সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

Manual3 Ad Code

যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকার কথা তা এবারও ম্লান করে দিয়েছে মহামারি কভিড-১৯।

মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করছেন। প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ এ ঈদ পালিত হয়। যদিও করোনা মহামারির কারণে গত বছরের মতো এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করতে হচ্ছে। ঈদগাহে ব্যাপক জনসমাগম করে ঈদের নামাজ না পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সরকার। ঈদের নামাজের পরই আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে পশু কুরবানি করতে হয়।

গতকাল বুধবার (ঈদের দিন) সকাল সাড়ে ৮টায় রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনের দরবার হলে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন।

বঙ্গভবনের হলওয়েতে নামাজ আদায় করেন তিনি। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্য ও বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদুল আজহার জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। রাষ্ট্রপতি নামাজ শেষে দেশবাসীর উদ্দেশে ঈদের শুভেচ্ছাবক্তব্য রাখেন।

 

Manual3 Ad Code

 

শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, আশা করি, সকলেই সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি সম্পন্ন করবেন এবং যথাসময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সচেষ্ট থাকবেন।

তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা।

তিনি বলেন, ঈদুল আজহা উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভুপ্রেমের পরাকাষ্ঠা। কোরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এবার মুসলিম বিশ্ব এমন একটা সময়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করছে যখন করোনার ভয়াল থাবায় গোটা বিশ্ব বিপর্যস্ত। বাংলাদেশেও করোনার নেতিবাচক প্রভাব ক্রমান্বয়ে প্রকট হচ্ছে। করোনার কারণে দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকা আজ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জীবন বাঁচানো প্রথম অগ্রাধিকার হলেও জীবন বাঁচিয়ে রাখতে জীবিকার গুরুত্বও অনস্বীকার্য।

তিনি বলেন, সরকার করোনা মোকাবিলা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিভিন্ন প্যাকেজ প্রণোদনা প্রদানসহ বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। অসচ্ছল ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবেও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। কৃষি ও শিল্পসহ উৎপাদনশীল প্রতিটি খাতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেও সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

মো. আবদুল হামিদ বলেন, বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কারণে টিকাদান কর্মসূচি সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও বর্তমানে তা পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের সকল নাগরিকের জন্য টিকাদান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তাই এ কর্মসূচিকে সফল করতে সরকারের পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, করোনা এমন একটি ভাইরাস যা থেকে ইচ্ছে করলেই কোনো ব্যক্তি বা পরিবার বা এককভাবে একটি দেশের পক্ষে নিরাপদ থাকা সম্ভব নয়। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে আজ আমরা গ্লোবাল ভিলেজের বাসিন্দা। তাই বিশ্বকে করোনার হাত থেকে বাঁচাতে হলে উন্নত-অনুন্নত ও ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে বহুজাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাতের আঁধার শেষেই ঝলমলে রোদের আলোতে ভরে ওঠে পৃথিবী। করোনার অমানিশার আঁধারও সহসাই কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ। নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে আমাদের দেশ। কিন্তু এর জন্য দরকার সকলকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। অর্থাৎ, সঠিকভাবে মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা।

তিনি বলেন, আমি দেশের আপামর জনগণের প্রতি কোরবানির মর্মার্থ অনুধাবন করে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। ত্যাগের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত হলেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের জন্য বয়ে আনুক কল্যাণ, সবার মধ্যে জেগে উঠুক ত্যাগের আদর্শ। মহান আল্লাহ আমাদের মহামারি করোনার হাত থেকে রক্ষা করুন, আমিন।

 

বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচটি জামাত

 

Manual4 Ad Code

মহামারি কভিড-১৯ এর কারণে এবারও হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানেও ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের প্রধান জামাত এবার বায়তুল মোকাররম মসজিদেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বাইতুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। মুকাব্বির ছিলেন বায়তুল মুকাররমের মুয়াজ্জিন মো. আতাউর রহমান।

দ্বিতীয় জামাত হয় সকাল ৮টায়। এতে ইমাম করেন বায়তুল মোকারমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। মুকাব্বির ছিলেন মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী কাজী মাসুদুর রহমান। সকাল ৯টায় হ্য় ঈদের তৃতীয় জামাত। পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক এই জামাতে ইমামতি করেন, মুকাব্বির থাকেন হাফেজ ক্বারী হাবিবুর রহমান মেশকাত।

চতুর্থ জামাতে ইমামতি করেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দীন কাসেম, মোকাব্বির ঞ্ছিলেন মুয়াজ্জিন ক্বারী মো. ইসহাক। এই জামাতটি সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম ও শেষ জামাত হয় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান। মুকাব্বির ছিলেন বায়তুল মোকাররমের প্রধান খাদেম মো. শহীদুল্লাহ।

Manual8 Ad Code

করোনা মোকাবিলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধকল্পে সরকারের নির্দেশনায় এবার খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। সারাদেশের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code