সায়াটিকা : একটি স্নায়ুজনিত সমস্যা

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: আমরা কমবেশি সায়াটিকা শব্দটির সাথে সকলেই পরিচিত। রোগটি নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দে থাকে, এটি কি বাতজনিত না স্নায়ুজনিত সমস্যা। আমাদের শরীরে সায়াটিক নার্ভ বা স্নায়ু নামে একটি দীর্ঘ স্নায়ু আছে। এটি স্পাইনাল কর্ড বা স্নায়ুরজ্জু থেকে মেরুদন্ডের একেবারে শেষ প্রান্তে উরুর পিছনের দিক দিয়ে পায়ের আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত। কোন কারণে এই স্নায়ুয়ুর উপর চাপ পড়লে কোমড় হতে পায়ের নিচ পর্যন্ত তীব্র ব্যথা ছড়িয়ে পাড়ে। তখন একে সায়াটিকা বলে।

পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ সায়াটিকা ব্যথায় ভুগে থাকেন। পুরুষ বা নারীর যে কেউ সাধারণত ৩০-৬০ বছরের মধ্যে এ রোগে ভোগেন।
কারণ-

মেরুদন্ডের কোমড়ের অংশের ডিস্ক বা নরম হাড় স্থানচ্যুত হয়ে স্নায়ুতে চাপ পড়া।
কশেরুকার স্থানচ্যুতি।
স্নায়ু চলাচলের পথ সরু হলে।
বয়স জনিত ক্ষয়রোগ।
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কোন কাজ করলে।
হঠাৎ ভারী বস্তু উঠানো।
সামনে ঝুকে কাজ করলে।
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা।
দীর্ঘক্ষণ মোটরসাইকেল, সাইকেল চালালে।
স্থুলতা, স্নায়ুতান্ত্রিক রোগ।
স্পন্ডলাইটিয়স, স্লিপড ডিস্ক এবং পেশির খিঁচুনী ইত্যাদি।

Manual8 Ad Code

লক্ষণ-
পিঠের নীচের অংশে, উরুর, পায়ের পিছনে ব্যথা।
কোমড়ের নীচের দিকে এবং এক পাশে ব্যথা।
ব্যথা কোমড় হতে পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। উরুর দিকে বেশি অনুভুত হয়।
পাগুলোতে জ¦ালা পোড়া করে।
একটা পা বা পায়ের পাতায় ঘন ঘন অসাড়তা।
একটা পায়ে দূর্বলতা।
ব্যথা তীব্র হয়। সুঁচ ফোটানো ব্যথা।
পা বা পায়ের পাত নাড়াচড়ায়, দাঁড়িয়ে থাকতে ও হাঁটাচলায় অসুবিধা।
পায়ের পাতায় প্রচন্ড ব্যথাজনিত সংবেদন।
শুইলে ব্যথা বাড়ে, কিছুক্ষণ হাঁটলেও ব্যথা কমে। তবে বসে থাকলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বাড়ে।
আক্রান্ত পায়ে অবশতা, ঝিনঝিন ভাব ও দূর্বলতা অনুভুত হয়।

পরীক্ষা-
ইমেজিং পরীক্ষা, এক্স-রে, এম আর আই, সিটি স্ক্যান ইলেকট্রোমোগ্রাফি।

Manual7 Ad Code

চিকিৎসা-
যদি ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে সায়াটিকা নিজে থেকে ঠিক না হয়, তখন দ্রুত চিকিৎসকের নিকট পরামর্শ নিতে হবে। উপসর্গ অনুসারে ঔষধ, ইঞ্জেকসন, ফিজিওথেরাপী, অস্ত্রোপচার ব্যয়াম ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের ফলে সায়াটিকা হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

করণীয়/বর্জনীয়
বেশী নরম বিছানায় ঘুম, কোমড় বাঁকা করে কোন কাজ না করা।
সামনে ঝুঁকে কোন কাজ, বস্তু না তোলা।
যতটা সম্ভব হালকা ব্যয়াম করা।
ব্যথা থাকলে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া, হাই কমোড ব্যবহার করা।
শোয়া হতে ওঠার সময় একপাশে কাত হয়ে হাতে ভর দিয়ে ওঠা।
বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে কোন কাজ না করা।
সোজা হয়ে বসে কাজ করা।
প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা।
পরামর্শ মতো গরম স্যাঁক দেওয়া।
লম্বা সময় দিয়ে বসে না থাকা ইত্যাদি।
উঁচু-নিচু স্থানে ভ্রমণে কোমড়ে বেল্ট ব্যবহার করা।

Manual7 Ad Code

সুত্র: দৈনিক ইনকিলাব

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code