সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও টিলাগড়ে মিলছে ফাইজারের টিকা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual7 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

Manual2 Ad Code

করোনা ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধিতের চাপ কমাতে ওসমানী হাসপাতাল ও পুলিশ লাইন কেন্দ্রের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়ে আরো দুটি অস্থায়ী কেন্দ্র চালু করেছে সিসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ। শনিবার সকাল থেকে সিসিকের ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার তৌফিক বক্স লিপনের দক্ষিণ সুরমা কদমতলীস্থ কার্যালয় ও ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার আজাদুর রহমান আজাদের টিলাগড়স্থ কার্যালয়ে দেয়া শুরু হয়েছে ফাইজারের টিকা।

এখানে শুধুমাত্র টিকার জন্য নিবন্ধিতরাই ফাইজারের ১ম ডোজ নিতে পারবেন। এছাড়া নতুন করে নিবন্ধন করে যে কেউ এসব অস্থায়ী কেন্দ্রে ফাইজারের টিকা নিতে পারবেন। মানুষের আগ্রহ ও নিবন্ধিতের সংখ্যা বিবেচনায় এই কার্যক্রম মেয়াদ বাড়ানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে সাড়ে লাখের উপরে মানুষ করোনা ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করে ৪ লাখ ২৩ হাজার জন টিকার ১ম ডোজ গ্রহণ করেছেন। আর ২য় ডোজ নিয়েছেন ৩ লাখ ২০ হাজার জন। এরমধ্যে কিছু মানুষ নিবন্ধন করে এসএমএস পেয়েও টিকা নেয়া থেকে বিরত রয়েছেন। তাদেরকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে অক্টোবর মাসে কয়েকদিন ১ম ডোজের এসএমএস বন্ধ রেখে পুরাতন এসএমএস প্রাপ্তদের ১ম ডোজ গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়।

Manual7 Ad Code

এই সময়ে বিপুল সংখ্যক পুরনো নিবন্ধিত ও এসএমএস প্রাপ্ত মানুষ ১ম ডোজ গ্রহণ করেন। বর্তমানে নগরীতে প্রায় ১০ হাজার নিবন্ধিত রয়েছেন যারা ১ম ডোজ গ্রহণ করেন নি। সিসিকের স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ১ম ডোজের জন্য ২ হাজার ও ২য় ডোজের জন্য ২ হাজার জনকে এসএমএস দেয়া হয়। এরমধ্যে দুই ডোজ মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার মানুষ টিকা গ্রহণ করছেন। পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিক কেন্দ্র না থাকায় এই কেন্দ্রে নিবন্ধিতরা ওসমানী হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকা নিতে যান। ফলে ওসমানী হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকা গ্রহণকারীর ভীড় বেড়ে চলছে। এই ভীড় কমাতেই এবার ওয়ার্ড পর্যায়ে ফাইজারের টিকা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে নগরীর একমাত্র ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফাইজারের ১ম ও ২য় ডোজের ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। পুলিশ লাইন্স হাসপাতাল কেন্দ্রে চলছে সিনোফার্মের ২য় ডোজের কার্যক্রম। এছাড়া নগর ভবনস্থ অস্থায়ী কেন্দ্রে সিনোফার্ম, কোভিশিল্ড ও মডার্নার ২য় ডোজের টিকা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এদিকে ওসমানী হাসপাতালে ফাইজারের ১ম ও ২য় ডোজ মিলে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজারের উপড়ে মানুষ ভীড় করে থাকেন। এতে স্বাস্থ্যবিধি লংঘনের পাশাপাশি বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।

এদিক থেকে মানুষের ভীড় কমাতে এবার ওয়ার্ড ভিত্তিক ধাপে ধাপে ফাইজারের টিকা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সিসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ। আপাতত দুটি ওয়ার্ড দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও মানুষের চাহিদা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে নগরীর সকল ওয়ার্ডেই ফাইজারের টিকা দেয়া হবে। ফাইজারের টিকার কেন্দ্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকা বাধ্যতামূলক থাকায় যেসকল কাউন্সিলারদের কার্যালয় শীততাপ নিয়ন্ত্রিত আছে সেসব কার্যালয়ে টিকা দেয়া হবে।

Manual1 Ad Code

এ ব্যাপারের সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওসমানী হাসপাতাল কেন্দ্রে ভীড় কমাতে এবং কম সময়ে বেশী সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে শনিবার থেকে আমরা প্রথম অবস্থায় দুটি ওয়ার্ড দিয়ে ফাইজারের টিকার ১ম ডোজ প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছি। মানুষের চাহিদা ও আগ্রহ বিবেচনায় আমরা সময় নির্ধারণ করবো। কোন ওয়ার্ডে কয়দিন টিকা কার্যক্রম চলবে তা নিবন্ধিতের সংখ্যার উপর নির্ভর করবে। তবে পর্যায়ক্রমে আমরা নগরীর সবকটি ওয়ার্ডেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

শনিবার থেকে দক্ষিণ সুরমা ও টিলাগড় কাউন্সিলার কার্যালয়ে টিকা কেন্দ্র চালু হয়েছে। রোববার থেকে ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রেজওয়ান আহমদের কার্যালয়ে ও ১১নং ওয়ার্ডের রকিবুল ইসলাম ঝলকের কার্যালয়ে ফাইজারের অস্থাীয় টিকাদান কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা নিয়েছি। যেসব ওয়ার্ডে যে তারিখে ১ম ডোজ দেয়া হবে সেসব ওয়ার্ডে পরের মাসের সেই তারিখে সেই স্থানেই ২য় ডোজ দেয়া হবে।

Manual1 Ad Code

এদিকে শনিবার ১ম দিনে দক্ষিণ সুরমার কদমতলীস্থ অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে ৩৭৪ জন ফাইজারের ১ম ডোজ নিয়েছেন। টিলাগড়স্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে ফাইজারের ১ম ডোজ নিয়েছেন ৭৬ জন। এছাড়া শনিবার ওসমানী হাসপাতাল কেন্দ্রে ফাইজারের ১ম ডোজ নিয়েছেন ১ হাজার ৯৩৭ জন ও ২য় ডোজ নিয়েছেন ১ হাজার ৮৫৪ জন। নগর ভবনস্থ অস্থায়ী কেন্দ্রে সিনোফার্মের ২য় ডোজ নিয়েছেন ১২০ জন, কোভিশিল্ডের ২য় ডোজ নিয়েছেন ১০ জন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code