

সম্পাদকীয়: অব্যাহত মূল্যস্ফীতির কারণে দম বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ভোক্তাদের। প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দরে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতার দীর্ঘশ্বাস বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে গরিব মানুষ। জানা গেছে, গত ১২ বছরের মধ্যে দেশে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েই চলেছে। স্বস্তির কথা হলো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে বাজার তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অহেতুক কেউ যেন দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য বাজারে কঠোর তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের প্রায় সব দেশই খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহু দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষকে খাদ্য সংকটজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
এমনকি কিছু এলাকায় প্রবল খাদ্য সংকটের কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। করোনার সময়ে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন কম হওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্যোৎপাদন কমে যাওয়া, বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কৃষি উপকরণের সংকটে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে খাদ্যের উৎপাদন খরচ বেড়েছে।