ধর্মপাশার হাওরে শ্রমিক সংকট, উদ্বীগ্ন কৃষক

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) :
করোনা পরিস্থিতর কারণে উজান থেকে শ্রমিকেরা না আসায় ও স্থানীয় শ্রমিকেরা গৃহবন্ধী থাকায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার বিভিন্ন হাওরের কৃষকেরা ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। যে সকল স্থানীয় শ্রমিকেরা ধান কাটতে রাজী হচ্ছেন তাদের মুজুরীও বেশি। আগামী সপ্তাহে হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার পূর্বাভাস থাকায় কৃষকেরা আরও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। শ্রমিক সংকট আর আগাম বন্যায় ফসল হারানোর ঝুঁকি নিয়ে কৃষকেরা গত কয়েকদিন ধরে ধান কাটা শুরু করেছেন। কিন্তু দ্রুত সময়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তাঁরা।
জানা যায়, সুনামগঞ্জে এবার ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মপাশায় ৩১ হাজার ৭২০ হেক্টর জমির চাষাবাদ হয়েছে। হাওরে এখন পুরোদমে ধান কাটার সময়। শ্রমিক সংকট নিরসনে ও শ্রমিকদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ ধান কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ত্রাণের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলার সকল রিকশা, ভ্যান, অটো, মিশুক ও মোটরসাইকেল চালকদেরকে ধান কাটার কাজে নিজেদের নিয়োজিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
চামরদানী ইউনিয়নের বিচরাকান্দা গ্রামের কৃষক আহম্মদ আলী জানিয়েছেন, উজানী শ্রমিকেরা না আসায় স্থানীয় শ্রমিকেরা ৫০০/৭০০ টাকা বেশি দাবি করছে।
সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের মধ্যনগর থানা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আলাউদ্দিন বলেন, ‘একদিকে করোনা ভাইরাসভীতি অন্যদিকে শ্রমিক সংকট। বহিরাগত শ্রমিকেরা আমাদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। স্থানীয় শ্রমিকেরাও যদি স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে কাজ করে তাহলেও এ ঝুঁকি থেকে যাবে।’
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার জন্য বলা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তালেব বলেন, ‘অন্য এলাকা থেকে যে সকল শ্রমিকেরা আসবে তাদেরকে আলাদা করে রাখার জন্য কৃষকদেরকে বলা হয়েছে। কৃষকদের সুরক্ষায় মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রয়েছে।’

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code