

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। রোববার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সিলেটে মাঝারী অনুপাতের বৃষ্টিপাত হওয়া সত্ত্বেও সিলেটের নদ-নদীর পানি প্রায় সকল পয়েন্টেই কমেছে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি অমলশীদ পয়েন্টে কিছুটা বেড়েছে। মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি হলেও দুপুর থেকে সিলেটে ছিল কড়া রোদ।
এদিকে পানি যতই কমছে ততই দুর্ভোগ বাড়ছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বন্যাদূর্গত এলাকাসমূহে ত্রাণ তৎপরতা কমে আসছে। বন্যায় ঘরবাড়ী হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোকে সরকারীভাবে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ১ম কিস্তিতে সিলেটে মাত্র ১০ হাজার মানুষ পাচ্ছেন এই অনুদান।
এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে জেলায় বন্যায় ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৩টি পরিবারের ২৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩৩ জন সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৪০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। সরকারী ও বেসরকারী সাহায্যের দিকে চেয়ে আশা নিরাশার দোলাচলে রয়েছেন বন্যাদূর্গত এলাকার মানুষ।
অপরদিকে, সিলেট জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ৫ কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা করে ৫ হাজার পরিবারকে সোমবার থেকে এই অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে।
এদিকে সোমবার বিকেলে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে একদিনের ব্যবধানে কমে ১৩.১৭ থেকে ১৩.১০ মিটারে অবস্থান করছে। এই সময়ে সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে ১০.৫২ মিটার থেকে ১০.৪৯ মিটারে অবস্থান করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগীয় অফিসের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, সিলেটের দুয়েকটি পয়েন্ট ছাড়া অধিকাংশ পয়েন্টে বন্যার পানি কমছে। তবে তা খুব ধীরগতিতে। রোববার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়া সত্তেও পানি কমা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সোমবার বিকেলে দেখা গেছে, নগরীতে সুরমা নদীর পানি উপচে খাল ও ছড়া হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যে পানি প্রবেশ করেছিল, সেই এলাকাগুলোর মধ্যে অধিকাংশ এলাকা থেকে ইতোমধ্যে পানি নেমে গেছে। নগরীতে আর কোন বাসাবাড়ীতে এখন পানি নেই বলেই জানাগেছে। তবে নগরীর দক্ষিণ সুরমার কয়েকটি মহল্লার সড়কে মঙ্গলবার সকালেও পানি ছিল। নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার ডি ব্লকের ভেতরে এখনো পানি জমে আছে। এ ছাড়া উপশহরের সি ও এ ব্লকে এখনো পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। তেররতন এলাকায় পানি নেমে গেলেও কিছু বাসাবাড়ী এখনো স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় রয়েছে।