

ডেস্ক নিউজ: হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুধাবন করতে পেরেছিলেন পশ্চিম পাকিস্থানের শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি না পেলে কখনোই পূর্ব পাকিস্থানের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাঁর নৈতিকতা ও মূল্যবোধই তাঁকে পাকিস্থানীদের অনৈতিক নিগ্রহ থেকে বাঙ্গালীকে মুক্ত করার জন্য সংগ্রাম করার অনুপ্রেরণা দিয়েছিল।
একটা শিশুর জন্ম ও বেড়ে ওঠার পাশাপাশি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষাটাও বাবা-মা এবং পরিবারের গুরুজনদের দ্বারা হয়ে থাকে। শিশুর মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবার সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তাই পরিবারকে বলা হয় মানবিক গুনাবলী অর্জনের প্রথম শিক্ষাগার।
তাদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্পের বই, কবিতা, উপন্যাসের সঙ্গে পরিচিত করাতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ভালো-মন্দ ব্যবহার এবং প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে দিক নির্দেশনা দিতে হবে শিক্ষকদের। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে হবে শিক্ষার্থীদের মাঝে।
অনেক সময় দেখা যায় বাবা-মার কথা হয়তো শিক্ষার্থীরা শুনছে না কিন্তু একজন শিক্ষকের কথার প্রতি তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই শিক্ষকদের এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষকদের নিজেদের নৈতিক এবং মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হতে হবে কারণ তাদের দেখেই তো ছেলেমেয়েরা শিখে থাকে।
আমাদের স্কুলের একজন শিক্ষক বলতেন, তোমরা যে পোশাকটি পড়েছো, হিসেব করে দেখ এর কত শতাংশ একেবারে সৎ অর্থ দিয়ে কত শতাংশ অন্য মানুষের হক বঞ্চিত অর্থ দিয়ে তৈরি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তোমাদের এ হিসেব রাখতে হবে, তা না হলে এ শিক্ষিত হওয়ার কোন মূল্য নেই। তুমি মানুষকে ঠকিয়ে কীভাবে নিজের আরাম আয়েশ বাড়ানো যায় সেটিই শুধু চিন্তা করবে।
এ ধরনের শিক্ষা ও আলোচনা শ্রেণিকক্ষে হতে হবে। এ ধরনের আলোচনা ছাড়া শিক্ষার্থীদের চিন্তা থাকবে চাকুরী করে কীভাবে সাধারণ মানুষের ওপর ছড়ি ঘোরাবে, কীভাবে অজস্র সম্পত্তির মালিক হবে। শৈশবে শিখে আসা ধ্যান ধারণার বীজটিই চারাগাছ থেকে বৃক্ষে পরিণত হওয়ার পথে ধাবিত হয়।
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিকাশে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ধর্মের প্রকৃত পাঠই শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলার জন্য মুক্তিযোদ্ধদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস শোনাতে হবে। এই উদ্যোগ নিতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসই হবে নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্ম হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি আধুনিক প্রজন্ম, যারা বাস্তবায়ন করবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। এ যে আমাদের আজন্ম লালিত স্বপ্ন।