করোনায় স্নায়ুতন্ত্র-মস্তিষ্ক ভালো রাখবেন যেভাবে

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

বিশ্বে মানুষ এখন করোনা নিয়ে শঙ্কিত। একেক সময় একেক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। করোনা মূলত ফুসফুসে আক্রমণ চালালেও মস্তিষ্কেও এর প্রভাব দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে স্নায়ুতন্ত্রে। করোনার এই নতুন ধারা চিন্তায় ফেলেছে গবেষকদের।

বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে ডিসওরিয়েন্টেশন বা ডিলেরিয়াম। নিউরোলজিস্টরা বলছেন, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, শুধু শ্বাসনালি বা শ্বাসতন্ত্রের ওপরেই নয়, করোনা প্রভাব ফেলছে স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কেও।

এই প্রসঙ্গে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, সরাসরি মস্তিষ্কে সংক্রমণ হতে পারে বা প্যারা ইনফেকশন কমপ্লিকেশন হতে পারে। তবে শুধু সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেমেও প্রভাব পড়তে পারে করোনার কারণে। এক্ষেত্রে আপনার শরীরকে শক্তিশালী ও সুস্থ রাখার জন্য যেমন খাবার প্রয়োজন, তেমনি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুগুলোকে সচল রাখার জন্যও বিশেষ খাবারের প্রয়োজন।

গবেষকরা এসব খাবারকে বলেছেন ব্রেইন ফুড বা মস্তিষ্কের খাদ্য। মস্তিষ্কের জন্য বিশেষ খাবার দরকার। কারণ মস্তিষ্ক এবং দেহের কোষ এক রকম নয়, এক রকম নয় কাজও। বিভিন্ন ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন বি, মিনারেল এবং ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের ফলে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্র বিশেষ লাভবান হয়। সেই ভিটামিনগুলো হচ্ছে- ভিটামিন বি১, বি৫ এবং বি১২।

Manual2 Ad Code

ভিটামিন বি খাদ্যশস্য থেকে তৈরি খাবার যেমন রুটি, ভাত ও পেস্তায় ভিটামিন বি১ থাকে। ভিটামিন বি৫ পাওয়া যায় মাংস, মাছ, সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য, শিম বা মটরশুঁটি, দুধ, শাকসবজি ও ফল ইত্যাদি খাবারে। ভিটামিন বি৬ পাবেন মুরগির মাংস, মাছ, সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য, বাদাম ও শিম থেকে। আর ডিম, মাংস, মাছ, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার থেকে পাবেন ভিটামিন বি১২।

Manual1 Ad Code

ফলিক অ্যাসিড বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে পাওয়া যায়। যেমন- কলা, কমলার রস, খাদ্যশস্য থেকে প্রস্তুতকৃত খাবার, লেবু, স্ট্রবেরি, ফুটি বা তরমুজ, শাকযুক্ত সবজি, শিম, মটরশুঁটি ইত্যাদি। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ফলিক অ্যাসিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ফলিক অ্যাসিডের মাত্রা কম থাকলে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের স্নায়ুজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Manual2 Ad Code

যেসব মিনারেল গ্রহণ করতে হবে ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য, শিম বা মটর জাতীয় বীজ, বাদাম এবং সবুজ শাকসবজিতে। আর পটাশিয়াম পাওয়া যায় খুবানি, অ্যাভাকাডো, কলা, খরমুজ, মোসম্বি লেবু, কমলা, শুকনা খেজুর বা আলুবোখারা, স্ট্রবেরি, আলু, মাংস, মাছ প্রভৃতি খাবারে। ক্যালসিয়াম পাবেন দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য যেমন-পনির ও দই; শিম, ফুলকপি, বিট, ভক্ষণীয় কাঁটাযুক্ত মাছ ইত্যাদি খাবারে।

মস্তিষ্কের বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করার খাদ্যাভ্যাস ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার ও মাছ স্মৃতিভ্রংশ রোগ বা মস্তিষ্কের বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করতে পারে। অন্যদিকে টুকিটাকি খাবার বিপরীত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বয়স্ক লোকের রক্তে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে তাদের মস্তিষ্ক সঙ্কোচনের পরিমাণ কম এবং মানসিক সামর্থ্য অনেক বেশি থাকে। অন্যদিকে রক্তে ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকলে মস্তিষ্ক সঙ্কোচনের পরিমাণ বেশি হয়।

Manual5 Ad Code

সাধারণত কেক, বিস্কুট ও ভাজা খাবারসহ প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার বা ফাস্ট ফুডে ট্রান্স ফ্যাট থাকে। তাই স্মৃতিভ্রংশ বা আলঝেইমার প্রতিরোধে গবেষকদের পরামর্শ হচ্ছে-প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজিসহ সুষম খাবার খাওয়া, ধূমপান না করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরিমাপ করা।

মিষ্টি খাবার সবার কাছেই খুব প্রিয়। হালকা পানীয়, আপেলের সস, জেলি এবং শিশুখাদ্যে প্রচুর ফ্রুকটোজ (বিভিন্ন ধরনের ফল, মধু ইত্যাদিতে যে ধরনের চিনি থাকে) ব্যবহার করা হয়। এসব খাবার শিশুসহ সবার পছন্দের হলেও একটু সতর্ক হতে পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, অতিরিক্ত ফ্রুকটোজ সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘদিন খেলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। স্মরণশক্তি কমে যেতে পারে। তবে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খেলে এ ক্ষতি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের গবেষকরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত করা খাবারে উচ্চমাত্রায় ফ্রুকটোজযুক্ত কর্ন সিরাপ ব্যবহার করা হয়। সাধারণ চিনির তুলনায় এটি ৬ গুণ বেশি মিষ্টি। এটিই ক্ষতির কারণ। তবে ফলে ফ্রুকটোজ থাকলেও তা ক্ষতিকর নয়। ফলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় আমাদের জন্য তা খুবই উপকারী।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code