সেনা অভিযানে মিয়ানমারের সাইবার স্ক্যাম সেন্টার ধ্বংস, কর্মীরা পালালো থাইল্যান্ডে

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : মিয়ানমার সামরিক বাহিনী একটি বড় অনলাইন প্রতারণা সেন্টার বন্ধ করে দেয়ার পর দেশটি থেকে থাইল্যান্ডে পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা এখন অনেক কমে গেছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫শ’ জন মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার থাই সেনাবাহিনীর এক আঞ্চলিক কমান্ডার এ তথ্য জানিয়েছেন। থাই কর্মকর্তারা ও স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা জানান, ‘কেকে পার্ক’ নামের এ স্থাপনাটিতে বড় একটি সাইবার অপরাধচক্র পরিচালিত হচ্ছিল। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সেখানে অভিযান চালায়। সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্তবর্তী অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ জুয়া ব্যবসা দমন করা। কেন্দ্রটি মিয়ানমারের মায়াওয়াদ্দি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত। এটি থাইল্যান্ডের মে সট শহরের বিপরীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সীমান্ত নগর। এলাকাটি পুরোপুরি মিয়ানমার সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয়। সেখানে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ করে নিয়েছে কারেন জাতিগোষ্ঠীর একটি স্থানীয় মিলিশিয়া দল, যারা বর্ডার গার্ড ফোর্স নামে পরিচিত।

Manual2 Ad Code

সীমান্তের থাই দিকের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে কয়েক রাত ধরে তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং ‘কেকে পার্ক’ কেন্দ্র থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা ইউনিট নরেসুয়ান টাস্ক ফোর্স গতকাল সোমবার জানায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র বর্ডার গার্ড ফোর্স যৌথভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কেকে পার্কের কিছু অংশ ধ্বংস করেছে। এসব বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতেও ক্ষতি করেছে। এ টাস্ক ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল মাইট্রি চুপ্রিচা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, মঙ্গলবার চারটি দেশের মোট ২৫ জন থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন। তবে তিনি তাদের জাতীয়তা প্রকাশ করেননি।

Manual4 Ad Code

যারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছেন তাদের বেশিরভাগই ‘কেকে পার্ক’র কর্মী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা অনেকেই সেখানে জোরপূর্বক বা চাপের মুখে কাজ করতেন। থাইল্যান্ডের তাক প্রদেশের প্রশাসন তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আশ্রয় নেয়া ব্যক্তিরা মোট ২৮টি দেশের নাগরিক, যার মধ্যে থাইল্যান্ডও রয়েছে। তারা মানব পাচারের শিকার কিনা তা এখন যাচাই করা হচ্ছে। এরপর তা প্রমাণিত হলে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। ওই দেশগুলোর মধ্যে আছে ভারত, চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ইথিওপিয়া ও কেনিয়া। সাইবার প্রতারণা কার্যক্রম চালানোর জন্য মিয়ানমার বেশ কুখ্যাত, এখানে অনেক কর্মীকে কাজের নাম করে ‘বৈধ চাকরি দেব বলে’ অন্য দেশ থেকে ছল করে আনা হয়। পরে তাদের আটক করে জিম্মি রেখে অপরাধ করতে বাধ্য করা হয়। মিয়ানমারের স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমগুলো, যেমন অনলাইন সার্ভিস দ্য ইরাওয়ার্দি রিপোর্ট করেছে যে, ‘কেকে পার্ক’-এ অভিযান চালানোর পরেও মায়াওয়াদ্দি অঞ্চলে অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রম চলছে। কাম্বোডিয়াও এমন অপারেশনের একটি বড় কেন্দ্র। গত ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য একটি বড় কাম্বোডিয়ান সাইবার স্ক্যাম গ্যাংয়ের সংগঠকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং নিউইয়র্কের একটি ফেডারাল কোর্টে ওই গ্যাংটির ‘রিংলিডার’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সূত্র : এপি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code