সিলেটে পশুর হাটে ক্রেতা কম, শেষ দু’দিনের আশা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual6 Ad Code

আগামী ১০ জুলাই দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা। কিন্ত সিলেটে এখনো জমে উঠেনি গরুর বাজার। এবার নগরীতে ৬টি ছোট বড় গরুর বাজার বসেছে। বন্যার কারনে বাজারগুলো প্রায় ক্রেতা শৃন্য। বিশেষ করে এখনো বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি থাকায় সকলেই বন্যা মোকাবেলায় ব্যস্ত থাকায় কুরবানী দেওয়া নিয়ে চিন্তার মধ্যে আছেন। খামারি-ব্যাপারীরা বলছেন, বাজারে পশু এবার বেশি পাবেন কিন্ত ক্রেতা পাবেন না। ছয় মাস আগে গরুর দাম যেটা ছিল এখন অনেক কমেছে। সকল খামারিদের এবার লোকসান দিতে হবে। সারা বছর পশুর জন্য যে টাকা খরচ করেছেন তা এবার পাবে না। কমদামে পশু বিক্রয় করতে হবে। এখনো জেলার গ্রাম গঞ্জের অনেক গরুর বাজারে পানি থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা পশু নিয়ে আসতে পারছেন না আবার ক্রেতাগন দেখে শুনে পশু ক্রয় করতে পারছেন না।

Manual5 Ad Code

কিশোরগঞ্জ থেকে দুটি বড় গরু নিয়ে সিলেট নগরের কাজীরবাজার হাটে এসেছেন সুজন মিয়া। প্রতিটি গরুর দাম হাঁকছেন ৯০ হাজার টাকা। তিনি দাবি করছেন মাংস হবে ৩ মণ। অনেক আশা করে হাটে দুটো গরু নিয়ে আসলেও কাঙ্খিত ক্রেতা মিলছে না। তবে ঈদের আগের দুদিন শুক্র ও শনিবার ক্রেতা মিলবে বলে আশা তাঁর। একই কথা বলছেন অন্য ব্যাপারীরাও।

বুধবার (৬ জুলাই) সিলেট নগরের প্রধান পশুর হাট কাজীরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতাদের তুলনায় ক্রেতাদের সংখ্যা একেবারেই কম। এখানে বড় গরুর ক্রেতা কম। মাঝারী গরুর ক্রেতা বেশী। যেসব ক্রেতা আসছেন তারাও আশানুরূপ দাম বলছেন না।

বিশ্বনাথ থেকে একটি বড় গরু তুলেছেন আপ্তাব আলী। তার দাবি, বন্যায় এবার ক্রেতা খুবই কম। এ সময়ে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু এবার এ দৃশ্য নেই। তিনি বলেন, এবার পেশাদার গরু ব্যবসায়ী ও খামারীদের অস্তিত্ব ঠেকানোই দায় হয়ে পড়েছে।

পশু ক্রেতা হেলাল আহমদ জানান, এবারের ঈদে বন্যার জন্য পশু কম আসছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবার আর গরুর বাজার ভরপুর নয়। অভাবে পড়ে যারা গরু নিয়ে আসছে তাদেরকে দেখা যাচ্ছে। গরু ব্যবসায়ীদের এবার গরু আমদানি করতে দেখেন নাই। অন্য বছর যেভাবে বিদেশী গরু আসতো এবার এ গরু গুলো দেখা যাচ্ছেনা। অনেক গরুর বাজারে বন্যার পানি থাকায় গরু কম দেখা যাচ্ছে।

Manual3 Ad Code

গরু ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া জানান, কয়েক মাস ধরে তারা এলাকায় ঘুরে ঘুরে গরু কিনেছেন। ঈদের আগে তিন-চার মাস খাইয়ে হৃষ্টপুষ্ট করে বিক্রি করবেন লাভে। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে বন্যা। বন্যার কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ তারা। দেশে গরু আছে, গরুর সংকট নেই। যে গরু আছে, তা দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব। বন্যায় কপাল নষ্ট করেছে তাদের।

Manual3 Ad Code

হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেড় থেকে দুই মণ মাংস হবে এমন (মাঝারি আকৃতির) গরু বিক্রি শুরু হয়েছে। হাটে মাঝারি গরুর চাহিদাও বেশি। তবে সেভাবে বড় গরুর ক্রেতা দেখা যায়নি। যদিও সিলেট নগরের ক্রেতারা ঈদের এক-দুদিন আগে কোরবানির পশু কেনেন। সেই হিসেবে শুক্র ও শনিবার হাটগুলোতে ক্রেতা বাড়বে। তখন বড় গরুর চাহিদাও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code