চীনের স্বাধীনতা দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে কেন কিম-পুতিন

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

চীনের স্বাধীনতা দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই কুচকাওয়াজে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে পশ্চিমারা এই ঘটনাকে ‘অস্থিতিশীলতার অক্ষ’ হিসেবে দেখছে।

Manual4 Ad Code

আগামী বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে। এটি শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিশ্বশক্তিগুলোর সমীকরণকে তুলে ধরছে। এই কুচকাওয়াজে চীনের নেতা সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশের নেতারা—রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরান ও মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং উপস্থিত থাকছেন।

এটিই প্রথমবার, যেখানে পুতিন ও কিম জং-উন একসঙ্গে প্রকাশ্যে সি চিন পিংয়ের পাশে থাকছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিমা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই চার দেশকে ‘অস্থিতিশীলতার অক্ষ’ (Axis of Upheaval) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

Manual4 Ad Code

চীন, রাশিয়া ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর এই কূটনৈতিক সংহতি পশ্চিমা নেতারা এড়িয়ে চলছেন। তবে পশ্চিমা রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে শুধু ইইউ সদস্য স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এবং সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ এই কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকছেন। ফিকো ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধী এবং সম্প্রতি মস্কো সফর করে ইইউর নীতি থেকে সরে এসেছেন। ভুচিচও মস্কো সফর করেছেন এবং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চান, তবে সার্বিয়া ইইউতে যোগদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল লি জুনহুয়া প্রতিনিধিত্ব করছেন। তবে তিনি আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই কুচকাওয়াজে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র প্রদর্শন করা হবে। এতে থাকবে উন্নত ডিএফ-২৬ মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা চীনা গণমাধ্যমে ‘গুয়াম কিলার’ নামে পরিচিত। নতুন ইয়াং জি অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রদর্শন করা হবে, যা বিশ্লেষকদের মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি থেকে বিরত রাখার জন্য’ ডিজাইন করা হয়েছে। নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র, ফাইটার জেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও প্রদর্শিত হবে।

কিম-পুতিন দুই কার্ড হাতে, ট্রাম্প কি পারবেন সির সঙ্গেকিম-পুতিন দুই কার্ড হাতে, ট্রাম্প কি পারবেন সির সঙ্গে
এই কুচকাওয়াজের আগে বেইজিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে ‘সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি’ তুলে ধরার জন্য একটি প্রচার অভিযান শুরু করেছে। এর মূল বিষয় হলো—চীন ও সোভিয়েত রাশিয়া ওই যুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বিষয়টি প্রমাণ করা। সম্প্রতি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি মুখপত্র দাবি করেছে, জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চীনের অবদানকে ‘উপেক্ষা ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই কুচকাওয়াজ সি চিন পিংয়ের ক্ষমতা এবং সিসিপির শক্তিকে আরও দৃঢ় করার জন্যই করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আলফ্রেড উ বলেন, সি চিন পিং দেখাতে চাইছেন, তিনি খুবই শক্তিশালী, তাঁর ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ আছে এবং তিনি চীনে এখনো সমাদৃত।

টোকিও ইউনিভার্সিটির গবেষক লিম চুয়ান-টিওংয়ের মতে, কুচকাওয়াজটি ‘অস্থায়ী প্রদর্শনী’ হলেও এর মূল উদ্দেশ্য হলো উপস্থিত নেতাদের প্রতি চীনের সম্মান প্রদর্শন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা।

Manual1 Ad Code

এদিকে এই কুচকাওয়াজের আগে এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে ৭ বছর পর চীন সফরে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শীতল হয়েছে। কারণ, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রপ্তানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, মোদি এমন একটি মুহূর্তে চীনে থাকবেন, যখন ভারত-চীন সম্পর্ক স্থিতিশীল হচ্ছে এবং ভারত-মার্কিন সম্পর্ক খারাপের দিকে যাচ্ছে। এটি একটি শক্তিশালী বার্তা।

ডেস্ক: এস

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code