সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বাংলাদেশের

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

শক্তিশালী দেশগুলো প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে যারা কখনোই চীনে যায়নি, তারাও আক্রান্ত হওয়ায় বিশ্ব জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশও। তবে এ রোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর উত্তরায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০০ বেডের এই হাসপাতালটির আউটডোর ও ইনডোর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ হাসপাতালে আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা হয়েছে। এ হাসপাতালে শুধু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া হবে।

Manual2 Ad Code

এছাড়া সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা আছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে খোলা হয়েছে আইসোলেশন ইউনিট। ঢাকার বাইরে কোথাও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলে সেখানে জরুরি সেবা দিয়ে ঢাকায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে আসা হবে। আর যেখানে রোগী পাওয়া যাবে সেসব এলাকা কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হবে।

গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে শীর্ষ ২০ জন চিকিত্সকের সমন্বয়ে একটি জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উল্লিখিত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এমএ ফয়েজ, অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার সেবার বিষয়ে সার্বিক মনিটরিং করবে। তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সার্বিক বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলার বিষয়টি সর্বোচ্চ ইমার্জেন্সি ধরে তিন ধাপের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রথমে এলার্ট লেভেল, দ্বিতীয় হাই এলার্ট এবং চূড়ান্ত লেভেল।

Manual1 Ad Code

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা প্রস্তুত। আক্রান্ত হলে চিকিত্সা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। এদিকে, চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার আরো পাঁচ দেশে। সব মিলিয়ে ৩৯টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। বিশ্ব জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ৮১ হাজারের কাছাকাছি।

Manual8 Ad Code

ভাইরাসে ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৭৬৩ জনের, যাদের মধ্যে ২ হাজার ৭১৫ জনই মারা গেছেন চীনে। ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে অন্যান্য দেশেও চীনের মতোই মৃত্যু হার দেখতে হবে বলে মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে স্যান ফ্রান্সিসকো শহরে করোনা ভাইরাসের বিস্তারের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

চীনের পর ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে মারাত্মক হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। বুধবার দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনাসহ নতুন করে ১৬৯ জন ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এদের নিয়ে এখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৬ জন। এ সংখ্যা আরো বাড়বে এমন শঙ্কার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষার ব্যবস্থা আরো বিস্তৃত করেছে।

Manual4 Ad Code

অপরদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও চিকিত্সা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব মোকাবিলায় করণীয়, প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সীমান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ পথে চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত যাত্রীদের শতভাগ থার্মাল স্ক্যানিং নিশ্চিত করার জন্যও তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা প্রদান করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code