

বিশেষ প্রতিনিধি :- সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় থেকে হবিগঞ্জ এ পরপর দুইবার শিল্পীদের জন্য অনুদান আসলেও কপাল খোলেনি শিল্পী রায়হান উজ্জ্বল, কাজল গোপ,স্বদেশ দাশ ও তাদরে মতো আরো অনেক সাংস্কৃতিককর্মীদের।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির হবিগঞ্জ এর সূত্রে জানা যায়, দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণাকৃত সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় কতৃক করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় হবিগঞ্জের কর্মহীন ও অসহায় সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং সাংস্কৃতিককর্মীদের দুই ধাপে ৯০ জনকে ৫০০০ টাকা করে মোট ৪৫০০০০ অনুদান দেওয়া হয় । কিন্তু এই অনুদান থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী কাজল গোপ, স্বদেশ দাস, বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাট্যশিল্পী সি এম রায়হান উজ্জ্বল ও তাদের মতো বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিককর্মী।
এ ব্যাপারে সি এস রায়হান উজ্জ্বল ক্ষোভ প্রকাশ করে শব্দকথা টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘করোনাকালীন এ সময়ে আমি অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছি। এমন কি আমার বাঁচার শেষ সম্বল ছোট খাবারের হোটেলও তিন মাস যাবত বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অনুদানের আশায় ছুটে গেলেও আমার ভাগ্যে জুটেনি একটি কানাখরি। আমার মতে, অসহায়রা নয় বরং সচ্ছল ব্যাাক্তিরাই এ অনুদান ভোগ করেছেন। প্রথম ধাপে আমি আমার ও সংগঠকের অসচ্ছল কর্মীদের নামের তালিকা জমা দিলেও আমরা সবাই অনুদান থেকে বঞ্চিত’।
এছাড়াও ৪০ বছরধরে মঞ্চ কাপানো শিল্পী ও সংগীত এর ওস্তাদ কাজল গোপ তার ফেইসবুক লাইমটাইনে লেখেন,
‘আর কতদিন গান করলে, সংগীত শিক্ষা দান করলে, হবিগঞ্জ থেকে শ্রদ্ধেয় সংগীত গুরু স্বদেশ দাস, ও আমি কাজল গোপ হবিগঞ্জে শিল্পীর স্বীকৃতি পাব’?
‘কষ্ট সন্মানীর জন্য না, সন্মানের জন্য।
সারা বাংলাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জে জেলায় ৫০০০ হাজার টাকা করে ২ বার বিভিন্নস্তরের শিল্পীদের মাঝে বিতরন করার জন্য হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন কে ধন্যবাদ জানান এবং পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ করে লেখেন, ‘অতিব দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, শ্রদ্ধেয় স্বদেশ দাস, এবং আমি কাজল গোপ, আমাদের একমাত্র পেশা ই হচ্ছে গান, কিন্ত আমাদের সৌভাগ্য হয়নি দুইবারেও। দু’দফায় নব্বই জন শিল্পীকে প্রণোদনা সন্মান দিলেও এর মধ্যে আমাদের নাম না থাকায়, প্রশ্ন রইল আর কত দিন? গান করার পর শিল্পী স্বীকৃতি পাব হবিগঞ্জ থেকে’!
এ বিষয়ে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ ২০০৮ এর সুপারস্টার ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আশিক তার ফেসবুক লাইমলাইনে লিখেন,
‘কাজল চন্দ্র গোপ হবিগঞ্জের সংগীত জগতের একজন প্রিয় মানুষের নাম।
প্রায় চল্লিশ বছর ধরে গানের সাথে যুক্ত, তারই সৃষ্টি লাক্স সুপার স্টার তন্বী দেব। আমারও সৌভাগ্য হয়েছে উনার সান্নিধ্যে এসে গানের অনেক কিছু শেখার
দুই বারে ৯০ জন শিল্পীকে ৫০০০ টাকা করে ৪৫০০০০ টাকা প্রদান করা হয়। আজ হবিগঞ্জের ৯০ জন কন্ঠশিল্পীদের তালিকায় তার নাম না থাকায় আমি রীতিমতো আশ্চর্য হলাম!
আজকে কাজল কাকুর একটা স্টেটাস দেখে আসলেই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি!
উনার সাথে যা করা হয়েছে তা অবশ্যই অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে।
উনার সাথে কেন এই অন্যায় করা হলো?
কারা করলো এমন অন্যায় কাজ?
আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই’।
আরেক সাংস্কৃতিককর্মী সুভাষ ঠাকুর তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, করোনা পরিস্থিতিতে রায়হান উজ্জ্বল নিয়মিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। করোনা যুদ্ধে যে শিল্পী মাঠে তার ভাগ্যে নেই কেন ৫০০০ টাকা। যারা শিল্পকলার ৫০০০ টাকা পাচ্ছে তাঁরা কি উজ্জ্বলের মত এত রিক্স নিয়েছে। তাহলে মিলিয়ে দেখুন এসব করছেন কিনা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এইসব বিষয় ওঠে আসার পর বিশেষ তথ্য সূত্রে জানা যায়, অনুদান গ্রহণকারী তালিকায় বেশ কয়েকজন সচ্ছল সাংস্কৃতিককর্মী রয়েছেন। যাদের দুই একজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একাধিক কর্মসংস্থান রয়েছে। এছাড়াও তালিকায় স্থান পেয়েছেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন বিষয়ের প্রশিক্ষক।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি হবিগঞ্জ এর এডহক কমিটি সদস্য মোঃ আবুল ফজলের কাছে মুঠোফোনে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শব্দকথা টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সচ্ছল ও অসচ্ছল সাংস্কৃতিককর্মীর আলাদা কোনো তালিকা আমাদের কাছে নেই। যারা অনুদানে জন্য তালিকায় নাম লিখেছেন তাদেরকে আমরা ৫০০০ টাকা করে অনুদান দিয়েছি’।
কাজল গোপ ও রায়হান উজ্জ্বল বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাজল গোপ ও রায়হান উজ্জ্বল আমার খুব কাছের মানুষ। তারা যে অসচ্ছল আমার জানা ছিল না। পরবর্তী তালিকায় তাদের নাম অবশ্যই অন্তভূক্ত করব’।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির এডহক কমিটির আরেক সদস্য শামীম আহমেদের কাছে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা অসচ্ছল সাংস্কৃতিককর্মীদের দুইটি ধাপে তালিকা করে ৯০ জনের কাছে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অনুদান পৌঁছে দিয়েছি তবে যারা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তাদের পরবর্তীতে নতুন তালিকায় করে দ্রুত অনুদান পৌঁছে দেব। সচ্ছল সাংস্কৃতিককর্মীদের অনুদানে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সচ্ছল ও অসচ্ছল ব্যাক্তিদের একত্রে তালিকা করে আমরা অনুদান দিয়েছি’।