হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যে রাত

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: আজ খতমে তারাবিতে পবিত্র কোরআনের সুরা নাবা, নাজিয়াত, আবাসা, তাকভির, ইনফিতার, মুতাফফিফিন, ইনশিকাক, বুরুজ, তারিক, আলা, গাশিয়া, ফাজর, বালাদ, শামস, লাইল, দুহা, ইনশিরাহ, ত্বিন, আলাক, কদর, বাইয়িনা, জিলজাল, আদিয়া, কারিয়া, তাকসুর, আসর, হুমাজা, ফিল, কোরাইশ, মাউন, কাউসার, কাফিরুন, নসর, লাহাব, ইখলাস, ফালাক ও নাস তিলাওয়াত করা হবে। ৩০তম পারা পড়া হবে। সুরা বাইয়িনা, জিলজাল, নাসর, ফালাক ও নাস ছাড়া সব কটি সুরা মক্কায় অবতীর্ণ। আজকের তারাবিতে একাত্ববাদ, রিসালাত, আখিরাত, মৃত্যুর পরের জীবন, কিয়ামত, জান্নাত-জাহান্নাম, অপরাধীদের পরিণাম, অবিশ্বাসীদের আফসোস, ফেরাউনের পরিণতি, উম্মে মাকতুমের ঘটনা, কিরামান-কাতিবিন তথা লিপিকার ফেরেশতাদের কাজ, ওজন, পরিখা খননকারীদের গল্প, কারও অগোচরে দোষ চর্চা, দুনিয়াপ্রীতি, হস্তি বাহিনীর গল্প, ব্যবসা, নেয়ামত, মুমিনের গুণাবলি, কাফেরের দোষক্রটি, নবীজিকে (সা.) হাউসে কাউসার প্রদান, নামাজ, কোরবানি, ইমানের সঙ্গে কুফরের সংমিশ্রণ নেই, তাসবিহ, ইস্তিগফার, আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিলের পরিণতি, আল্লাহর পরিচয়, সৃষ্টির সবকিছুর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে।

ঘুমানোর জন্য রাত

সুরা নাবার ৯ থেকে ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্রামের জন্য নিদ্রা দিয়েছি, তোমাদের জন্য রাতকে করেছি আবরণস্বরূপ, আর দিনকে বানিয়েছি তোমাদের কাজের জন্য।’ আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত ঘুম। রাতের ঘুম শরীরের ক্লান্তি দূর করে, মনে প্রশান্তি আনে এবং কাজে শক্তি বাড়ায়। কিন্তু আজকাল অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। এটি শুভ লক্ষণ নয়। স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। প্রয়োজনের তাগিদে রাত জাগার অনুমোদন করেছে ইসলাম। তবে ফজর নামাজ কাজা হবে, এমন শঙ্কা থাকলে রাত জাগা যাবে না। রাসুল (সা.) এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর না ঘুমিয়ে গল্পগুজব করা অপছন্দ করতেন। (বুখারি, হাদিস: ৫৯৯)

Manual3 Ad Code

কিয়ামতের বয়ান সুরা নাজিয়াতে

৪৬ আয়াতবিশিষ্ট সুরা নাজিয়াত কোরআনের ৭৯তম সুরা। কিয়ামতের বিভিন্ন অবস্থা, এর ভয়াবহতা, পাঁচ ধরনের ফেরেশতার কসম, আল্লাহর সৃষ্টি, কারা জান্নাতে যাবে, কাদের ঠিকানা হবে জাহান্নামসহ অন্যান্য বিষয়ের আলাপ রয়েছে।

অন্ধ সাহাবির গল্প

রাসুল (সা.) তখন মক্কায়। অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) রাসুল (সা.)-এর কাছে এলেন, সে সময় তিনি কুরাইশের নেতৃস্থানীয় কয়েকজনকে দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। অন্ধ সাহাবির আগমনে রাসুল একটু নাখোশ হলেন। তাঁর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করলেন না। আল্লাহর এ কাজ পছন্দ হয়নি। এ কাহিনির ভিত্তিতে আল্লাহ নাজিল করেন সুরা আবাসা। এরপর উম্মে মাকতুমকে তাঁর কাছে আসতে দেখলেই তিনি এগিয়ে গিয়ে নিয়ে আসতেন। বলতেন, ‘তিনি তো এমন মানুষ, যার জন্য আমাকে সতর্ক করা হয়েছে।’

