

ঈদগাঁও, (কক্সবাজার)
কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীতে পাহাড়ী গর্জন দিয়েই দেদার তৈরি হচ্ছে ফিশিং বোট। সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়াই যত্রতত্র এসব ফিশিংবোট তৈরি করায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভারুয়াখালীতে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পাহাড়ী গাছ দিয়ে ৭/৮ টি ফিশিং ট্রলার তৈরি করা হচ্ছে । এভাবে চলতে থাকলে বন পরিবেশ উজাড় হতে বেশি দিন সময় লাগবে না। এখানে বিভিন্ন সংরক্ষিত বনের গাছ দিয়ে অনুমতিবিহীন অবৈধ বোট তৈরি করছে কাঠ চোর চক্র। অভিযোগ আছে, বনবিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদাসীনতা ও যোগসাজসে ভারুয়াখালী বাজার সংলগ্ন এলাকা সহ কয়েকটি পয়েন্টে এ বোট তৈরি করছে প্রভাবশালী চক্রটি।
জানা যায়, পেশাদার চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীরা স্থানিয় বন কর্মীদের ম্যানেজ করে বছর কে বছর ফিশিংবোট, কার্গোবোট, নৌকা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে।
কক্সবাজার উত্তর-দক্ষিণ বন বিভাগের রামু–সদরের রিজার্ভ বনাঞ্চলের চোরাই মাদার ট্রি গর্জন, তেলসুর, একাশি, আকাশমনি গাছ সহ বড় বড় গাছ কেটে নির্মাণ করে যাচ্ছে এসব অবৈধ কার্গো ও ফিশিং বোট।
সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ভারুয়াখালী বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে নদীর পাড়ে, পশ্চিম পাড়া বোটঘাট, সওদাগরপাড়া পয়েন্টে বিগত কয়েক বছর ধরে মাদার ট্রি গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির চোরাই কাঠ দিয়ে অবৈধ ভাবে বোট তৈরি করছে এ সিন্ডিকেট। বোট তৈরি হয় ভারুয়াখালীতে। চলে যায় কক্সবাজার, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
গোপন সূত্র জানায়, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বনবিট কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করে তাদের যোগসাজস ও নিরব ভুমিকায় সরকারী বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ উজাড় করে অবৈধ স-মিলে চিরাই করে ভারুয়াখালীর বিভিন্ন পয়েন্টে বোট নির্মাণ করছে প্রভাবশালীরা। এখানে তৈরি করা এসব বোট চড়া দামে বিক্রি করে দেয়া হয় বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে। স্থানীয়রা জানান, ভারুয়াখালীর কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী, স্থানীয় বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে কাঠ চোরদের মাধ্যমে বছরের পর বছর সরকারি বনাঞ্চলের স-মিলে চিরাই করে এসব বোট তৈরি করছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুন এ কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি খবর নিয়ে দেখব ।