সীমান্ত হত্যা, পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে: মোমেন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ষষ্ঠ যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠক মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে সীমান্ত, ঝুলে থাকা তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন করোনা প্রতিরোধক ভ্যাকসিন, বিমান চলাচল, ভিসা, ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প পর্যালোচনাসহ দ্বিপাক্ষিক সকল ইস্যু আলোচনা হয়।

 

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও দৃঢ়। কিন্তু সীমান্ত হত্যা বা পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের মতো কিছু বিষয় এই সম্পর্কের ওপর আঘাত করে। তিনি বলেন, আমরা দুই পক্ষ একমত হয়েছি যে সীমান্তে কেউ যাতে মারা না যায়। যেসব অঞ্চলে মারা যায় সেখানে যৌথভাবে মনিটরিং করবো। এটা আমাদের জন্য লজ্জার, ভারতেরও জন্য লজ্জার। আমাদের মধ্যে যে দৃঢ় সম্পর্ক, সেটি একজন মারা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, আমরা ভারত থেকে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনি। যেমন পেঁয়াজ এবং সেটি হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারের ওপর পড়ে। এই ভার্চুয়াল বৈঠকে নয়াদিল্লি থেকে সহ-সভাপতিত্ব করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

Manual8 Ad Code

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ডিসেম্বরে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকে কি হবে সেটি এখনো ঠিক হয়নি। আমরা সম্মত হয়েছি দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। এখন আমরা প্রস্তুতি নেবো।

Manual2 Ad Code

একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায় জেসিসি বৈঠকে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিস্তার ব্যাপারে নয়াদিল্লির পূর্ব প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে বলে জানান। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে আমরা দুই পক্ষ সম্মত হয়েছি। আমরা জোর দিয়েছি এটির বিষয়ে। বাকি আরো ছয়টি নদীর মীমাংসা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং তারা এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে।যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক ২০১০ সালে হয়েছিল এবং এটি দ্রুত হবে। উভয় পক্ষ পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত শেয়ার করবেন।

 

ভারতের ঋণে এ পর্যন্ত গৃহীত ৪৬টি প্রকল্পের মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে ১৪টি। মোট ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছাড় হয়েছে ১০ শতাংশ। এই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও ভারতের হাই কমিশনারের সমন্বয়ের গঠিত কমিটি অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।

Manual8 Ad Code

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় একে-অপরের সহযোগিতার বিষয়ে মোমেন বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে যখনই টিকা বের হবে তখনই সেটি সংগ্রহ করা এবং যে আগে তৈরি করবে তার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করবো। শুধু চীন ও ভারত নয়, বাংলাদেশ অন্য দেশ, যেমন- রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের টিকা সংগ্রহ এবং বাংলাদেশে উৎপাদন করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ভিসার মেয়াদের পরে বাংলাদেশি মুসলিমরা ভারতে অবস্থান করলে ২০০ শতাংশ জরিমানাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে কনস্যুলার বৈঠক নভেম্বরে হবে। সহসাই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু করতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code