সুরা তাকভির ও ইনফিতারে আল্লাহর একত্ববাদ, কিয়ামতে কেউ কারও উপকারে না আসা, কোরআন ও নবীজির সত্যতা, উপদেশ, লিপিকর ফেরেশতা কর্তৃক মানুষের আমল লেখা ও হাশরের মাঠে হিসাব-নিকাশের আলোচনা রয়েছে।

সুরা মুতাফফিফিনের ১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, যারা মাপে কম দেয়, তাদের জন্য দুর্ভোগ। ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে ওজনে কমবেশি করা বা ঠকানোর মাধ্যমে জীবিকা উপার্জন একটি জঘন্য অপরাধ। বিশেষভাবে পরিমাপ ও ওজনে অসততার কারণে শোয়াইব (আ.)-এর জাতির ওপর আজাব এসেছিল। ওজনে কম দেওয়া থেকে বেঁচে থাকা ইমানের অংশ। ওজনে কম দেওয়া ভয়াবহ পাপ।

Manual7 Ad Code

সুরা ইনশিকাক, বুরুজ, তারিক, আলা, গাশিয়া, ফাজর, বালাদ, শামস, লাইল, দুহা, ইনশিরাহ, ত্বিন, আলাকে কিয়ামতের দিন মানুষের কৃতকর্মের ফল পাওয়া, কারা সৌভাগ্যবান, পরিখা খননকারীদের কাহিনি, কোরআনের মহত্ত্ব ও বড়ত্ব, মানুষের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতা নিযুক্ত করা, মানুষ সৃষ্টির মূল উপাদান নিয়ে গবেষণার আদেশ, অবিশ্বাসীদের প্রতি সতর্কবার্তা, আল্লাহর গুণকীর্তন, উপদেশ, সৃষ্টিজীবে আল্লাহর পরিচয়, ধ্বংসপ্রাপ্ত বিভিন্ন জাতির প্রতি ইঙ্গিত, দুঃখ-কষ্ট জীবনের অংশ, অহংকারী কাফের, নেক আমল, ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ, তাকওয়া, আমল অনুযায়ী ফলাফল, নবীজির প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি, মানুষের সৌন্দর্য, পড়া, সম্পদের কারণে মানুষের বিপদ ইত্যাদির আলোচনা রয়েছে।

হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যে রাত

সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রাত হলো লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত। কদরের রাতকে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে কোরআন ও হাদিসে। আল্লাহ তাআলা এ রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেছেন। কোরআনুল কারিম লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে আনা হয় এ রাতে। এ রাতে ফজর পর্যন্ত আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। আল্লাহ তাআলা সুরা কদরে কদরের রাতের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা দিয়েছেন।

সুরা বাইয়িনা, জিলজাল, আদিয়া, কারিয়া ও তাকাসুরে নবীজির (সা.)-রিসালাত ও নবুওয়তে কিতাবিদের অবস্থান, একনিষ্ঠতা, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসীদের পরিণাম, কিয়ামতের আগের ভূমিকম্প, মানুষের হিসাব-নিকাশ, মানুষের অকৃতজ্ঞতা, কিয়ামতের ভয়াবহতা, দুনিয়ার প্রতি মানুষের অতিরিক্ত আসক্তি ইত্যাদি বিষয় রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত নয় যে মানুষ

৩ আয়াতবিশিষ্ট সুরা আসর পবিত্র কোরআনের ১০৩তম সুরা। সুরা আসরে মানুষের সাফল্য ও কল্যাণ এবং তার ধ্বংস ও সর্বনাশের পথ বর্ণনা করা হয়েছে। আসর অর্থ কাল বা সময়। এ সুরার শুরুতে আল্লাহ শপথ নিয়েছেন সময়ের। দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেন, নিঃসন্দেহে সব মানুষই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে চারটি গুণের মানুষ এ ক্ষতি থেকে বেঁচে যাবে—এক. ইমান। দুই. সৎকাজ। তিন. পরস্পরকে সত্যের উপদেশ ও চার. পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেওয়া।

সুরা হুমাজা থেকে নাসের বিষয়বস্তু

Manual6 Ad Code

সুরা হুমাজা, ফিল, কোরাইশ, মাউন, কাউসার, কাফিরুন, নসর, লাহাব, ইখলাস, ফালাক ও নাসে মানুষের মন্দ স্বভাব, হস্তি বাহিনীর কাহিনি, কুরাইশদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ, অবিশ্বাসী ও কপটদের অবস্থা, নবীজিকে হাউসে কাওসার দান, ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য, মক্কা বিজয়, আবু লাহব ও তার স্ত্রীর পরিণতি, আল্লাহর পরিচয়, সৃষ্টির সবকিছুর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে প্রার্থনার বর্ণনা রয়েছে।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code