হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৪২ minutes ago

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ভাটারায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নির্মাণ ব্যবসায়ী আবদুল মালেকের ছেলে শিহাব উদ্দিন মালেক সাগরের (৩৬) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ তুলে প্রধান আসামি মাহজাবিন ইসলাম রিয়ার দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন স্বজনেরা। রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহত সাগরের ভাই সাইফুদ্দিন মালেক। এ সময় সাগরের বাবা আবদুল মালেকসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাগরের চাচা আনোয়ার হোসেন সিপিএ, ফেডারেল অ্যাটর্নি রেমন্ড আব এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক এজেন্ট মাইকেল ডোনোফোর।

Manual3 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে সাইফুদ্দিন মালেক অভিযোগ করেন, সাগরের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হানি ট্র্যাপে ফেলা হয়েছিল। গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় ভাটারার একটি অ্যাপার্টমেন্টের ফ্লোর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাগরের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। তিনি প্রথমে চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁ ব্যবসা এবং পরে ঢাকায় গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকায় অবস্থানকালে মাহজাবিন ইসলাম রিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সম্পর্কের অবনতি হলে সাগর চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি স্বজনদের।

Manual6 Ad Code

পরিবার জানায়, গত ১৯ আগস্ট জন্মদিন পালনের কথা বলে সাগরকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানান রিয়া। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ওই রাতে চট্টগ্রাম থেকে বিমানে ঢাকায় আসেন তিনি। পরদিন ২১ আগস্ট চট্টগ্রামে ফেরার জন্য তাঁর ফিরতি টিকিটও কাটা ছিল। কিন্তু এর আগেই ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাইফুদ্দিন মালেক জানান, এ ঘটনায় ২৫ আগস্ট ভাটারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তাঁরা। মামলাটির নম্বর ৪৪। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার দুই মাস পার হলেও প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি; বরং তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রিয়াকে বটি হাতে সাগরকে হত্যার হুমকি দিতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

Manual4 Ad Code

নিহতের ভাই আরও দাবি করেন, ২৩ আগস্ট পুলিশের সূত্রে তাঁরা জানতে পারেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় অ্যাপার্টমেন্টে কেয়ারটেকার মুসা ও এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী উপস্থিত ছিলেন। এসব তথ্যের পরও প্রধান আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের আশঙ্কা, প্রধান আসামি জামিনে থাকায় তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মামলাটি দ্রুত পিবিআইতে হস্তান্তর, ঘটনাস্থলের আলামত সংরক্ষণ, কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান তাঁরা। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাগরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code