পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার থেকে রাজস্ব বঞ্চিত ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

বদলগাছী (নওগাঁ) :
করোনার কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। মহামারি ঠেকাতে সরকার দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করায় দেশের পর্যটন এলাকাগুলোও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মজীবীরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে। অঅর এ কারণে বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘর থেকে প্রায় ৪লাখ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
দেশে সর্ব প্রথম করোনা ধরা পড়লে গত ১৯ মার্চ জনগণের সুরক্ষার লক্ষ্যে নওগাঁয় পর্যটন, দর্শনার্থী স্থান ও প্রতœতাত্ত্বিক জাদুঘর বন্ধ করে দেয় প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত এসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও জাদুঘর মার্চের শেষ থেকে চলতি মে মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকায় সরকার রাজস্ব হারিয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

Manual1 Ad Code

ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার (সোমপুর) বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন। এটি ছিলো বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র স্থল। শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মিয়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন। দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
পাহাড়পুর সংলগ্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত উল্লেখযোগ্য মূর্তির মধ্যে বেলে পাথরের চামুন্ডা মূর্তি, লাল পাথরের দন্ডায়মান শীতলা মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণুর খন্ডাংশ, কৃষ্ণ পাথরের দন্ডায়মান গণেশ, বেলে পাথরের কীর্তি মূর্তি, দুবলহাটির মহারাণীর তৈলচিত্র, হরগৌরীর ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের লক্ষ্মী, নারায়নের ভগ্নমূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের উমা মূর্তি, বেলে পাথরের গৌরী মূর্তি, বেলে পাথরের বিষ্ণু মূর্তি, নন্দী মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণু মূর্তি ও সূর্য মূর্তি।
ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের প্রধান ফটকের পাশে ফাস্ট ফুড ও ঝিনুক মহলের দোকানের মালিকরা বলেন, প্রায় আড়াই মাস থেকে আমাদের দোকান বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক পণ্য নষ্ট ও পণের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ইঁদুর মালামাল কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। এতে প্রায় আমাদের ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একদিকে দোকান বন্ধ, অপরদিকে মালামাল নষ্ট এতে প্রায় পথে বসার উপক্রম।
তারা আরো বলেন, আমাদের সহযোগিতা করা হবে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তালিকা করে নিয়ে গেছেন। ঈদের আগেই সহযোগিতা করা হবে বলে অঅমাদের আশ্বস্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহযোগিতা আমরা পাইনি।
পাহাড়পুর জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান আবু সাইদ ইনাম তানভিরুল বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০১৯ সালের জুলাই থেকে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দর্শনার্থী বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এখন জাদুঘর ও পর্যটন স্থান বন্ধ রয়েছে। সারা বছরে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হয় দুই ঈদে তার চেয়ে বেশি আয় হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে দর্শনীয় স্থান ও জাদুঘর বন্ধ থাকায় সরকার মোট অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code