জোর করে কাবুল দখল করলে তালেবান স্বীকৃতি পাবে না: যুক্তরাষ্ট্র

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

Manual3 Ad Code

আফগানিস্তানে তালেবান যদি জোর করে ক্ষমতা দখল করতে চায় তাহলে তারা কখনোই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না। ২৮ জুলাই বুধবার দিল্লিতে এমন মন্তব্য করেছেন ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দুই মন্ত্রী জানান, তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি আলোচনার মধ্যে সমাধান খোঁজাই সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ বলে দুই দেশ বিশ্বাস করে।

Manual6 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানকে নিয়ে গঠিত যে ‘কোয়াড’ জোটকে নিয়ে চীন বেশ কিছুদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে সেই প্ল্যাটফর্মেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও উভয় দেশ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
এ বছরের গোড়ার দিকে বাইডেন প্রশাসন ওয়াশিংটনে দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের এটিই প্রথম ভারত সফর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছানোর পর বুধবার সকালে প্রথমেই তিনি ভারতের সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। তারপর একে দেখা করেন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। সবগুলো বৈঠকেই আলোচনার একটা বড় অংশজুড়ে ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা তথা আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি।

পরে বিকালে দুই দেশের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে আফগানিস্তান ইস্যুতে কথা বলেন ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক যে গত সপ্তাহে আমরা বেশ কয়েকটি জেলা সদরে তালেবানের অগ্রযাত্রা দেখেছি। প্রাদেশিক কয়েকটি রাজধানীও তারা কব্জা করতে চাইছে। যেসব এলাকা তারা দখল করেছে সেখানে নির্যাতন চালানোরও খবর আসছে। এগুলো সত্যিই বিচলিত করার মতো। পাশাপাশি আমি এটাও বলবো, তালেবান কিন্তু বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে। চাইছে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক এবং তাদের নেতারা যাতে দুনিয়াজুড়ে অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারে। কিন্তু আফগানিস্তানে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করতে গেলে বা নিজ দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন করে সে লক্ষ্য পূরণ হবে না।’

Manual3 Ad Code

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হলেও দেশটিতে শক্তিশালী একটি দূতাবাস ও নানা উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো প্রভাব ও উপস্থিতি থাকবে বলেও দাবি করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তার ভারতীয় কাউন্টারপার্টের কথা থেকে স্পষ্ট, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ভারত হতাশ। কিন্তু এখন তারা সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই শান্তিপূর্ণ আলোচনার ওপর জোর দিতে চাইছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, ‌‘গত ২০ বছর ধরে যেখানে একটা শক্তিশালী মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ছিল। সেটি তুলে নেওয়া হলে অবশ্যই তার প্রভাব পড়বে, সেটা অবধরিত। কিন্তু এখন এটার ভালো-মন্দ বিচার করার সময় নয়। একটা নীতি গৃহীত হয়েছে এবং আমাদের সেটা মেনে নিয়েই চলতে হবে। সেই অনুযায়ী কূটনীতিও পরিচালিত হবে। আর এখানে আমরাসহ আফগানিস্তানের প্রায় সব প্রতিবেশী বিশ্বাস করে, হিংসার অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক পথেই দেশটিতে শান্তি ফেরাতে হবে। হ্যাঁ, কোনও দেশ তার ব্যতিক্রমও আছে। কিন্তু সেই বাস্তবতাও তো নতুন কিছু নয়। বরং ২০ বছরের পুরনো।’

ভারত যেমন এখানে সরাসরি পাকিস্তানের নাম নেয়নি, তেমনি কোয়াড নিয়ে প্রশ্নের জবাবেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একবারও চীন শব্দটি উচ্চারণ করেননি। কিন্তু এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন, এই জোট নিয়ে চীনের যতই আপত্তি থাকুক তাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বন্ধ হবে না।

অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘কোয়াড আসলে খুবই সহজ একটা জিনিস। কিন্তু এটা আসলে যত সহজ, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। চারটি সমমনা দেশ ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া একজোট হয়েছে যাতে একটি মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলা যায়। যাতে এই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়। তবে এটা কিন্তু কোনও সামরিক জোট নয়, বরং এটি আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় ও আন্তর্জাতিক মূল্যবোধের প্রসারে একটি সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম।’

বুধাবর সকালেই দিল্লিতে তিব্বতি ধর্মগুরু দালাই লামার একজন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করে চীনকেও একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন ভারতের সুশীল সমাজের সঙ্গে ব্লিঙ্কেনের বৈঠকে আমন্ত্রিত ছিলেন দিল্লিতে দালাই লামার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র টিবেট হাউসের প্রধান গেশে দোরজি। বৈঠক শেষে টুইটারে দেওয়া এ সংক্রান্ত পোস্টে তার ছবিও যুক্ত করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র: বিবিসি।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code