

স্মৃতিবিন্দু চাকমা জুরাছড়ি (রাঙ্গামাটি) :
রাঙ্গামাটি পার্বত্যজেলা প্রত্যন্ত জুরাছড়ি উপজেলার দূর্গম বালিশ পাড়ায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় গ্রামের পূর্ব পাড়ায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানির সরবরাহ সহ বালিশ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জুরাছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা জানান,আজ আমি অত্যন্ত খুশি এই এলাকার জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের স্ব উদ্যোগে এত বড় একটি মহৎ কাজের জন্য আপনাদের অনেক অভিনন্দন জানাই। আনন্দ পাড়া হইতে বরকল ইউনিয়নের এই রাস্তাটি করা হলে দুই উপজেলার জনগণ অত্যন্ত সুফল ভোগ করবে,বরকল ইউনিয়নের আইমাছড়া গ্রামের জনগণ বেশীভাগই জুরাছড়ি উপজেলার হাতবাজারে নিয়মিত কাচাঁদ্রব্যদি বিক্রয় করে থাকেন।তাই বালিশ পাড়া জনগণ আদা হলুদ কলা ইত্যাদি বিক্রয়ের জন্য নিজেদের সমিতির জমানোর টাকা দিয়ে গাড়ী চলাচলের ক্ষেত্রে স্ব উদ্যোগে প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করে যাচ্ছেন।
সুরেশ কুমার চাকমা আরো জানান,বিগত ২০১৩ সালে এই রাস্তাটির জন্য উন্নয়ন বোডে প্রকল্প দাখিল করা হলে একপর্যায়ে চুড়ান্ত হলে তা রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্থগিত হয়ে যায়,তাই আগামীতে এই প্রকল্পের জন্য আবারো নতুন করে উন্নয়ন বোর্ড কাছ থেকে বরাদ্ধ চাওয়া হবে,তবুও উপজেলা পরিষদ থেকে আপনাদের কল্যাণে যতচুকু সম্ভব বরাদ্ধ রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
২নং বনযোগী ছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকম সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন,এই এলাকা যোগাযোগ ব্যবস্থা ত্বরানিত করা হলে এখানকার জনগণ অর্থনৈতিক ভাবে স্বালম্ভী হবে,শিক্ষার ক্ষেত্রে বহুদুর এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,যে এলাকায় যত বেশী শিক্ষিত সে এলাকা ততই উন্নত তাই আমাদের শিক্ষার প্রতি আরো বেশী মনোনিবেশ হওয়ার আহব্বান করেন।
ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা বলেন,শিক্ষা,কৃষি,যোগাযোগ এই তিনটি উন্নয়ন ত্বরানিত করতে না পারলে আমাদের কখনো এগিয়ে য়াওয়া সম্ভব নয়, তাই সকল বাধাঁ অপেক্ষা করে আমাদের সামনে এগুতে হবে,আপনাদের এক্যবদ্ধ দেখে সত্যি আমি আনন্দিত,কারণ আপনাদের স্ব উদ্যোগে যোগাযোগ ব্যবস্থ্যা ত্বরান্তি করাতে আমি সত্যি গর্বীত,এই বালিশ পাড়া এলাকা উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা সবসময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি,কারণ এই এলাকার জনগণ অত্যন্ত সৎপথে অন্বেষণ করেন।
বালিশ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভুমিদাতা প্রনয়ন চাকমা বলেন, ২০২১ সালে আগে এখানকার মানুষ বাংলাভাষা পড়তে পারতোনা ,আমি খুবই কষ্ট করে পড়াশুনা করে বিগত সময়ে উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় এখানকার ছেলে মেয়েরা অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন কলেজে অধ্যয়নরত রয়েছেন। তাই যোগাযোগ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগীতা পেলে আরো শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরে আলোচনা শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস ও এলাকাবাসীকে জেনারেটর প্রদান করেন অতিথি বৃন্দ। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন,প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা,দুমদুম্যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শান্তিরাজ চাকমা,বনযোগীছাড়া ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড মেম্বার হেমন্ত চাকমা সহ প্রথাগত হেডম্যান কার্বারীগণ।