২২৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual5 Ad Code

‘বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে পায়রা নদীর উপর ১৪৭০ মিটার দৈর্ঘ‌্যের পায়রা সেতু (লেবুখালী সেতু) নির্মাণ প্রকল্প’- এর অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রকল্পে মোট হবে ১১৭০ কোটি ছয় লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

 

রোববার অর্থনৈতিক সমন্বয় কমিটির বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এ তথ্য জানান।

 

Manual6 Ad Code

বৈঠকে এ প্রকল্পটিসহ মোট সাতটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ২২৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

 

রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠক চলাকালে অর্থমন্ত্রী জরুরী কাজে চলে গেলে বৈঠক শেষে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

Manual8 Ad Code

 

বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০১২ সালের ৮মে তারিখ এবং দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি ২৭/০২/২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। সেতুর নক্সা পরিবর্তন হওয়ায় সংশোধিত নক্সা অনুযায়ী অতিরিক্ত টেস্ট পাইল, টোল প্লাজা বরিশাল প্রান্তের পরিবর্তে পটুয়াখালী প্রান্তে হচ্ছে।

 

বরিশাল প্রান্তে ফেরিঘাট স্থানান্তরসহ কিছু অতিরিক্ত টেন্ডার/নন-টেন্ডার আইটেম যুক্ত হওয়ায় ভেরিয়েশন অর্ডার বাবদ অতিরিক্ত ১৪৭ কোটি ৮৪ লাখ এক হাজার ৭৭১ টাকা এবং সম্পাদিত চুক্তিমূল্য ১০২২ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৪ টাকা (ভ্যাট/আইটিসহ) সর্বমোট ১১৭০ কোটি ছয় লাখ ৫৫ হাজার ৪৪৫ টাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সংশোধিত চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব সিসিজিপি’র অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।

 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ‘নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় পরামর্শক ফার্মের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি স্বাক্ষরের একটি প্রস্তাবে অনুমোদনের জন্য বৈঠকে উপস্থাপিত হয়েছিল। কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে ১৭২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। জাপানের নিপ্পন কোই প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে।

 

কৃষি মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বাজেটে গম আমদানির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্যাকেজ-২ এর আওতায় ৫০ হাজার টন গম আমদানির লক্ষ্যে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করা হয়। সাতটি কোটেশন বিক্রি হলেও জমা পড়ে চারটি কোটেশন।

 

Manual2 Ad Code

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক পর্যালোচনা করে চারটি গ্রহণযোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে সুপারিশকৃত সর্বনিম্ন কোটেশনার সিঙ্গাপুর ভিত্তিক মেসার্স সুইস সিঙ্গাপুর ওভারসিস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহ করবে।

 

প্রতি টন ২৬৮.১৪ মার্কিন ডলার হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১৩ কোটি ৬২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয় হবে। কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছে।

 

Manual8 Ad Code

বৈঠকে নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০১৯ সময়ে অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে আমদানিকৃত মোগ্যাসের প্রিমিয়াম ও মূল্য (রেফারেন্স প্রাইস অনুযায়ী) অনুমোদনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ২০১৯ সালে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯/০৯/২০১৮ তারিখের সিসিইএ’র অনুমোদনক্রমে ৬০ হাজার টন (+১০%) মোগ্যাস (অকটেন ৯৫ আরওএন) ৫০ শতাংশ জি-টু-জি প্রক্রিয়ায় এবং ৫০ শতাংশ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আমদানি করে।

 

স্থানীয়ভাবে পেট্রোলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং জুলাই, ২০১৯ হতে সিএনজির মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে অকটেনের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে ৩০ হাজার টন (+১০%) মোগ্যাস আমদানির লক্ষ্যে সাতটি জি-টু-জি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটেশন আহ্বান করা হয়। তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মতামত পাওয়া যায়।

 

তাদের মধ্য থেকে বিদ্যমান প্রিমিয়ামে সম্মত একমাত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইন্দোনেশিয়ার পিটি.বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি) এর কাছ থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে নভেম্বর-ডিসেম্বর, ২০১৯ সময়ে ৩০ হাজার টন (+১০%) মোগ্যাস আমদানি করবে। এ জন্য ব্যয় হবে ১৫৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

 

বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রফেশনাল আউটসোর্সিং ট্রেনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস ফর আইটি/আটিইএস ইন্ডাস্ট্রি সংক্রান্ত সেবা ক্রয়ের বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় ১৫টি লটে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১০৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫১ হাজার টাকার চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এজন্য ব্যয় হবে ১০৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code