সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ঢাকা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

Manual1 Ad Code

সাত জেলায় লকডাউনে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে এই লকডাউন ঘোষণা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রাজধানীর সঙ্গে দেশের সকল এলাকার দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই দূরপাল্লার গণপরিবহন ও লঞ্চ বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটে অবশ্য গণপরিবহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সাত জেলা বাদ দিয়ে চলাচল করছে ট্রেন। মঙ্গলবাার রাত ১২টা থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সকল ট্রেন চলাচল। সরজমিনে দেখা যায়, সিটি সার্ভিস স্বাভাবিক থাকায় জনজীবনে চলাচলের ওপর তেমন কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে বাস ও অন্যান্য পরিবহন চলাচল করে স্বাভাবিক গতিতেই। বাস টার্মিনালগুলো থেকে কোন দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল।

পরিবহন মালিকদের মতে, সাত জেলার লকডাউন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কার্যত গোটা দেশকেই ঢাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অন্য জেলায় লকডাউন না থাকলেও সেখানকার বাসিন্দারা বিকল্প উপায়ে ঢাকায় পৌঁছার চেষ্টা করলে তাদের এই সাত জেলায় ঠেকিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে দিয়ে ঢাকায় প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। এভাবেই ঢাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা দেশ থেকে। এর প্রভাব পড়েছে সারাদেশের জনজীবনেই। ঢাকা নির্ভর জীবিকার পাশাপাশি জরুরী প্রয়োজনে কিভাবে ঢাকায় পৌঁছবেন- সরকারের পক্ষ থেকে তার কোন সঠিক দিক নির্দেশনা না থাকায় কঠিন ভোগান্তি ও দুর্দশার শিকার হচ্ছে মানুষজন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্যাহ  বলেন, আমরা সরকারের সব সিদ্ধান্তের প্রতিই অনুগতশীল। সেজন্য আপাতত ৩০ জুন পর্যন্ত আমরা দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখব। তারপর আমরা দাবি জানাবো বিশেষ কৌশলে যেন এ সাত জেলার ভেতর দিয়ে অন্যান্য জেলার মানুষজন প্রয়োজনে ঢাকায় আসতে পারে। ট্রেন যেভাবে এ সাত জেলায় না থেমে, যাত্রী ওঠা নামা না করে চলাচল করছে বাসও সেভাবেই চালাতে চাই। আমরা সরকারকে সেই নিশ্চয়তা দিতে চাই।

Manual8 Ad Code

সকালে দেখা যায়- আশপাশের সাত জেলায় কঠোর লকডাউনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। ঢাকায় ঢুকতে কিংবা বের হতে দেয় হচ্ছে না দূরপাল্লার যানবাহন। দু-একটি গাড়ি ঢাকা থেকে বের হওয়া কিংবা ঢোকার চেষ্টা করলেও তাদের পড়তে হচ্ছে শাস্তির মুখে। সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী এলাকার রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এই মহাসডকে ঢাকার মধ্যে চলাচল করা বাসগুলোকে দেখা গেলেও দূরপাল্লার বাস সেভাবে চোখে পড়েনি। একই সময়ে উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে দেখা গেছে পুলিশের কড়াকড়ি টহল। অনুমোদিত কয়েকটি সংস্থার যানবাহন ছাড়া বড় কোন বাস মিনিবাস ঢুকতে বারণ করতে দেখা যায়। আবার বের হবার সময়েও অনেক বাসকে আটক করে ফিরিয়ে দেয়া হয় মহাখালীতে। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় আসতে কোন ধরনের বাধা না থাকলেও গাজীপুর পর্যন্ত আসার পর তা ঠেকিয়ে দেয়া হয়। অনেক যাত্রীকে গাজীপুর এসে ফিরে যেতে হয়েছে। আবার অনেকেই বিকল্প পথেই প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

সারিকা নামের এক নারীকে রাতে বগুড়া থেকে রওনা হয়ে ভোরে গাজীপুর পৌঁছেন। এখানে আসার পর বাস থামিয়ে দেয়া হলে তিনি বিপাকে পড়েন। বাধ্য হয়ে তিনি একটি হলারে জয়দেপুর হাড়িনাল হয়ে ভেতর দিয়ে টঙ্গী হয়ে আব্দুল্লাহপুর দিয়ে হেঁটে ঢাকায় প্রবেশ করেন। বেলা এগারোটার দিকে ঢাকা-কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের একটি বাস এই মহাসডক পার হওয়ার সময় চেকপোস্টে পুলিশ আটকে দেয। এরপর পুলিশ বাসটিকে মামলা দেয়। চেকপোস্টে দায়িত্বরত ডেমরা ট্রাফিক জোনের উপপরিদর্শক বিষ্ণু শর্মা বলেন- নির্দেশনা রয়েছে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যেতে পারবে না এবং কোন বাস ঢাকায় ঢুকতেও পারবে না। আমরা সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি। ঢাকার প্রবেশপথে কডাকড়ি, ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না দূরপাল্লর গাড়ি। মূলত ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী যানবাহন ছাড়া দূরপাল্লার বাস চলছে না। দু-একটি বাস চলে আসলে আমরা সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছি।

উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জরুরী ব্রিফিংয়ে সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন- মঙ্গলবার থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জে বিধিনিষেধ (লকডাউন) আরোপ করা হয়েছে। লকডাউন চলাকালে সার্বিক কার্যাবলি চলাচল (জনসাধারণের চলাচলসহ) সকাল ৬টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সময় শুধু আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরী পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুত, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (নদীবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারী-বেসরকারী), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এবং পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

দূরপাল্লার বাস বন্ধ ॥ সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ সরকারী ঘোষণা আসে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধের। এতে রাতে কিছু গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস শহরে প্রবেশ করতে পারেনি। রাজধানীর মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল পরিদর্শন করে দেখা যায়- সব রুটের বাসগুলো সারি সাাির লাইনে পার্কিং করে রাখা হয়েছে। শ্রমিক চালকরা বাসের ভেতর অলস বসে রয়েছে।

মহাখালীতে গিয়ে দেখা যায়- কিশোরগঞ্জ থেকে চিকিৎসা করাতে ঢাকার ধানমÐিতে এসেছিলেন হামিদ। ধানমÐিতে ইবনে সিনহা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে আসেন তিনি। মহাখালী টার্মিনালের সব বাস বন্ধ রয়েছে। তিনি এনা পরিবহনের টিকেট কাউন্টারে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু টার্মিনালের সব বাসের টিকেট কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। এদিকে টার্মিনালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ছোটন রায়সহ অন্য যাত্রীদের চলে যেতে বলেন। তারা কারণ উল্লেখ করেন ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে লকডাউন চলছে। তাই গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সোমবার সকালে বাড়ি থেকে ধানমÐিতে এসেছিলাম ডাক্তার দেখাতে। কাল বিকেলে ইবনে সিনহা হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছি। ডাক্তার কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছেন তাই মঙ্গলবার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহাখালী এসেছিলাম। কিন্তু কোন গাড়ি চলছে না। এখন কি করব ভাবছি। ঢাকায় আমাদের কোন আত্মীয় থাকে না। কোথায় থাকব তাই ভাবছি। আর কিভাবে বাড়ি যাব সেটাই এখন বিষয়।

একই অবস্থা সিলেটগামী যাত্রী আলমগীরের। সিলেট যাবেন বলে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে আসেন। তিনি বিমানবন্দরে ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকা এসেছিলেন। লকডাউনের কারণে গণপরিবহন বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি পড়েছেন বিপাকে। তিনি বলেন, সোমবার দুবাই যাওয়ার ফ্লাইট ছিল আমার সেই কারণে গত রবিবার সকালে ঢাকার বিমানবন্দরে এসে নেমেছিলাম। কিন্তু করোনা টেস্টের রিপোর্টের কারণে আমার ফ্লাইট ক্যানসেল হয়েছে। তাই সিলেট চলে যেতে চাইছিলাম। কিন্তু কোন গাড়ি চলে না। বিমানবন্দরে প্রাইভেটকারগুলো ভাড়া দ্বিগুণের বেশি চায়। ১ হাজার টাকার ভাড়া চায় আড়াই হাজার তিন হাজার টাকা। তাই সেখান থেকে মহাখালী এসেছিলাম বাসে যাব বলে। কিন্তু বাস তো চলছে না।

তাদের মতো আরও অনেক যাত্রী মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে এসে ফিরে যাচ্ছে। তারা বলছেন, আমরা জানি না, টার্মিনালে এসেই শুনছি বাস চলাচল বন্ধ। মঙ্গলবার সরেজমিনে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, বন্ধ বাসগুলো সারি সারিভাবে রাখা হয়েছে। টিকেট কাউন্টারগুলোতে ঝুরছে তালা। টার্মিনালে কয়েকটি চায়ের দোকান খোলা রয়েছে তবে, একেবারে ভিড় চোখে পড়েনি। এদিকে শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে থাকা মাইকে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছে- টার্মিনালের যাত্রী যারা আছেন, আপনারা বাসায় চলে যান। কোন গাড়ি চলবে না সব বন্ধ। টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, হালুয়াঘাট, কিশোরগঞ্জ, ফুলবাড়িয়া, সব গণপরিবহন বন্ধ। কোন যাত্রী টার্মিনালে থাকলে সবাই বের হয়ে যান। আর মাস্ক ছাড়া কেউ টার্মিনালে ঘোরাফেরা করবেন না। এদিকে টার্মিনালে নিয়োজিত থাকা শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা যাত্রীদের ভেতরে ঢুকতে মান না করছেন। তারাও টার্মিনালে ঢোকার পথগুলো দড়ি দিয়ে বেরিক্যাড তৈরি করে রেখেছেন।

ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মিনহাজ বলেন- মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। ঢাকার পাশের জেলাগুলোতে লকডাউন চলছে। সেখানে কোন গাড়ি চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে হলে গাজীপুরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চট্টগ্রাম যেতে হলে নারায়ণগঞ্জ হয়ে যেতে হবে। সিলেট যেতে হলে নরসিংদী হয়ে যেতে হবে। কিন্তু এসব জায়গাতে লকডাউন থাকার কারণে আমাদের পরিবহনগুলো চলতে পারছে না। লকডাউনের কারণে জরুরী পণ্যবাহী পরিবহন ছাড়া কোন পরিবহন চলবে না। সবকিছু লহডাউনের নিয়ম অনুসারে হবে। তাহলেই দেশ থেকে করোনাভাইরাসকে বিতাড়িত করা সম্ভব হবে। কিন্তু ইন্টার সিটি সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছে, এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকছেই।

Manual8 Ad Code

এ বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি হাজী চাঁন মিয়া বলেন, গত লকডাউনে টাকা ৪৯ দিন গণপরিবহন বন্ধ ছিলো। এর আগেও এমন বন্ধ রাখা হয়েছে। দফায় দফায় গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আমরা আর্থিকভাবে খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আগের ক্ষতি এখনও উঠেনি। এখন সরকার যদি চায় তবে কোনভাবে আমাদের দূরপালার গণপরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। বাকিটা সরকারের ইচ্ছা। আমরা জনগণের সুবিধার স্বার্থে গণপরিবহন বন্ধ রেখেছি। গত লকডাউনে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে আটকেপড়া পরিবহন শ্রমিকদের তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

সাত জেলা বাদে চলছে ট্রেন ॥ হঠাৎ সাত জেলায় লকডাউন ঘোষণা করায় বিশেষ কৌশলে চলছে ট্রেন। তবে সাত জেলা বাদে অন্যান্য এলাকায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সব ট্রেনই ছেড়ে গেছে। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার বলেন- মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু লকডাউন থাকা জেলাগুলোর স্টেশনে ট্রেন থামছে না। সোমবার বাংলাদেশ রেলওয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- গাজীপুর জেলায় লকডাউন দেয়ার কারণে ২২ জুন থেকে একতা, তিস্তা, সুন্দরবন, আন্তঃনগর যমুনা, লালমনি, দ্রæতযান, চিত্রা ও নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ অন্য সব কমিউটার ও লোকাল ট্রেন জয়দেবপুর ও টাঙ্গাইল স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে না। একই সঙ্গে যেসব জেলায় লকডাউন থাকবে সেসব জেলার আওতাধীন কোন স্টেশনে ট্রেন যাত্রাবিরতি করবে না।

লঞ্চ বন্ধ ॥ বাসের মতো বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল। রাজধানীর সদরঘাটের লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়- সারাদেশে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। সদরঘাটের প্রতিটি লঞ্চঘাট বন্ধ থাকলেও বরিশাল ও লালকুঠি ঘাটে অনেক যাত্রী এসে ভিড় করছেন। যাত্রীদের অভিযোগ- লঞ্চ বন্ধের ঘোষণা তারা জানেন না। চাঁদপুরগামী এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- রাত ১১টায় বন্ধের ঘোষণা দিলে আমরা জানমু ক্যামনে? হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। বরিশালগামী আব্দুল বাছেত নামে আরেক যাত্রী বলেন- লকডাউন ঘোষণা করা জেলায় বরিশালের নাম উল্লেখ নেই। আমি বৃষ্টির মধ্যে অনেক দূর থেকে আসছি, এখন ফিরে যেতে হচ্ছে। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নাই।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের উপপরিচালক এহতেশামুল হক পারভেজ বলেন- সাত জেলায় লঞ্চ বন্ধের ঘোষণা আমরা রাত আটটার সময় মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন থেকে জানতে পারি। কিন্তু এরপর হঠাৎ কেন সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ করল সেই ব্যাপারে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমাদের ট্রাফিক বিভাগ ভাল বলতে পারবে। একই বিষয়ে যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদিন বলেন-আমরা প্রথম লকডাউনের আওতায় সাত জেলায় লঞ্চ চলাচলাচল বন্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন দিয়েছি। পরে রাতে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছি।

মধ্যরাত থেকে  ট্রেন চলাচল বন্ধ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বুধবার রাত ১টা থেকে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেলে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কমলাপুর থেকে রেল ছেড়ে যাবে না, দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও কমলাপুরে রেল আসবে না।

মঙ্গলবার (২২ জুন) বিকেলে রাজধানীর রেল ভবনে এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরে রাত নয়টায় এ বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে পণ্যবাহী রেল চলাচল করতে পারবে বলে জানানো হয়।

Manual1 Ad Code

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাজনিত সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী এবং গোপালগঞ্জে জনসাধারণের চলাচল বন্ধে গতকাল ২২ জুন সকাল ছয়টা থেকে আগামী ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে সরকার।

যার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য জেলা শহরের জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ রাখতে আজ বুধবার রাত ১টা থেকে ঢাকা থেকে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি, এমন জেলা তথা চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-কুমিল্লা বা চাঁদপুর এলাকায় রেল যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমলাপুর রেল স্টেশনের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, বুধবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে রেল যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে। অন্যান্য জেলা থেকেও কমলাপুরে যাত্রী নিয়ে আসছে রেল। রাত ১টার পর সব শিডিউল বাতিল করা হয়েছে।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code