সিনেমাওয়ালা পবনের গল্প

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

সময়টা ২০০০ সালের কিছু আগে। এলাকায় প্রথম টিভিসেটটি এসেছিল পবনদের বাড়িতেই। অপার বিষ্ময় নিয়ে সেই বোকাবাক্সের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই ছেলেটির স্বপ্ন দেখা শুরু। ছবি আর শব্দের বৈচিত্র্য তাকে মোহাবিষ্ট করে রাখতো সব সময়। সেই থেকে ধীরে ধীরে লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশনের জগতে নিজেকে তৈরি করার যাত্রা। বলছিলাম স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা লায়েক আহমেদ পবনের কথা। সম্প্রতি তার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘একজন ঈশ্বরের গল্প’ কানস্ ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেপ্টেম্বর মাসের সংস্করণে ‘বেস্ট ফিলসফিক্যাল ফিল্ম’ ক্যাটাগরিতে সেরা ছবি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

 

Manual5 Ad Code

ফ্রান্সের কান শহরে ‘কানস্ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ ছাড়াও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজিত হয় প্রতি বছর। তার মধ্যে অন্যতম এই কানস্ ওয়ার্ল্ড  ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যাল। এই অর্জনের মাধ্যমে উৎসবটির মূল আয়োজনের জন্য নির্বাচিত হলো ছবিটি। এছাড়াও আরো বেশ কিছু চলচ্চিত্র উৎসবে সেরার পুরস্কার অর্জন করে নিয়েছে পবনের বানানো চলচ্চিত্রটি।

‘একজন ঈশ্বরের গল্প’ কে পবন ফিকশন ড্রামা হিসেবে আখ্যায়িত করতেই ভালোবাসেন। তার মতে এটি দৃশ্য ও শব্দের গল্প। আঠারো মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিটিতে তিনি তার মতো করেই তুলে ধরতে চেয়েছেন তার পরিচালক সত্ত্বাকে।

 

এতে অভিনয় করেছেন শিশু শিল্পী শাহরিয়ার আহমেদ সামি। সহযোগী পরিচালক হিসেবে ছিলেন অপূর্ব এবং সংগীত আয়োজনে ছিলেন রুপক। চলচ্চিত্রটিতে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ শাহ আবদুল করিমকে সম্মান জানিয়ে তার একটি গান রাখা হয়েছে, যেখানে শিল্পী হিসেবে ছিলেন আকাশ গায়েন।

Manual4 Ad Code

পবনের বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি চিন্তা করতেন তার এলাকার সুন্দর এবং মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে ক্যামেরায় ধারণ করে রাখবেন। ক্যামেরা আর লেন্সের প্রতি ভালোবাসার শুরুটা সেখান থেকেই। সিনেমাটোগ্রাফির হাতেখড়ি হয় ওয়েডিং ফটোগ্রাফির মাধ্যমে। কাছের বন্ধুর সাথে মিলে শুরু করেন ‘চন্দ্রবিন্দু’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকেই ক্যামেরার কাজে অর্জন করেন আরো দক্ষতা। ২০২০ সালের করোনাকালীন সময়েই সিনেমাটির কাজ শুরু করেন তিনি। তবে বেশ কয়েক বছর ধরেই কাজ করছিলেন চলচ্চিত্রটির গল্পটি নিয়ে। অবশেষে এ বছর মুক্তি পায় চলচ্চিত্রটি।

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র পরিচালকদের জন্য কাজ করার অনুকূল পরিবেশ তৈরীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পবন। তবে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সে প্রতিকূলতা দূরে সরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ‘একজন পরিচালক হিসেবে নিজেকে আগে প্রমাণ করতে হবে। তাহলেই আরো বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ তৈরী হবে। যদিও পরিস্থিতি সব সময় অনুকূলে থাকে না, তবে পরিশ্রমী দের ভবিষ্যৎ সব সময়ই উজ্জ্বল।’

Manual7 Ad Code

বাংলাদেশে মানসম্মত এবং আন্তর্জাতিক মানের চলচিত্র উৎসবের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা নিজেদের কাজগুলোকে আরো বড় পরিসরে তুলে ধরতে পারবে।

সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন পবন, দেশ-বিদেশের পরিচালকদের কাজ দেখে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করে তোলার চেষ্টা করেন প্রতিনিয়ত। ওপার বাংলার স্বনামধন্য পরিচালক সৃজিত মুখার্জির কাজ পবনকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করে।  ভবিষ্যতে নিজের মতো করে আরো বেশি কাজ করতে চান তিনি। আগামীতে ফিচার সিনেমা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান পবন। দেশে এবং দেশের বাইরে তার কাজ নিয়ে পৌঁছে যেতে চান দর্শকদের কাছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code