স্হানীয়দের অভিযোগ— স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দ্বায়িত্বে অবহেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের সামনে বর্জ্যের স্তূপ, পুকুরে কচুরিপানা, ডেঙ্গুর শঙ্কা

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

Manual5 Ad Code

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই জমে আছে বর্জ্যের স্তূপ। হাসপাতালসংলগ্ন পুকুরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কচুরিপানা। কোথাও কোথাও জমে আছে স্থির পানি। এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Manual3 Ad Code

৫০ শয্যাবিশিষ্ট বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সামনেই বর্জ্যের স্তূপ ও পুকুরে কচুরিপানার এমন অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন আমির উদ্দিন ও আলফু মিয়া বলেন, ‘হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার সামনেই ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। পুকুরে কচুরিপানা জমে মশা জন্মানোর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা রোগী নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসি। এখানকার পরিবেশই যদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, পুকুর পরিষ্কার ও মশক নিধনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’

Manual3 Ad Code

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আশপাশে দীর্ঘদিন এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম না থাকায় মশার উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Manual7 Ad Code

স্থানীয় কয়েকজন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী যোগদানের পর পুকুরটি সেচ দিয়ে মাছ ধরার পর থেকেই সেখানে কচুরিপানা জমতে শুরু করে। দীর্ঘদিন কচুরিপানা পরিষ্কার না করায় পুকুরের বিভিন্ন অংশে পানি স্থির হয়ে আছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের অনুকূল হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, ‘গত মাসে পরিষ্কার করিয়েছি। আবারও পরিষ্কার করাব।’

তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাঝে মধ্যে পরিষ্কার করলেই হবে না। হাসপাতালের আশপাশের বর্জ্য দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি পুকুরের কচুরিপানা নিয়মিত পরিষ্কার এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বলে দিচ্ছি, পরিষ্কার করানোর জন্য।’

স্থানীয়দের প্রশ্ন, রোগীদের সুস্থ করে তুলতে যেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতালের সামনেই যদি বর্জ্যের স্তূপ ও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে রোগী ও স্বজনদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কীভাবে কমানো হবে?

Manual8 Ad Code

দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার এবং হাসপাতাল এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code