লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় থেকে অল্প একটু দূরে। আর মাত্র ৩টি ইলেক্টোরাল ভোট পেলেই তাঁর জয় নিশ্চিত। তবে কেবল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনই নয়, ট্রাম্পের দল বাজিমাত করেছে দেশটির পার্লামেন্ট কংগ্রেসেও। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে তাঁর দল।

Manual5 Ad Code

মার্কিন সিনেটে এরই মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে রিপাবলিকান পার্টি। দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৫১টি আসন এরই মধ্যে পেয়ে গেছে। নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে আছে দলটি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসনের মধ্যে এরই মধ্যে রিপাবলিকানরা ২০০টি আসন নিশ্চিত করেছে। অনুমান করা হচ্ছে, এখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে ট্রাম্পের দল।

Manual5 Ad Code

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই এ ধরনের নজিরবিহীন সুবিধাজনক অবস্থানে আসতে পারেনি। কেবল পার্লামেন্ট তথা আইনসভায় নয়, ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মার্কিন বিচার বিভাগেও। কারণ, দেশটির ফেডারেল বিচার বিভাগের অধিকাংশ বিচারকই তাঁর আমলে নিয়োগ দেওয়া। সেই অর্থে না হলেও, এই বিচারকেরা কিছুটা হলেও ট্রাম্পের নীতির অনুকূলে কাজ করবেন।

Manual2 Ad Code

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেছেন, ট্রাম্পের জয় এবং কংগ্রেসে তাঁর দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি ‘ভূমিকম্প’ সৃষ্টি করবে এবং এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং বহির্বিশ্বে দুই জায়গাতেই ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।

বিশারা বলেন, ‘আমরা এমন এক প্রেসিডেন্টের কথা বলছি, যার দল সিনেট নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তাঁর নিয়োগ করা বিচারকেরা সুপ্রিম কোর্টে আছেন। এই ব্যক্তি—ডোনাল্ড ট্রাম্প—এই অবস্থায় এমন কিছু করতে সক্ষম হবেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বেশির ভাগ প্রেসিডেন্টের পক্ষেই অসম্ভব ছিল।’ বিশারা বলছেন, ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দিতে পারেন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও বাড়তি শুল্ক আরোপের পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন।

Manual1 Ad Code

মারওয়ান বিশারার কথা থেকে এটি স্পষ্ট যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে নিকট ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা, বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী প্রশাসনে—এই বিবেচনায় তিনি এক প্রকার একচ্ছত্র আধিপত্য পেতে যাচ্ছেন। আর এই বিষয়ে জাতীয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সব বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ‘আপার হ্যান্ড’ তথা সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।

এই অর্থে, বিগত কয়েক দশকের ইতিহাসে ট্রাম্পই এমন প্রেসিডেন্ট, যার হাতের মুঠোয় যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই সারা বিশ্বের ইতিহাস বদলে দেওয়ার সক্ষমতা বন্দী হতে যাচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code