

ডেস্ক রিপোর্ট : ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়, শিশুদের ওপর ভয়াবহ সহিংসতা এবং জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশকে উচ্ছেদ করে ফেলা- সব মিলিয়ে যুদ্ধবিধস্ত সুদানের সংকট হলো ২০২৫ সালের ‘বিশ্বের সবচেয়ে অবহেলিত সংকট’। মূলত দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিবেক কিংবা বিশ্বমিডিয়া কেউই ততটা কথা বলছে না।
২২টি শীর্ষস্থানীয় সাহায্য সংস্থার সমন্বয়ে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। উত্তরদাতাদের এক তৃতীয়াংশই সুদানের নাম উল্লেখ করেছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মিয়ানমার, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল এবং মোজাম্বিকসহ আরও কয়েকটি ‘উপেক্ষিত’ সংকটের কথা তুলে ধরেছেন।
স্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার প্রায় সমান- সুদানের প্রায় ৩ কোটি মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, গুদামগুলো প্রায় খালি হয়ে গেছে, সাহায্য কার্যক্রম বিপর্যয়ের মুখোমুখি। দুটি বিশাল শহরে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
সেভ দ্য চিলড্রেনের মানবিক পরিচালক আবদুর রহমান শরীফ বলেছেন, ‘সুদান সংকট প্রতিদিন প্রথম পৃষ্ঠার খবর হওয়া উচিত।’তিনি বলেন, ‘শিশুরা স্পষ্ট দৃষ্টিতে দুঃস্বপ্ন দেখছে, তবুও বিশ্ব লজ্জাজনকভাবে এড়িয়ে চলছে।’
এদিকে, জরিপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত হিসেবে বিবেচিত গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর (ডিআরসি) সংকট দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সুদান কিছু মিডিয়ার মনোযোগ পেলেও আবদুর রহমান শরীফ বলছেন, বিপর্যয়ের প্রকৃত মাত্রা ‘প্রায়শই দৃষ্টির বাইরে এবং জানার বাইরে’ রয়ে গেছে।
জাতিসংঘও সুদানকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকট বলে অভিহিত করেছে। কিন্তু ৪.১৬ বিলিয়ন ডলারের আবেদনের অর্থায়ন মাত্র এক তৃতীয়াংশ জোগাড় হচ্ছে|
অনেক সাহায্য সংস্থা বলেছে, মানবিক চাহিদা বৃদ্ধি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দাতারা সাহায্য কমিয়ে দিয়েছে। অক্সফামের মানবিক পরিচালক মার্তা ভালদেস গার্সিয়া বলেন, ‘মনে হচ্ছে মানবতা থেকে বিশ্ব মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’