সারাদেশে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ ওমিক্রনের ধাক্কায় দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। আর এতে দেশে মোট শনাক্ত রোগী ছাড়িয়ে গেল ১৭ লাখ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ হাজার ৪৯২টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ হাজার ৩৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের।

এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল সর্বশেষ ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের দাপটের সময়, গত বছরের ২৮ জুলাই। সেদিন ১৬ হাজার ২৩০ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল, মহামারির মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৭ জনে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ২৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসে।

Manual6 Ad Code

সরকারি হিসাবে গত এক দিনে দেশে সেরে উঠেছেন ১ হাজার ৯৫ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৪ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। এই হিসাবে দেশে এখন সক্রিয় কোভিড রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৮৭ জন। অর্থাত্ এই সংখ্যক রোগী নিশ্চিতভাবে সংক্রমিত অবস্থায় রয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৮৬৭। গত ১৮ জানুয়ারি ছিল ৫০ হাজার ৮৪৫ জন। অর্থাত্, মাত্র এক সপ্তাহে সক্রিয় রোগী বেড়েছে ১৫০ শতাংশের বেশি। মহামারির বছর গড়ানোর পর ডেলটার দাপটে বাংলাদেশে দিনে রোগী শনাক্তের হার ৩২ শতাংশে উঠেছিল ২০২১ সালে। তবে এরপর সংক্রমণের হার কমতে কমতে ২ শনাক্তের নিচে নেমেছিল। সেই হার আবার বাড়তে বাড়তে মঙ্গলবার ৩২ দশমিক ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ছয় মাসের সর্বোচ্চ। শনাক্তের হার এর চেয়ে বেশি ছিল সর্বশেষ গত বছরের ২৪ জুলাই, সেদিন প্রতি ১০০টি নমুনা পরীক্ষায় ৩২ দশমিক ৫৫টিতে কোভিড পজিটিভ আসে। আর ২০২০ সালের ১২ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা এ মহামারিকালের রেকর্ড। মহামারির মধ্যে সার্বিক শ‌নাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত এক দিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ১০ হাজার ৪৭৮ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা, যা মোট আক্রান্তের ৬৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

গত কয়েক মাস ধরেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর একটি বড় অংশ থাকে ঢাকার। তবে গত কয়েক দিন ধরে দেশের অন্যান্য জেলায়, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক দিনে যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের ১২ জন পুরুষ, ছয় জন নারী। তাদের মধ্যে আট জন ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় জন, রাজশাহী বিভাগের এক জন, খুলনা বিভাগের এক জন, বরিশাল বিভাগের এক জন এবং সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন এক জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৯ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, পাঁচ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, দুই জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর এবং এক জনের বয়স ১০ বছরের কম ছিল।

Manual1 Ad Code

এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন যারা হাসপাতালে যাচ্ছেন তাদের ৮৫ শতাংশই টিকা নেননি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত ‘ওমিক্রন মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক জরুরি মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা শহরের সরকারি হাসপাতালগুলোয় শয্যার ২৫ শতাংশ  রোগী ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের ১৪ কোটির মতো মানুষকে ভ্যাক্সিন দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে, এখনো আমাদের টার্গেট পপুলেশনের আরো ৩ কোটি মানুষকে ভ্যাক্সিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই ৩ কোটি মানুষের অধিকাংশই পরিবহন খাতের, শিল্পকারখানায় কর্মরত সদস্য বা বিভিন্ন দোকানপাটে কর্মরত কর্মী বাহিনীর সদস্য। এ বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই আমাদের এই ৩ কোটি নন ভ্যাক্সিনেটেড মানুষকে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এটি সময়মতো করা গেলে ওমিক্রনের কারণে দেশে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে।

সভায় দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান,পরিচালক ও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ এভার কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আরিফ ওমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কতদিন আইসোলেশনে রাখা হবে তা নিয়ে জনমনে সংশয় আছে জানালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আইসোলেশন পলিসি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে দ্রুতই একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন। মন্ত্রী এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তিকে পাঁচ-সাত দিন আইসোলেশনে রাখার বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান। পাশাপাশি করোনা চিকিত্সায় পুরাতন ট্রিটমেন্ট প্রটোকল কিছুটা সংশোধন করে নতুন করে আরেকটি ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ওমিক্রন নিয়ে আমাদের ভয় পেলে চলবে না। আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। করোনা মোকাবিলায় সরকার বিগত দুটি ঢেউ যেভাবে সফল হয়েছে, একইভাবে এবারও ৩য় ঢেউ মোকাবিলা করে সরকার সফল হবে।

Manual1 Ad Code

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুবিন খান বলেন, বিশ্ব  স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বেসরকারি মেডিক্যাল খাত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৬২ ভাগ অবদান রাখে। দেশে ইতিপূর্বে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত সরকারের নানারকম উদ্যোগের পাশাপাশি থেকে কাজ করে গেছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আর এবারের ওমিক্রন মোকাবিলাতেও প্রাইভেট মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন সরকারের পাশে থেকে সরকারের সঙ্গেই কাজ করে যাবে। সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের অন্য সদস্যগণও এ সময় একমত পোষণ করে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুবিন খানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এমপি, আনোয়ার খান মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম বাদল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হাসান, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. এনায়েত হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর প্রমুখ।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code