হবিগঞ্জের আজমেরিগঞ্জে পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code
.
হবিজঞ্জ প্রতিনিধিঃ আজমিরীগঞ্জে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে পশুর হাট। ঐতিহ্যবাহী আজমিরীগঞ্জ গরুর হাট ময়দানে এই হাট বসছে প্রতি রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (১৯ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন রকমের কোরবানির পশু (গরু, মহিষ,ছাগল) বিক্রেতারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন এক সময়ের ভাটী বাংলার রাজধানী খ্যাত আজমিরীগঞ্জের ঐতিহাসিক গরুর হাটে। বিভিন্ন দামের গরু নিয়ে হাটে এসেছেন বিক্রেতারা। এসেছেন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতারাও।
এক বিক্রেতার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, তিনি এই হাটে সর্বোচ্চ দামের একটি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। দাম হাঁকাচ্ছেন চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। তার এ গরুর পাশাপাশি আরেকটি গরু এসেছে, যার দাম হাঁকানো হচ্ছে চার লক্ষ টাকা।
করোনা পরিস্থিতির কারনে তুলনামূলক ক্রেতা কম আসায় অনেকটাই আশাহত হাটে আসা বিক্রেতারা। তবে শেষের দিকে বাজার কিছুটা জমতে পারে বলেও মনে করছেন বিক্রেতারা। খাজনা আদায়ের বিষয়ে ও সন্তোষ প্রকাশ করেন ক্রেতা, বিক্রেতারা।
কথা হয় সু্নামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ক্রেতা আমজাদ হেসেনের সাথে। তিনি আজমিরীগঞ্জে ১৯৯১ সালে বাবার সাথে প্রথম আসেন গরু কিনতে। তখন উনার বয়স মাত্র ১১ বছর। শখ করে বাবার হাত ধরে এসেছিলেন কোরবানির গরু কিনতে। কেনার জন্য গরু দেখছেন তিনি। বললেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম কম। হাতের নাগালের মধ্যেই রয়েছে দাম।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হাট পরিদর্শন করেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নবাগত নির্বাহী অফিসার মতিউর রহমান খাঁন। প্রথমে তিনি হাটের মাইকে ক্রেতা, বিক্রেতার উদ্দেশ্যে বলেন –ঈদুল আযহা মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় একটি আনন্দ উৎসব। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারনে এই ঈদের খুশি যেনো কারো পরিবারে দুঃখের কারণ না হয়। সবাইকে তিনি সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয় -বিক্রয় করার জন্য সচেতনতা মূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এর পর তিনি হাটে আসা ক্রেতা -বিক্রেতার মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মতিউর রহমান খাঁন বলেন–ঈদ আনন্দ যেনো কারো পরিবারে বিষাদ না হয়ে আসে এর জন্য সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখছে। সেই সাথে ক্রেতা, বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ সবাই সতর্ক রয়েছেন। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের লক্ষে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত কাজ করে যাবে।
তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার আর্থিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নেবেন।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code