

নিউজ ডেস্কঃ সিলেট চেম্বার অব কমার্স ভবনের আশপাশ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে সোমবার রাত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি শত শত যুবকের মহড়া ছিল গভীর রাত পর্যন্ত। রাতে সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ নির্বাচন বর্জন করে চেম্বার ভবন ত্যাগ করলে উত্তেজনা বেড়ে যায়।
এই উত্তেজনার মধ্যেই রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাহমিন আহমদকে সভাপতি, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আতিক হোসেনকে সহ-সভাপতি পদে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তারা সবাই চেম্বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থী ছিলেন। অপর প্যানেল সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ও একেপেশে আচরণের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার আগে সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রহমান জামিল ও সহ-সভাপতি প্রার্থী হুমায়ুন আহমদের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এনিয়েই শুরু হয় জটিলতা। গত শনিবার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্যানেল সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ ও সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে ১১ জন করে পরিচালক নির্বাচিত হন। রোববার দুই প্যানেল থেকেই সভাপতি ও সহ-সভাপতি নিজেদের প্রার্থী তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেয়।
সভাপতি পদে সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে আবু তাহের মো. শোয়েব, তাহমিন আহমদ ও ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদের নাম দেয়। অপরদিকে, সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে সভাপতি পদে একক প্রার্থী হিসেবে আব্দুর রহমান জামিলের নাম দেয়।
সোমবার বিকালে সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হয় রাতে।
সিলেট ব্যবসায়ী সমিতি থেকে নির্বাচিত পরিচালক নজরুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, এটা চেম্বারের ইতিহাসে কলঙ্কজনক দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তবে চেম্বার নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিলের দাবি, গঠনতন্ত্রের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। গঠনতন্ত্র অনুসারেই সব কার্যক্রম হয়েছে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুই প্যানেল- সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ ও সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে ১১ জন করে পরিচালক নির্বাচিত হন। পরিচালকদের ভোটে গতকাল সোমবার বিকেলে চেম্বারের সভাপতি ও দুই সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।
কিন্তু রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় সভাপতি ও দুই সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা সম্ভব হয়নি। জানা যায়, দুই প্যানেল থেকেই সমান সংখ্যক পরিচালক নির্বাচিত হওয়ায় সভাপতি ও দুই সহ-সভাপতি নির্বাচন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এই জটিলতা নিরসনে দু প্যানেলকে নিয়েই রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা।
চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনে আপোষে আসার নানামুখী সমঝোতার চেষ্টা চলছে। দুই প্যানেল থেকে সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে প্রার্থীদের তালিকা রোববার বিকালে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার অনুষ্ঠিত সিলেট চেম্বারের নির্বাচনে চার ক্যাটাগরির দুটির নির্বাচনে ৪০ প্রার্থীর মধ্যে পরিচালক পদে বিজয়ী হয়েছেন ১৮ জন। অপর দুই ক্যাটাগরিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪ জন পরিচালক বিজয়ী হন।
নির্বাচনে বিজয়ীরা হলেন- অর্ডিনারি শ্রেণি থেকে সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেলের ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ ৭শ ১৩ ভোট, ফখর উছ সালেহীন নাহিয়ান ৭শ ৮, মুশফিক জায়গীরদার ৬শ ৫৩ ভোট ও সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের হুমায়ূন আহমদ ৯শ ১১ ভোট, জহিরুল কবির চৌধুরী ৮শ ৬৭, ফাহিম আহমদ চৌধুরী ৮শ৫৯, খন্দকার ইসরার আহমদ রকী ৭শ ৯৬, আলীমুল এহছান চৌধুরী ৭শ ৩২, মো. আব্দুস সামাদ ৬শ ৮৮, দেবাংশু দাস মিঠু ৬শ ৮৪, মো. নজরুল ইসলাম ৬শ ৫৩ ও আব্দুর রহমান জামিল ৬শ ৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
অ্যাসোসিয়েট শ্রেণি থেকে বিজয়ী হন, সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের তাহমিন আহমদ ৬শ ৫৭, মুজিবুর রহমান মন্টু ৬শ ৫৭, ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী রাজিব ৬শ ১২ ও কাজী মো. মোস্তাাফিজুর রহমান ৬শ ৭ ভোট ও সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের জিয়াউল হক ৫শ ৭০ ভোট ও হাজী সরোয়ার হোসেন ছেদু ৫শ ৪০ ভোট পান।
অপরদিকে, পরিচালক প্রার্থীদের মধ্যে ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণিতে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের চারজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তারা হলেন- ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে বিদায়ী সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব , মো. হিজকিল গুলজার ও মো. আতিক হোসেন। টাউন অ্যাসোসিয়েশন শ্রেণিতে আমিনুর রহমান। এ দুই ক্যাটাগরিতে চারটি পরিচালক পদে সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদ কোনো প্রার্থী ছিল না।