৬ বছরেও চালু হয়নি মিঠাপুকুর ইকোপার্ক

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

রুবেল ইসলাম, রংপুর
৬ বছরেও চালু হয়নি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ‘মিঠাপুকুর ইকোপার্ক’। জনগনের দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইকোপার্ক নির্মাণ হয়েছে শাল্টিগোপালপুরের শালবনে। কিন্তু ইকোপার্কটির কার্যক্রম চালু না হওয়ায় এলাকাবাসির মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শাল্টিগোপাপুর শালবনে ২শ ২৬ একর এলাকা জুড়ে ইকোপার্কটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৩ সালের ১২ আগষ্ট মাসে। ওই দিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদের কোষাধ্যক্ষ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ এইচএন আশিকুর রহমান ইকোপার্ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। উপজেলাবাসীর জন্য একমাত্র বড় বিনোদন কেন্দ্র এটি। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারীভাবে চাহিদাপত্র ধরা হয়েছে ১’শ কোটি টাকা। সামাজিক বন বিভাগের অর্থায়নে এ পর্যন্ত বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকোট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মিঠাপুকুর ইকোপার্কে ইকোট্যুরিজম উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে-বিশ্রামাগার এবং রান্নাঘর, পার্কিং এলাকা, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, গোলঘর, টিকেট কাউন্টার, প্রবেশদ্বার, নিরাপত্তারক্ষী কক্ষ, গণ শৌচাগার, পানির ট্যাংক এবং পানি সরবরাহ লাইন, পুরাতন বন বিশ্রামাগার, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ব্যারাক, পার্ক অফিস ভবন, ডিসপ্লে¬ মানচিত্র, আমব্রেলা সেড, স্পিনার এবং পাকা বেঞ্চ নির্মাণ। দু’ দফায় প্রায় এক কোটি টাকার বরাদ্দে ইতোমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে পার্ক অফিস ভবন, সামনের অংশের সীমানা প্রাচীর, টিকেট কাউন্টার, প্রবেশদ্বার, দোলনা, গণ শৌচাগার, পানির ট্যাংক, বিশ্রাম, প্রসাধনী ও পিকনিক স্পট, রান্নাঘর, পার্কিং এলাকা, গোলঘর, আমব্রেলা সেড ও পাকা বেঞ্চ। এছাড়া শালবনের মাঝখানে খনন করা হয়েছে ক্যানেল বিশিষ্ট পুকুর। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ অনুযায়ী পানি সরবরাহের জন্য ২টি মার্সিবল টিউবওয়েল নির্মাণ এবং প্রধান প্রবেশদ্বারে টিকেট কাউন্টারের জানালা করা হয়নি।
সরেজমিনে ইকোপার্কে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে গরু, ছাগল চরে বেড়াচ্ছে। বহিরাগত লোকজন ঘোরাফেরা করছে। প্রধান প্রবেশদ্বারে কোন পাহারাদার নেই। তিন পাশে কোন সীমানা প্রাচীরও নেই। বখাটেদের আড্ডা জমে উঠেছে। কোন কোন জায়গায় চোখে পড়ে গাঁজা সেবীদের আসর। অনেক স্থানে বখাটেদের উৎপাত এবং নেশা খোরদের কবলে পড়েন দর্শাথীরা। বিদ্যুত সংযোগ না থাকায় বিভিন্ন ভবনের যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

Manual1 Ad Code

স্থানীয় বাসিন্দা মাহিদুল ইসলাম আউলিয়া, গোলাম মোস্তফা, বকুল মিয়া, আকমল হোসেন, দয়াল মন্ডল, শরিফুল, আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন হতে চলেছে। কিন্তু, নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ইকোপার্ক চালু না হওয়ায় আমরা খুবই হতাশ হয়েছি। অনেক কাজ এখনও বাকি রয়েছে। গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম পাইকাড় দীলিপ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারই এলাকাবাসির দাবি পূরণ করেছে। ইতোমধ্যে ইকোপার্কের অনেক কাজ হয়েছে। আশা করি অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ হবে।‘ শাল্টিগোপালপুর বনবীট কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘এখানে মাত্র ২জন গার্ড রয়েছে। এতো অল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে ইকোপার্কের নিরাপত্তা দেওয়া খুবই কষ্ট হয়।’
মিঠাপুকুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল করিম সমকালকে বলেন, ‘এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। বরাদ্দ না আসায় সীমানা প্রাচীরসহ বিভিন্ন কাজ অসম্পন্ন রয়েছে। তাই, ইকোপার্কটি চালু করা যাচ্ছেনা। তবে, বরাদ্দ পেলে কাজ শেষ করে চালু করা হবে বলেও জানান তিনি। আগত লোকজনের নিরাপত্তা এবং মাদক সেবীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ কেউ দেয়নি।’
এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ইকোপার্ক নিমাণ হওয়ায়। কিন্তু,এখনও অনেক কিছুরই ঘাটতি রয়েছে। পার্কে পশুপাখির ভাস্কর্য, ঝরনা, ছাউনি নির্মানের জন্য বিপুল পরিমান অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। সেই সাথে ইকোপার্কটি খুব দ্রুত চালু হওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয়রা।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code