত করবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সৃষ্ট অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা রাজনৈতিক দলের অনৈক্যের কারণে বাংলাদেশকে গভীর সংকটে ফেলবে। এটা হলে জুলাই শহীদদের প্রতি শুধু বিশ্বাসঘাতকতাই নয় গণতন্ত্র উত্তরণের পরিবর্তে বাংলাদেশ হবে বিদেশী শক্তির স্বার্থ হাসিলের উর্বর স্থান।
তিনি আরো বলেন, ঐক্যমত প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার অনেক নিবন্ধিত দলকে বাদ দিয়ে আলোচনা করছে। নবগঠিত অনেক দল যারা অতীতে রাষ্ট্র গঠনে সফল ভূমিকা রেখেছে তাদেরকেও আলোচনায় ডাকছেনা। তাই বর্তমান সরকারকে পরামর্শ দিব বিগত দিনগুলোতে আলোচনার সংস্কৃতি তৈরি করে সরকার একটি ইতিবাচক স্থান করেছেন। তার পাশাপাশি যারা আলোচনায় ছিলেন না তাদেরকে ডেকে কথা বলে শক্তিশালী কার্যকর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যের শুরুতেই জাতীয় নেতা আলহাজ্ব শেখ ছালাউদ্দিন ছালু গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জাতীয় নেতা মরহুম শেখ শওকত হোসেন নিলুকে। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি তিনি এনপিপি’র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত যেসকল নেতৃবৃন্দ মৃত্যুবরণ করেছেন এবং বাংলাদেশে সকল অধিকার আদায়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দলের ১৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় আগত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, উপস্থিত দলের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ এবং এনপিপি’র সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক-শুভানুধ্যয়ী ও দেশবাসীকে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আপনারা জানেন ২০০৭ সালের এই দিনে জাতীয় নেতা মরহুম শেখ শওকত হোসেন নিল’র নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আত্ম প্রকাশ করে এনপিপি। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। হাঁটি হাঁটি পা পা করে দলটি ১৮ বছর পার করে আজ ১৯ বছরে পদার্পন করলো। এই শ্লোগানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় এনপিপির কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পরে অন্তবর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই সরকারের কাছে জনগণের অনেক আশা ভরসা ছিলো। অনেকগুলো সংস্কার কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতো। কিন্তু বর্তমানে এই আন্দোলনের যে চালিকাশক্তি তার মধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। তারা ঐক্যমত কমিশনে আলোচনা করে কোন ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারছে না। তার কারনেই জনগণ হতাশ এবং সারা বাংলাদেশে এখন গনতন্ত্রের পরিবর্তে মবতন্ত্র চলছে। জনগণ এর থেকে মুক্তি চায়।

তিনি আরো বলেন, অনেক দলের নেতারা জাতীয় সরকার গঠনের কথা উত্থাপন করেছে। আমি দেশের স্বার্থে এই জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। কিন্তু জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার আগে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা করা দরকার। আর জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা করতে হলে পিআর পদ্ধতির কোন বিকল্প নাই।
পরিশেষে আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে চাই, দ্রুত সংস্কার ও জুলাই সনদ ঘোষণা করে নির্বাচনের তারিখ দিতে। যাতে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গনতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং গনতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করে।

Manual5 Ad Code

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জাতীয় সংস্কার জোটের আহ্বায়ক, মেজর আমীন আহমেদ আফসারী ( অব.) বলেন জুলাই-আগষ্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবী বিজয়ের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু সে গুরুত্বকে অবজ্ঞা করে, রাজনৈতিক দল গুলো কার কতটুকু অবদান তার ভাগ-বাটোয়ারা করতে গিয়ে পুনরায় দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এটা অত্যন্ত হতাশাব্যাঞ্জক ও দুঃখজনক।
উন্নয়ন না গণতন্ত্র। এ বিতর্ক, স্বৈরতন্ত্রের অপ-কৌশল হিসেবে ৫ আগষ্টের পূর্বে শুনেছি। ৫ আগষ্টের মহা-বিজয়ের পর শুনছি- সংস্কার নাকি নির্বাচন? কতটুকু সংস্কার আর কবে নির্বাচন? ইত্যাদি বহুমুখী আলোচনায় আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও বিজয়ের নায়কদের আত্মদান ও শহীদের রক্তের অবদান প্রায় ভুলতে বসেছি। ক্ষমতার মোহে, সংস্কার ও বিজয়ের ফসল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা ভুলে গিয়ে, পুনরায় আমরা গভীর অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছি। এত ত্যাগ, এত রক্ত, এত শহিদ, এর পরও আমরা, মারামারি, কাটাকাটি, দোষারোপ, চাঁদাবাজী, দখল বাজি, ইজারা, টেন্ডার বাজি, শোডাউন, হোন্ডা-গুন্ডা ও পেশী শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি থেকে বের হোতে পারলাম না। কোথায় সংস্কার? কিসের সংস্কার? লক্ষ্য শুধু তড়িঘড়ি করে, যেনতেন একটা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া। হায়রে স্বাধীন দেশে অপরাজনীতি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারছি না, আফসোস।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)’র সদস্য সচিব মোঃ আনিসুর রহমান দেওয়ান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)’র যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল হাই মন্ডল, মোঃ ইদ্রিস চৌধুরী, মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন এর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, এনপিপির যুগ্ম আহবায় সৈয়দ মাহমুদুল হক আক্কাছ, মোঃ ইমরুল কায়েস, জাগপার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড, মজিবুর রহমান, এনপিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি শেখ জাবেদ কামাল, ন্যাশনাল পিপলস্ স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি মোঃ এমাদুল হক রানা, মোঃ কামাল পাশা, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন ভূইয়া, ন্যাশনাল পিপলস্ শ্রমিক পার্টির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম জুয়েল, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুর রহমান সুমন, ন্যাশনাল পিপলস্ যুব পার্টির সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম সুমন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)’র সভাপতি এ কে এম মহিউদ্দিন আহাম্মেদ (বাবলু), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)’র যুগ্ম আহবায়ক মর্জিনা খান আজু, ডাঃ মোঃ আলতাফ হোসেন, ন্যাপ ভাসানীর মহাসচিব মোঃ জহিরুল ইসলাম, এনপিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, এনপিপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য নুরুল ইসলাম খোকন, জিয়া জামান খান প্রিন্স, শফিউল আলম রাকু, সাহেব আলী হাওলাদার রনি, রাজ্জাক হোসেন মিঠু, মোঃ নাজিম উদ্দিন, মোঃ ইকবাল হোসেন, সাবিনা জাবেদ, মোশারফ হোসেন লিটন, মাহবুব মোড়লসহ এনপিপির কেন্দ্রীয় ও অংঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা মোঃ ইসরাফিল হোসেন সাভারী।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  • সংসদকে জাতীয় সংসদে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে পি আর পদ্ধতির কোন বিকল্প নাই- এনপিপি'র চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু
  • Manual1 Ad Code
    Manual2 Ad Code