

অসীম বিকাশ বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
এক আলোকিত জীবন
চট্টগ্রামের সাংবাদিকতা জগতে কাজী আবুল মনসুর এক কিংবদন্তী নাম। তিনি শুধু একজন সাংবাদিক নয়, তিনি বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব ও মানবিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর সাংবাদিকতা সত্য ও সাহসের এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ নূর নাহার মিলনায়তনে চট্টগ্রাম একাডেমির পক্ষ থেকে প্রবর্তিত ‘লোকমান খান শেরওয়ানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁর এই মহান কীর্তিগাথা তুলে ধরেন। তাঁরা মনে করেন, বরেণ্য জৈষ্ঠ্য সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুর এমন একজন সাংবাদিক ছিলেন যিনি প্রতিনিয়ত সত্যের সন্ধানে ছুটে চলেছেন এবং তাঁর অমিত সাহস দিয়ে সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন এবং তিনি দীর্ঘ ২৯ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে দেশের বড় বড় অনেক পত্রিকাতে চট্টগ্রামের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন সহ বর্তমানে প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার ডেপুটি সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।
সাংবাদিকতার মূল চেতনা
সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো সত্যকে আবিষ্কার করা। এই কঠিন পথে চলতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু সত্য ও সাহসী সাংবাদিকেরাই শেষ পর্যন্ত সফল হন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুরের প্রকাশিত শিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক কর্মের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।বক্তারা আরও বলেন,যার নামে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয় সেই মহা প্রতিভার অধিকারী কিংবদন্তি সাংবাদিক লোকমান খান শেরওয়ানী ছিলেন সেই বিরল প্রতিভাদের একজন, যিনি সাংবাদিকতার এই মূল চেতনাকে ধারণ করে পথ চলেছেন। তাঁর সাংবাদিকতা ছিল আপসহীন এবং নির্ভীক।
এক আদর্শের প্রতি সম্মান
চট্টগ্রাম একাডেমি প্রবর্তিত এই পুরস্কারটি শুধু একজন সাংবাদিককে সম্মান জানানো নয়, এটি প্রকৃতপক্ষে লোকমান খান শেরওয়ানী-এর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। তাঁর মতো গুণী ও সৎ মনীষীদের কর্ম ও জীবন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি। কারণ, তাঁদের জীবন থেকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সাংবাদিকতার মতো একটি মহৎ পেশার প্রকৃত মর্যাদা ও নৈতিকতা সম্পর্কে জানতে পারবে। এই পুরস্কার প্রাপ্তির পর বরেণ্য সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুর বলেন, “লোকমান খান শেরওয়ানী সাংবাদিকতা পুরস্কার আমার সাংবাদিকতা জীবনের অন্যতম একটি অর্জন।” তিনি বিশ্বাস করেন, এই পুরস্কার চট্টগ্রামের সাংবাদিকতাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, আজকে আমার স্ত্রী উপস্থিত থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতো।এসময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
একটি মহৎ পেশার মর্যাদা রক্ষা
সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। এই পেশার সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। অনুষ্ঠানে বক্তারা এই বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। লোকমান খান শেরওয়ানী তাঁর পেশার প্রতি যে নিষ্ঠা ও সততা দেখিয়েছিলেন, তা আজকের সাংবাদিকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সমাজের অনাবিষ্কৃত, অনালোচিত এবং গুণী মানুষদের তুলে এনে তাঁদের কীর্তিকর্ম ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তাঁদের সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাঁদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে পারবে। পুরস্কার প্রাপ্ত জৈষ্ঠ্য সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুর শুধু একজন সাংবাদিক নয়, তিনি একজন পথপ্রদর্শক। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম রিপোর্টারস ফোরামের সম্মানিত সভাপতি এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে অনেক কাজ করে যাচ্ছেন এবং মানবিকতার অনেক উদাহরণ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত সমাজের জন্য।তাঁর দেখানো পথে হেঁটে আরও অনেক সাংবাদিক তাঁদের পেশায় সফল হতে পারবেন এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারবেন। বর্তমান সমাজে সঠিক সাংবাদিকতা করা অত্যন্ত কঠিন তাই তাঁকে পুরস্কৃত করে তাঁর শ্রমকে যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং তিনি দেশ ও মানবতা তথা সুসাংবাদিকতার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।