দেখেন কিন্তু শোনেন না

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: লেখক দীপু মাহমুদের সঙ্গে শিশু সাহিত্যিক ইমরুল ইউসুফ।
অনুষ্ঠান শুরুর সময় শ্রোতা সাত জন থাকলেও পরে অর্ধশত মানুষের
সমাবেশ হয়েছিল। এ ধরনের অনুষ্ঠানে আগ্রহ উদ্দীপক আলোচনা, ভালো
বক্তা ও যথাযথ প্রচারের প্রয়োজন মনে করেন পাঠকরা
লেখক দীপু মাহমুদের সঙ্গে শিশু সাহিত্যিক ইমরুল ইউসুফ। অনুষ্ঠান শুরুর
সময় শ্রোতা সাত জন থাকলেও পরে অর্ধশত মানুষের সমাবেশ হয়েছিল। এ
ধরনের অনুষ্ঠানে আগ্রহ উদ্দীপক আলোচনা, ভালো বক্তা ও যথাযথ
প্রচারের প্রয়োজন মনে করেন পাঠকরা
অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে বিশাল ত্রিপলের মঞ্চ, সেখানে চলছে একের
পর এক লেখকের সঙ্গে আলাপ, কবিতা পাঠ, বই থেকে পাঠ—প্রতিদিন দুই
থেকে আড়াই ঘণ্টা অনায়াসে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় শোনার জায়গা মানে
দর্শক সারি থাকে ফাঁকা। একই অবস্থা বাংলা একাডেমি আয়োজিত
সেমিনারেরও। বিখ্যাত ব্যক্তিরা দুর্দান্ত সব বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন
করছেন, কিন্তু শুনছে কে? আয়োজকদের কয়েকজন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান
বলছে—এখন এর ধরন ও উপস্থাপন না বদলালে আর কাউকে শোনানো
সম্ভব না। তারা সমাধান জানলে উদ্যোগ নেন না কেন, এ প্রশ্নের যেন জবাব
মেলে না।
অথচ ভিন্ন দৃশ্য যে নেই, বা শ্রোতা আনা যে অনুষ্ঠানের চলমান কাঠামোতে
সম্ভব না, তা কিন্তু না। গত বুধবারের (৭ ফেব্রুয়ারি) কথাই ধরা যাক।
আলোচক সাহিত্যিক দীপু মাহমুদ তার অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে ফেসবুকে
বলেছেন, ‘‘সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা। একুশে বইমেলার ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে কথা
বলার জন্য আজকের শেষ লেখক আমি। বাংলা একাডেমি থেকে আছেন
শিশুসাহিত্যিক ইমরুল ইউসুফ। মঞ্চে উঠছি। ইমরুলকে জিজ্ঞেস করলাম,
কতক্ষণের আলাপ? ইমরুল বললো, ২০ মিনিট। বললাম, ১০ মিনিটে শেষ
করবেন। শ্রোতা আছেন সাত জন। ইমরুল মন খারাপ করে আলোচনা শুরু
করেছেন। আমিও আমার কথা বলতে থাকলাম। কীভাবে লেখক হলাম, কেন

লিখি, কী লিখি এসব কথা। ঘটনা ঘটলো বিস্ময়কর। শ্রোতা এসে ভরে গেছে
‘লেখক বলছি’ উঠোন। চেয়ারগুলো ভর্তি। শ্রোতারা দাঁড়িয়ে আছেন। আমার
ভেতরে প্রবল উৎসাহ চলে এলো। ইমরুল বললো, ভাই ৪০ মিনিট হয়ে গেছে।
সবকিছু গোছগাছ করতে হবে। তারপর আরও ১০ মিনিট গেলো প্রশ্নোত্তর
পর্বে। ভালো লাগলো কথা শোনার জন্য এত মানুষ উপস্থিত হন দেখে।
ধন্যবাদ, বাংলা একাডেমি, পাঠদের সঙ্গে লেখকের কথা বলিয়ে দেওয়ার
চমৎকার আয়োজন চালু রাখার জন্য।’’

Manual1 Ad Code

তাহলে কীভাবে অন্যদের আলোচনা প্রাণবন্ত হয় না। লেখকদের অনেকে
কানাঘুষা করেন মেলার নানান প্রান্তে বসে, ‘লেখক বাছাইয়ে আরেকটু
আধুনিক হতে হবে বাংলা একাডেমিকে’। কী প্রক্রিয়ায় লেখক নির্ধারণ করা
হয় প্রশ্নে বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ইমরুল ইউসুফ বলেন,
‘বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন, ভালো কাজ করছেন—এমন
লেখকদের একটা লম্বা তালিকা আমরা তৈরি করে মহাপরিচালক স্যারের
সঙ্গে বসে ঠিক করি। মেলার প্রথম দিন বাদে প্রতিদিন তিন চার জন করে
লেখক সময় পান। সাহিত্যের প্রতিটি বিভাগ যেন উপস্থিত করা যায়, সে
চেষ্টা থাকে।’

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code