

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর ঃ
মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় ১ মার্চ থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত (দু’মাস) লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় সব ধরনের মাছধরা নিষিদ্ধ করেছেন মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়। একই সময় মাছ ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জাটকা আহরনে সম্পৃক্ত ৪৩,৪৭২ জেলে পরিবারের জন্য বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচীর আওতায় পরিবার প্রতি ৪০ কেজি হারে খাদ্যশস্য সহায়তা প্রদানের নিমিত্তে ১,৯৪৭.৫২ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ এসেছে। গত রোববার থেকে জেলার পাঁচ উপজেলার জেলে পরিবারের মাঝে এই চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, জাটকা আহরন নিষিদ্ধ সময়ে আহরনকারী জেলেদের মানবিক সহায়তা কর্মসূচীর আওতায় প্রতি পরিবারকে ৪০ কেজি হারে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৩ হাজার ১০০ জন জেলেকে ২৪৮ মেট্রিকটন চাল, রামগতি উপজেলায় ১০ হাজার ৫৭৭ জন জেলেকে ৮৪৬ মেট্রিকটন চাল, কমলনগর উপজলোয় ৬ হাজার ৬৭২ জন জেলে পরিবারকে ৫৩৩ মেট্রিকটন ও রায়পুর উপজেলায় ৩ হাজার ৯৯৫ জন জেলে পরিবারকে ৩১৯ মেট্রিকটন ৪ মাসের জন্য চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। রোববার থেকে ২ কিস্তি দেওয়া হয়েছে। এই চাল বিতরণে কোন অনিয়ম হচ্ছেনা বলে তিনি সহ পাঁচ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তারা দাবী করেন।
উল্লেখ্য, মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী মৎস্য অধিদপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। জাটকা রক্ষা ও ইলিশ মাছের বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুরের ষাটনল হতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার নৌ-সীমাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য জেলে পল্লীসহ মাছঘাট এলাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। লিফলেট, পোস্টার ও মাইকিং করার মাধ্যমে এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। এছাড়া মাছ ধরা প্রতিরোধের জন্য মোবাইল কোর্টও পরিচালনার সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাছধরা বন্ধ থাকার কারণে অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারকে ‘জাটকা সংরক্ষণ, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং গবেষণা প্রকল্প’ এর আওতায় মৎস্য অধিদপ্তর পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। ওই প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্থ জেলে পরিবারের মধ্যে চার মাসের চাল দেয়া হবে।
জেলা টাসফোর্স কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, ২ মাস মেঘনা মাছ ধরা বন্ধ রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । আইন ভঙ্গ করে নদীতে জাটকা ইলিশ ধরার চেষ্টা করলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ চাল বিতরনে অনিয়ম দেখা দিলে অভিযোগ দেওয়ার জন্য জেলেদের প্রতি অনুরোধ জানান।