

নিউজ ডেস্কঃ
২০১০ সাল। ঐতিহ্যবাহী বরিশাল জিলা স্কুলে ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া ছোট্ট তাহসিন নতুন কিছু করার কথা ভেবে বসলো। এমন কী করা যায় যার মধ্যে একটা স্বাতন্ত্র্য থাকবে, আবার থাকবে নতুনত্ব। এমন ভাবনা থেকে পত্রিকা পড়তে প্রচন্ড আগ্রহী তাহসিন সিদ্ধান্ত নেয়, শিশু-কিশোরদের জন্য পত্রিকা লিখবে সে। ৮ ক্লাস পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর পত্রিকা লেখার শখে বাকিরা তেমন একটা সায় দেয়নি। একজন মাত্র সহপাঠীর সাথে মিলে সাহস করেই তাহসিন ছাপানো শুরু করে মাসিক ‘লাল-সবুজ’ পত্রিকা।
শুরুতে এ-৪ সাইজ কাগজে মাত্র দুই পাতা করে ছাপানো সেই ‘লাল-সবুজ’ পত্রিকাই পরবর্তীকালে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয় এবং এর মুদ্রণের কাজও শুরু হয়। পাঠকশ্রেণীর কাছে এটি দ্রুতই বেশ সমাদৃত হয়ে যায় এবং দিনদিন এই জনপ্রিয়তা বাড়তেই থাকে। শুধুই শিশুতোষ গল্প-কবিতার সমারোহ নয়, একসময় শিশু-অধিকারের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এখানে রচনা ছাপানো শুরু হয়।
পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমে অবদান রাখতে আগ্রহী, এমন সমমনা একটি স্বেচ্ছাসেবক শ্রেণিও তৈরী হয়ে যায়। সবার আগ্রহ-উদ্দীপনায় এসকল সামাজিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে ২০১৫ সালে তাহসিন উদ্দিন ‘লাল-সবুজ ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ২০১৬ তে ‘লাল-সবুজ সোসাইটি’ নামে যার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও তিনি।
‘লাল-সবুজ সোসাইটি’ মূলত একটি তরুণ-নির্ভর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যারা ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০’ এর আওতায় ৬ টি সুস্পষ্ট অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৩, ৪, ৫, ৬, ১৩ এবং ১৭ অর্জনে বরিশাল সহ বাংলাদেশের ২৪ টি জেলা শহরে ‘লাল-সবুজ সোসাইটি’র কার্যক্রম চলমান। সম্প্রতি তাঁর এই সংগঠন ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও মানসিক স্বাস্থ্য’ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পে ‘মক কপ-২৬’ কর্তৃক একটি অনুদানও গ্রহণ করেছে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাহসিন বাংলাদেশকে নিয়মিতভাবেই প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০১৩ সালে ইউনিসেফ থেকে শিশু সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে ‘মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন তাহসিন। ২০১৯ এ ইউনিসেফের তত্ত্বাবধানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তরণদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত ‘ইউএন ইয়ুথ ক্লাইমেট সামিট’ এ ১৫০টি দেশের তরণদের মধ্যে তাহসিন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। একই মঞ্চে বিশ্বব্যাপী পরিচিত পরিবেশকর্মী ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী জনপ্রিয় মুখ গ্রেটা থানবার্গের সাথেও আলোচনা সভায় বক্তব্য রেখেছেন।
তাহসিন বাংলাদেশের পক্ষে ইউনিসেফ দক্ষিণ এশিয়া ঘোষিত ‘ইয়ুথ ক্লাইমেট চেইঞ্জ চ্যাম্পিয়ন’ নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিসেফের ‘জেনারেশন আনলিমিটেড’ প্রকল্পের ব্যানারে পরিচালিত ‘ইয়াং পিপল’স অ্যাকশন টীম, ওয়াইপ্যাক্ট’ এরও বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত আছেন।
তাহসিনের মতে, ‘যেহেতু বাংলাদেশে এখন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বেশি এবং তার বেশিরভাগই তরুণ, তাই তরুণদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষম করা গেলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসা সম্ভব।’