তীর ধ্বংস করে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে ভোগাই, প্রতিকারে নেই উদ্যোগ

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

মনিরুল ইসলাম মনির, শেরপুর:
ইজারার শর্ত না মেনে নদী চরের পরিবর্তে তীরবর্তী সতমল ভূমি খুঁড়ে ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি নদী ভোগাই। সংকটে পড়ছে নাব্যতা, ভারসাম্য হারাচ্ছে প্রকৃতি। প্রকাশ্যে এ ধ্বংসলীলা অব্যাহত থাকলেও তা প্রতিকারে স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
তথ্যমতে, চলতি বাংলা সনে এক বছরের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে প্রায় এক কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ভোগাই নদীর মন্ডলিয়াপাড়া, কেরেঙ্গাপাড়া, ফুলপুর ও আন্দারুপাড়া এ চারটি মৌজায় ১২.৩২ একর নদীর চর বালু মহাল হিসেবে ইজারা দেওয়া হয় ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে। গেল পহেলা বৈশাখ থেকে আগামী ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছর মেয়াদে ইজারা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট হারে রয়েলিটি সুবিধা ছাড়াও ঝুট-ঝামেলা মেটানোর অজুহাতে বালু উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে পয়েন্ট প্রতি ১০ হাজার করে এককালীন অফেরতযোগ্য আর্থিক সুবিধা নেয়। এরপর নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইজরার শর্ত ভঙ্গ করে অনেকটা উন্মুক্ত করে দেয় ভোগাই। ফলে যত্রতত্র বোরিং, নিষিদ্ধ এলাকায় ড্রেজিং এমনকি নদী তীরবর্তী সমতলের পরিত্যক্ত ভিটেমাটি, আবাদী ও অনাবাদী জমি ইত্যাদি খুঁড়ে গভীর বোরিং করে শুরু হয়েছে দেদারসে ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলন। এতেকরে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে, ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে খরস্রোতা ভোগাই। ভাঙছে নদীর তীর, বাড়ছে পাহাড়ি ঢলে বন্যার ঝুঁকি। নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতির ভারসাম্য, নাব্যতা সংকটে নদীটি। ভোগাই নদীর ফুলপুর, মন্ডলিয়াপাড়া, নয়াবিলসহ বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে এমন ধ্বংষযজ্ঞ চলে এলেও কিছু ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যতীত নদী রক্ষায় বিশেষ কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না কর্তৃপক্ষকে।
অন্যদিকে এসব বালু পরিবহনে অতিরিক্ত লোড করায় নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ ও ইউনিয়ন সড়কগুলো। এলজিইডি’র নিয়ন্ত্রণাধীণ যেসব রাস্তা তৈরিতে প্রতি কিলোমিটারে সরকারের ব্যয় যেখানে প্রায় কোটি টাকা, সেখানে বর্তমানে প্রায় ৫০ কিলোমিটার আভ্যন্তরীণ সড়ক ভোগাই ও চেল্লাখালীর বালুতে নষ্ট হয়ে গেছে। গুটি কয়েক ব্যক্তির স্বার্থে মাত্র প্রায় এক কোটি ৩৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করতে গিয়ে এখানে সরকার তথা দেশ কতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এসব রাস্তা রক্ষায় ১০ টনের অধিক ভারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড দিলেও আইনের প্রয়োগ না থাকায় মানছে না কেউই।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমাদের আওতায় উপজেলায় সর্বমোট ৭০২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বর্তমানে পাকা রয়েছে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। এরমধ্যে প্রায় ৫০ কিলোমিটার আভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক শুধুমাত্র বালু পরিবহনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এসব রাস্তায় ১০ টনের অধিক ভারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা করে সাইনবোর্ড লাগিয়েও ওভার লোড বন্ধ করতে পারছি না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম মাসুম জানান, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে বালু উত্তোলন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব এবং ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে লিখিতভাবে জানাব।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code