হাতে হাতে বই পৌঁছে দেন তিনি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: নামাইলের পর মাইল ছুটে চলেন মাধুরী বণিক। নিজের চলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্বল না থাকলেও অন্যের অধিকার আদায়ে ও সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাজ করেন এমন মানুষের সংখ্যা একেবারে যে নেই তা নয়। আর সেই ভাবনা থেকে যারা সাধ আর সাধ্যের মধ্যে থেকে চেষ্টা করেন অন্যের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে-তারাই প্রকৃত মানুষ। এমনই একজন মানুষ মাধুরী বণিক। যিনি মানুষের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে বেছে নিয়েছেন বই। বই হোক প্রকৃত বন্ধু, বই জ্ঞানের আলো-এ মূল মন্ত্র বুকে ধারণ করে বাড়ি বাড়ি বই পৌঁছে দেন মাধুরী বণিক।
তার জন্ম ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার পানালিয়া গ্রামে। ব্যক্তি উদ্যোগে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে বই পৌঁছে দেওয়ার কাজই যেন ষাটোর্ধ্ব এ নারীর জীবনের ব্রত। পড়ুয়ারা মনে করেন মাধুরী বণিকের মতো মানুষ থাকলে সমাজ থেকে গোঁড়ামি আর কুসংস্কার দূর করা সম্ভব।

Manual4 Ad Code

আজ থেকে ১৮ বছর আগে অর্থাৎ ২০০২ সালে ‘জীবনের জন্য বই পড়া’ এ ভাবনা থেকে মাত্র ৫টি বই নিয়ে মাধুরী বণিক ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পাঠাগারের শুভ সূচনা করেছিলেন। তখন তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের উদ্ধুদ্ধ করতে তাদের হাতে হাতে তুলে দিতেন বই। নারীরা তার কর্মস্পৃহা দেখে অভিভূত হন, আর তাদের অনুরোধেই ‘জীবনের জন্য পড়া’ এ নাম থেকে সরে এসে তার বই পড়া কর্মসূচির নাম দেন ‘মায়েদের জন্য বই পড়া’।

Manual5 Ad Code

মাধুরীও বিশ্বাস করেন, মায়েরা জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হলে সন্তানরাও একই সঙ্গে আলোকিত হয়ে উঠবে। এতে আলোকিত হবে সমাজ এবং রাষ্ট্র। সেই থেকে এ নামেই চলছে পাঠাগারের কার্যক্রম। হাতেগোনা মাত্র ৫টি বই দিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে তার সংগ্রহে রয়েছে ২০০টির বেশি বই। এসব বইয়ের মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত মনীষীদের জীবনী, গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছড়া, গবেষণাধর্মী ও শিশুদের পাঠ উপযোগী বিভিন্ন বই। তবে পাঠক অনুযায়ী এ বইয়ের সংখ্যাকে অপ্রতুল মনে করছেন তিনি।

Manual3 Ad Code

মাধুরী বণিকের পাঠক রয়েছে উপজেলার সমসাবাদ, পানালিয়া, কাসেমপুর, নবাবগঞ্জ ও সুরগঞ্জ এলাকায়। সপ্তাহে তিন দিন তিনি পাঠকের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বই দিয়ে আসেন এবং আগের দেওয়া বই ফেরত নিয়ে আসেন। আর এ জন্য কোনো ফি গুনতে হয় না পাঠককে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code