ভেনেজুয়েলা উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন, কারাকাসে উত্তেজনা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

ক্যারিবীয় সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও নৌবাহিনীর সদস্যদের অস্বাভাবিক সমাবেশ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটন বলছে, এ অভিযান মাদকচক্র মোকাবিলার জন্য। তবে কারাকাসের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এর পেছনে লুকিয়ে আছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির কৌশল।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সাতটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও একটি পারমাণবিক সাবমেরিন সেখানে অবস্থান করছে বা শিগগিরই পৌঁছাবে। এ বাহিনীর সঙ্গে আছেন ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি নৌ ও মেরিন সেনা।

Manual8 Ad Code

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘মাদকচক্র, অপরাধী চক্র ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে মোকাবিলা ও ভেঙে দেওয়া।’ কিন্তু বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপস্থিতি দিয়ে কীভাবে মাদকচক্রের কার্যক্রম বাস্তবে ব্যাহত হবে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, সমুদ্রপথে অধিকাংশ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে আসে প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে, আটলান্টিক দিয়ে নয়। ক্যারিবীয় রুটে আবার বেশির ভাগ চালান যায় বিমানে।

ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপের শঙ্কা

ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের দাবি, এ সমাবেশ আসলে তাঁদের সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি। চলতি মাসের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর গ্রেপ্তারের তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ করে ৫ কোটি ডলার করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, মাদুরো ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত।

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো বলেন, ‘আমরা মাদকচক্র নই, আমরা শ্রমনিষ্ঠ ও সৎ মানুষ। ভেনেজুয়েলাবাসী জানে, আমাদের বিরুদ্ধে এসব সামরিক হুমকির নেপথ্যে কে আছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী নিয়মিতভাবেই দক্ষিণ ক্যারিবীয় সাগরে টহল দিলেও এবারকার সমাবেশ স্বাভাবিক মোতায়েনকে ছাড়িয়ে গেছে। বহরে আছে ইউএসএস সান অ্যান্টোনিও, ইউএসএস ইও জিমা ও ইউএসএস ফোর্ট লডারডেলের মতো যুদ্ধজাহাজ। কিছু জাহাজে হেলিকপ্টার বহন করার ক্ষমতা আছে, আবার কিছু থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া সম্ভব।

মার্কিন সেনারা এ অঞ্চলে পি-৮ গোয়েন্দা উড়োজাহাজও ওড়াচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নজরদারি করছে।

তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেনেজুয়েলা বিশেষজ্ঞ ডেভিড স্মিলডে মনে করেন, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ মূলত মাদুরো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে। তাঁর ভাষায়, ‘এটি গানবোট কূটনীতি—পুরোনো দিনের কৌশল।’

বিশ্লেষকদের দ্বিধা

Manual6 Ad Code

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রমুখী কোকেনের ৭৪ শতাংশই যায় প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে। তবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমানের মাধ্যমে চোরাচালানও ব্যাপক, যেখানে ভেনেজুয়েলা বড় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সমাবেশ আসলে ‘একজন বৈধ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করা।’

তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, ‘মাদুরো বৈধ প্রেসিডেন্ট নন, তিনি একটি মাদকচক্রের প্রধান। আমাদের বাহিনী সেখানে আছে মাদকচালান ঠেকাতে।’

‘আক্রমণ নয়, কিন্তু চাপ’

Manual2 Ad Code

১৯৮৯ সালে পানামায় স্বৈরশাসক নোরিয়েগাকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল। তুলনায় এবারকার মোতায়েন অনেক ছোট। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি স্রেফ মাদকচক্রবিরোধী অভিযানও নয়।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ক্রিস্টোফার হার্নান্দেজ-রয় মন্তব্য করেছেন, ‘এটা শুধু মাদকবিরোধী অভিযানের জন্য অনেক বড় সমাবেশ। আবার আক্রমণের জন্য যথেষ্ট বড় নয়। কিন্তু এতটা গুরুত্বপূর্ণ যে, বোঝা যায় এর অন্য উদ্দেশ্য আছে।’

Manual6 Ad Code

ডেস্ক: এস

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code